ঢাকা ০১:২২ অপরাহ্ন, বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo স্থানীয় সরকার নির্বাচন: ভোটার এলাকা পরিবর্তন করা যাবে ৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত Logo ভারত, যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের কাছে জলবায়ু ক্ষতিপূরণ দাবি নেপালের Logo বাংলাদেশের এলএনজি জাহাজ হরমুজ পার হতে সমস্যা হবে না Logo স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন ভারতীয় হাইকমিশনার Logo এক থেকে দেড় সপ্তাহে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হবে: রিজভী Logo দাবানলের পর অগ্নিসংযোগকারীদের মৃত্যুদণ্ড চান আলজেরিয়ার প্রেসিডেন্ট Logo আসিফ মাহমুদসহ ৪ জনের দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধান শুরু Logo আবেগ প্রকাশে ছেলে-মেয়ে পার্থক্য নেই, কাঁদতে ইচ্ছা করলে ছেলেরাও কাঁদবে Logo বিরোধের জেরে রাতের আঁধারে বৃদ্ধকে কুপিয়ে হত্যা Logo চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির কমিটিকে ‘অথর্ব’ বললেন বিএনপি নেতা

পুতিনকে ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের বার্তা মোদির, কিভাবে দেখছে ক্রেমলিন

ইউক্রেনের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধ বন্ধ করে আলোচনার টেবিলে ফেরার জন্য রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে আবারও প্রকাশ্যে আহ্বান জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সোমবার (৩১ আগস্ট) এক বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘যুদ্ধে কাটানো প্রতিটি দিন মানবতাকে পিছিয়ে দেয়, আর শান্তির দিকে নেওয়া প্রতিটি পদক্ষেপ মানবতাকে নতুন আশায় ভরিয়ে তোলে।

উল্লেখ, ২০২২ সালে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই রাশিয়ার কাছ থেকে ছাড়কৃত মূল্যে প্রচুর জ্বালানি তেল আমদানি করছে ভারত। তবে এই অর্থনৈতিক নির্ভরতা থাকা সত্ত্বেও মোদি এর আগেও একাধিকবার পুতিনকে যুদ্ধ থামানোর অনুরোধ করেছেন। দিল্লিতে বিবিসির সংবাদদাতা বিকাশ পান্ডের মতে, মোদির এই অবস্থান ভারতের পররাষ্ট্রনীতিতে নতুন কোনো পরিবর্তন নয়। পশ্চিমা বিশ্ব শুরু থেকেই ভারতের ওপর চাপ দিয়ে আসছে যেন তারা সরাসরি রাশিয়ার আগ্রাসনের বিরোধিতা করে।

কিন্তু ভারত কোনো পক্ষ না নিয়ে সব সময় নিরপেক্ষ থেকেছে। বড় অর্থনীতির দেশ হওয়ায় পশ্চিমা বিশ্ব ভারতকে গুরুত্ব দিলেও দিল্লির মূল লক্ষ্য ছিল নিজেদের কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন বজায় রাখা।

ভারত একদিকে যেমন রাশিয়া ও চীনের সঙ্গে ব্রিকস ও সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার মতো জোটে রয়েছে, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র, জাপান ও অস্ট্রেলিয়াকে নিয়ে গঠিত ‘কোয়াড’ জোটের সক্রিয় সদস্য। এই ভারসাম্যের রাজনীতি বজায় রেখেই মস্কোর সঙ্গে সুসম্পর্ক টিকিয়ে রেখেছে দিল্লি।

এ ছাড়া ভারতের প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের প্রায় ৪০ শতাংশ এখনও আসে রাশিয়া থেকে। তাই মোদির এই মন্তব্যে দুই দেশের সম্পর্কে কোনো চিড় ধরার সম্ভাবনা নেই।

মোদির এই বার্তার জবাবে পুতিন সৌজন্যমূলক প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেছেন, ‘আপনাকে অনেক ধন্যবাদ, প্রধানমন্ত্রী। আমরা এই পথেই এগিয়ে যাচ্ছি।’ তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, পুতিনের এই জবাব ছিল যথেষ্ট অস্পষ্ট ও দায়বদ্ধতাহীন।

সাড়ে চার বছর ধরে চলতে থাকা এই যুদ্ধে ইউক্রেনের পাল্টা ড্রোন হামলায় রাশিয়ার ভেতরে জ্বালানি ঘাটতি তৈরি হলেও ক্রেমলিন তাদের হামলা আরো জোরদার করেছে।

