ঢাকা ১২:৪৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬, ১৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে কেন ফৌজদারি অভিযোগ দায়ের করছে উয়েফা Logo সার্জনের পাশে এআই, জটিল মস্তিষ্কের অস্ত্রোপচারে নতুন সাফল্য Logo সংকট কাটাতে আমাদের ধৈর্য ধারণ করতে হবে: চিফ হুইপ Logo চ্যাম্পিয়ন্স লিগের রোমাঞ্চকর ড্র: লিগ পর্বেই মুখোমুখি ইউরোপের মহারথীরা Logo গোপালগঞ্জে মাইক্রোবাস-মোটরসাইকেল-বাসের ত্রিমুখী সংঘর্ষ, আহত ৪০ Logo বাংলাদেশ-চীন কারিগরি শিক্ষা সহযোগিতা নতুন অধ্যায়ের সূচনা: মাহদী আমিন Logo আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ইন্টার্নশিপের ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ আরোপ ট্রাম্পের Logo তথ্য প্রতিমন্ত্রীর উদ্যোগে ৩৬ গৃহহীন পরিবার পেল আধুনিক ‘স্বপ্ন বাড়ি’ Logo মক্কা চুক্তিতে বাংলাদেশের যোগ দেওয়া প্রসঙ্গে ভারতের প্রতিক্রিয়া Logo সম্পূর্ণ বিনামূল্যে মালয়েশিয়া যাবে ১০ হাজার কর্মী

হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজারে প্লাবনের শঙ্কা, সতর্কসীমায় একাধিক নদী

মনু নদী ভারত ও বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তঃসীমান্ত নদী

নদীমাতৃক বাংলাদেশের বুক চিরে প্রবাহিত নদীগুলোতে বর্ষার ঢল আবার স্বকীয় রূপ ধারণ করতে শুরু করেছে। উত্তর-পূর্বাঞ্চল থেকে শুরু করে পূর্বাঞ্চলের জনপদে নদীর পানি কোথাও বাড়ছে, আবার কোথাও কিছুটা স্তিমিত হচ্ছে। তবে প্রকৃতির এই খামখেয়ালি আচরণের মাঝে দেশের প্রধান নদ-নদীগুলোর পানি আপাতত বিপৎসীমার নিচ দিয়েই প্রবাহিত হচ্ছে।

বৃষ্টিপাত ও লঘুচাপের পূর্বাভাস

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র ও বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড এর আজকের (শুক্রবার) তথ্য উপাত্ত বিশ্লেষণ করে জানা গেছে, দেশের অভ্যন্তরে সিলেট, ময়মনসিংহ ও রংপুর বিভাগে আগামী দুই দিন মাঝারি-ভারী থেকে ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে। তৃতীয় দিনে এই বৃষ্টির পরিধি বিস্তার লাভ করতে পারে চট্টগ্রাম বিভাগ ও এর আশপাশের উজান এলাকায়। ইতোমধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন স্থানসহ ভারতের মেঘালয় ও ত্রিপুরা রাজ্যে মাঝারি থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

খোয়াই, মনু ও ধলাই নদী

গত ২৪ ঘণ্টায় মনু নদীর পানি হ্রাস পেলেও ধলাই ও খোয়াই নদীর পানি আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে হবিগঞ্জের বালেশ্বর পয়েন্টে খোয়াই নদী সতর্কসীমায় প্রবাহিত হচ্ছে।

আগামী ২৪ ঘণ্টায় খোয়াই নদী স্থানভেদে বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। অন্যদিকে মনু ও ধলাই নদী সতর্কসীমার কাছাকাছি অবস্থান করতে পারে। এর ফলে হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজার জেলার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে সাময়িক প্লাবনের আশঙ্কা রয়েছে।

সুরমা-কুশিয়ারা

উত্তর-পূর্বাঞ্চলের এই নদীগুলোর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। কুশিয়ারা নদীর মারকুলি (সুনামগঞ্জ) ও ফেঞ্চুগঞ্জ (সিলেট) পয়েন্টে বর্তমানে পানি সতর্কসীমায় রয়েছে। আগামী তিন দিন এই অঞ্চলে পানি বৃদ্ধির ধারাবাহিকতা বজায় থাকতে পারে।

তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদী

তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি গত ২৪ ঘণ্টায় বেড়েছে। এর মধ্যে নীলফামারীর ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তা নদী সতর্কসীমায় প্রবাহিত হচ্ছে। আগামী এক দিন পানি সামান্য বেড়ে পরবর্তী দুই দিন স্থিতিশীল হতে পারে।

ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদীর পানি বর্তমানে স্থিতিশীল হলেও আগামী দুই দিন পর থেকে তা পুনরায় বৃদ্ধি পেতে পারে।

রাজধানী সংলগ্ন নদী

ঢাকার বুড়িগঙ্গা, বালু, ধলেশ্বরী, তুরাগ ও তুরাগ-টঙ্গীখালের পানি কিছুটা বাড়লেও তা বিপৎসীমার নিচেই অবস্থান করছে। আগামী তিন দিন ঢাকার নদীগুলোর পানি স্থিতিশীল থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

ময়মনসিংহ অঞ্চলের জিঞ্জিরাম, ভোগাই-কংস ও সোমেশ্বরীর পানি হ্রাস পেয়েছে। তবে আগামী দুই দিন পর এসব নদীতে আবার পানি বাড়তে পারে।

দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চল

খুলনা ও বরিশাল বিভাগের গড়াই ও মাথাভাঙ্গা নদীর পানি সামান্য বাড়লেও অন্যান্য উপকূলীয় নদ-নদীগুলোতে স্বাভাবিক জোয়ার-ভাটার গতিপ্রকৃতি অব্যাহত রয়েছে।

