লিওনেল মেসির আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানানোর সিদ্ধান্তে বিশ্বের কোটি ভক্ত যখন আবেগে ভাসছেন, তখন আরও গভীর এক শূন্যতা অনুভব করছেন তার মা সেলিয়া কুচিত্তিনি। সিদ্ধান্তটি আগে থেকেই জানা থাকলেও ছেলের বিদায়ের মুহূর্তে নিজেকে সামলাতে পারছেন না তিনি। বললেন, ‘আমি এখনও কাঁদছি।’
আর্জেন্টিনার আকাশি-সাদা জার্সিতে ২০৭ ম্যাচে ১২৫ গোল ও ৬৮ অ্যাসিস্টের বর্ণাঢ্য অধ্যায় শেষ করেছেন মেসি। তার বিদায়ের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলছে স্মৃতিচারণ। সতীর্থদের আবেগঘন বার্তার পাশাপাশি বিশ্বজুড়ে আর্জেন্টাইন সমর্থকেরাও প্রিয় তারকার কীর্তি ও স্মরণীয় মুহূর্তগুলো ফিরিয়ে আনছেন।
লিওনেল মেসির অবসর তার মা সেলিয়া কুচিত্তিনিকেও ভীষণভাবে নাড়া দিয়েছে। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে পরিবারের আরেকটি বড় শোক। স্বামী ও মেসির বাবা হোর্হে মেসিকে হারানোর মাত্র ২৩ দিনের ব্যবধানে ছেলের আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত, পরপর ঘটে যাওয়া এই দুই ঘটনা সেলিয়ার জন্য পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলেছে।
‘আমেরিকা টিভি’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সেলিয়া বলেন, ‘আমি এখনও কাঁদছি। যদিও আমরা আগে থেকেই জানতাম, তবুও পুরো পরিবার ভেঙে পড়েছে। তবে সবচেয়ে বড় কথা, ও শান্তিতে আছে, ও সুখী।’
এরপর স্বামীর কথাও স্মরণ করেন তিনি। সেলিয়া বলেন, ‘ওর বাবা সবসময় বলত, “ও যখন আর খেলবে না, তখন আমি কী করব?” আসলে সবকিছু একসাথেই ঘটে গেল, যা বিশ্বাস করা কঠিন।’
মেসির জীবনে পরিবার বরাবরই গুরুত্বপূর্ণ। ক্যারিয়ারের বড় কোনো সিদ্ধান্ত কিংবা ভবিষ্যতের পরিকল্পনা, সবকিছুতেই পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করেন তিনি। জাতীয় দল থেকে অবসরের সিদ্ধান্তও সেই পারিবারিক আলোচনার বাইরে ছিল না।
বিশ্বকাপ জয়ের পর পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বসেই আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে সরে দাঁড়ানোর বিষয়টি চূড়ান্ত করেছিলেন মেসি। অর্থাৎ, তার অবসরের ঘোষণা হঠাৎ করে নেয়া কোনো সিদ্ধান্ত ছিল না; বরং অনেক আগে থেকেই এর প্রস্তুতি ছিল।
আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক নিজের খোলা চিঠিতেও জানিয়েছেন, বিদায়ের কথাগুলো তিনি আগেই লিখে রেখেছিলেন।
তবে এই সিদ্ধান্তের পেছনে বাবার মৃত্যুর প্রভাবও ছিল। মেসির কাছে শুধু একজন অভিভাবক নন, তার বাবা হোর্হে ছিলেন ক্যারিয়ারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মানুষ। তাই বাবাকে হারানোর পর জীবনের পরবর্তী অধ্যায় নিয়ে নতুন করে ভাবতে শুরু করেছিলেন মেসি।
বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ






