রুশ সংবাদমাধ্যমগুলোর মতে, মস্কো এখনো বিশ্বাস করে যে সময় তাদের পক্ষেই রয়েছে এবং তারা সামরিক বিজয়ের মাধ্যমেই নিজেদের শর্তে শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে চায়। ফলে আন্তর্জাতিক মহলের এই আহ্বান সত্ত্বেও অদূর ভবিষ্যতে যুদ্ধবিরতির কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।

বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ

Tag :

স্থানীয় সরকার নির্বাচন: ভোটার এলাকা পরিবর্তন করা যাবে ৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত

পুতিনকে ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের বার্তা মোদির, কিভাবে দেখছে ক্রেমলিন

আপডেট সময় ১২:১৩:০৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ইউক্রেনের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধ বন্ধ করে আলোচনার টেবিলে ফেরার জন্য রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে আবারও প্রকাশ্যে আহ্বান জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সোমবার (৩১ আগস্ট) এক বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘যুদ্ধে কাটানো প্রতিটি দিন মানবতাকে পিছিয়ে দেয়, আর শান্তির দিকে নেওয়া প্রতিটি পদক্ষেপ মানবতাকে নতুন আশায় ভরিয়ে তোলে।

উল্লেখ, ২০২২ সালে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই রাশিয়ার কাছ থেকে ছাড়কৃত মূল্যে প্রচুর জ্বালানি তেল আমদানি করছে ভারত। তবে এই অর্থনৈতিক নির্ভরতা থাকা সত্ত্বেও মোদি এর আগেও একাধিকবার পুতিনকে যুদ্ধ থামানোর অনুরোধ করেছেন। দিল্লিতে বিবিসির সংবাদদাতা বিকাশ পান্ডের মতে, মোদির এই অবস্থান ভারতের পররাষ্ট্রনীতিতে নতুন কোনো পরিবর্তন নয়। পশ্চিমা বিশ্ব শুরু থেকেই ভারতের ওপর চাপ দিয়ে আসছে যেন তারা সরাসরি রাশিয়ার আগ্রাসনের বিরোধিতা করে।

কিন্তু ভারত কোনো পক্ষ না নিয়ে সব সময় নিরপেক্ষ থেকেছে। বড় অর্থনীতির দেশ হওয়ায় পশ্চিমা বিশ্ব ভারতকে গুরুত্ব দিলেও দিল্লির মূল লক্ষ্য ছিল নিজেদের কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন বজায় রাখা।

ভারত একদিকে যেমন রাশিয়া ও চীনের সঙ্গে ব্রিকস ও সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার মতো জোটে রয়েছে, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র, জাপান ও অস্ট্রেলিয়াকে নিয়ে গঠিত ‘কোয়াড’ জোটের সক্রিয় সদস্য। এই ভারসাম্যের রাজনীতি বজায় রেখেই মস্কোর সঙ্গে সুসম্পর্ক টিকিয়ে রেখেছে দিল্লি।

এ ছাড়া ভারতের প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের প্রায় ৪০ শতাংশ এখনও আসে রাশিয়া থেকে। তাই মোদির এই মন্তব্যে দুই দেশের সম্পর্কে কোনো চিড় ধরার সম্ভাবনা নেই।

মোদির এই বার্তার জবাবে পুতিন সৌজন্যমূলক প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেছেন, ‘আপনাকে অনেক ধন্যবাদ, প্রধানমন্ত্রী। আমরা এই পথেই এগিয়ে যাচ্ছি।’ তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, পুতিনের এই জবাব ছিল যথেষ্ট অস্পষ্ট ও দায়বদ্ধতাহীন।

সাড়ে চার বছর ধরে চলতে থাকা এই যুদ্ধে ইউক্রেনের পাল্টা ড্রোন হামলায় রাশিয়ার ভেতরে জ্বালানি ঘাটতি তৈরি হলেও ক্রেমলিন তাদের হামলা আরো জোরদার করেছে।

রুশ সংবাদমাধ্যমগুলোর মতে, মস্কো এখনো বিশ্বাস করে যে সময় তাদের পক্ষেই রয়েছে এবং তারা সামরিক বিজয়ের মাধ্যমেই নিজেদের শর্তে শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে চায়। ফলে আন্তর্জাতিক মহলের এই আহ্বান সত্ত্বেও অদূর ভবিষ্যতে যুদ্ধবিরতির কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।

বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