পূর্বাঞ্চলের গোমতী, মুহুরী ও ফেনী নদী এবং দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীর পানি হ্রাস পাচ্ছে।

সংকেত ও সতর্কতা

হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজার জেলার নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের অধিবাসীদের জন্য সতর্কতা অবলম্বন করতে বলা হয়েছে। যে কোনো জরুরি তথ্য ও বন্যা সংক্রান্ত খবরের জন্য ১০৯০ (প্রেস ৫) নম্বরে কল করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

বাংলা৭১নিউজ/এসএইচবি

Tag :

ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে কেন ফৌজদারি অভিযোগ দায়ের করছে উয়েফা

হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজারে প্লাবনের শঙ্কা, সতর্কসীমায় একাধিক নদী

আপডেট সময় ১১:১৫:৩৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬

নদীমাতৃক বাংলাদেশের বুক চিরে প্রবাহিত নদীগুলোতে বর্ষার ঢল আবার স্বকীয় রূপ ধারণ করতে শুরু করেছে। উত্তর-পূর্বাঞ্চল থেকে শুরু করে পূর্বাঞ্চলের জনপদে নদীর পানি কোথাও বাড়ছে, আবার কোথাও কিছুটা স্তিমিত হচ্ছে। তবে প্রকৃতির এই খামখেয়ালি আচরণের মাঝে দেশের প্রধান নদ-নদীগুলোর পানি আপাতত বিপৎসীমার নিচ দিয়েই প্রবাহিত হচ্ছে।

বৃষ্টিপাত ও লঘুচাপের পূর্বাভাস

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র ও বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড এর আজকের (শুক্রবার) তথ্য উপাত্ত বিশ্লেষণ করে জানা গেছে, দেশের অভ্যন্তরে সিলেট, ময়মনসিংহ ও রংপুর বিভাগে আগামী দুই দিন মাঝারি-ভারী থেকে ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে। তৃতীয় দিনে এই বৃষ্টির পরিধি বিস্তার লাভ করতে পারে চট্টগ্রাম বিভাগ ও এর আশপাশের উজান এলাকায়। ইতোমধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন স্থানসহ ভারতের মেঘালয় ও ত্রিপুরা রাজ্যে মাঝারি থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

খোয়াই, মনু ও ধলাই নদী

গত ২৪ ঘণ্টায় মনু নদীর পানি হ্রাস পেলেও ধলাই ও খোয়াই নদীর পানি আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে হবিগঞ্জের বালেশ্বর পয়েন্টে খোয়াই নদী সতর্কসীমায় প্রবাহিত হচ্ছে।

আগামী ২৪ ঘণ্টায় খোয়াই নদী স্থানভেদে বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। অন্যদিকে মনু ও ধলাই নদী সতর্কসীমার কাছাকাছি অবস্থান করতে পারে। এর ফলে হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজার জেলার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে সাময়িক প্লাবনের আশঙ্কা রয়েছে।

সুরমা-কুশিয়ারা

উত্তর-পূর্বাঞ্চলের এই নদীগুলোর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। কুশিয়ারা নদীর মারকুলি (সুনামগঞ্জ) ও ফেঞ্চুগঞ্জ (সিলেট) পয়েন্টে বর্তমানে পানি সতর্কসীমায় রয়েছে। আগামী তিন দিন এই অঞ্চলে পানি বৃদ্ধির ধারাবাহিকতা বজায় থাকতে পারে।

তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদী

তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি গত ২৪ ঘণ্টায় বেড়েছে। এর মধ্যে নীলফামারীর ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তা নদী সতর্কসীমায় প্রবাহিত হচ্ছে। আগামী এক দিন পানি সামান্য বেড়ে পরবর্তী দুই দিন স্থিতিশীল হতে পারে।

ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদীর পানি বর্তমানে স্থিতিশীল হলেও আগামী দুই দিন পর থেকে তা পুনরায় বৃদ্ধি পেতে পারে।

রাজধানী সংলগ্ন নদী

ঢাকার বুড়িগঙ্গা, বালু, ধলেশ্বরী, তুরাগ ও তুরাগ-টঙ্গীখালের পানি কিছুটা বাড়লেও তা বিপৎসীমার নিচেই অবস্থান করছে। আগামী তিন দিন ঢাকার নদীগুলোর পানি স্থিতিশীল থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

ময়মনসিংহ অঞ্চলের জিঞ্জিরাম, ভোগাই-কংস ও সোমেশ্বরীর পানি হ্রাস পেয়েছে। তবে আগামী দুই দিন পর এসব নদীতে আবার পানি বাড়তে পারে।

দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চল

খুলনা ও বরিশাল বিভাগের গড়াই ও মাথাভাঙ্গা নদীর পানি সামান্য বাড়লেও অন্যান্য উপকূলীয় নদ-নদীগুলোতে স্বাভাবিক জোয়ার-ভাটার গতিপ্রকৃতি অব্যাহত রয়েছে।

পূর্বাঞ্চলের গোমতী, মুহুরী ও ফেনী নদী এবং দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীর পানি হ্রাস পাচ্ছে।

সংকেত ও সতর্কতা

হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজার জেলার নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের অধিবাসীদের জন্য সতর্কতা অবলম্বন করতে বলা হয়েছে। যে কোনো জরুরি তথ্য ও বন্যা সংক্রান্ত খবরের জন্য ১০৯০ (প্রেস ৫) নম্বরে কল করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

বাংলা৭১নিউজ/এসএইচবি