শরীয়তপুরের জাজিরায় পদ্মা নদীর তীব্র স্রোতে নতুন করে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। ইতিমধ্যে নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে সাতটি দোকানঘর। ভাঙন আতঙ্কে অর্ধশতাধিক মানুষ ঘরবাড়ি সরিয়ে নিয়েছেন। বর্তমানে কাথুরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ অন্তত ৫০০ পরিবার ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে। নদীতীরের প্রায় তিন কিলোমিটার এলাকাকে ভাঙনপ্রবণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)।
ভাঙন ঠেকাতে জরুরি ভিত্তিতে বালুভর্তি জিওব্যাগ ফেলা হলেও পদ্মার তীব্র স্রোতের কাছে সেগুলো টিকছে না। এদিকে নদীতীর রক্ষা প্রকল্পের কাজ ধীরগতিতে চলায় ক্ষয়ক্ষতি বাড়ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
শনিবার (২২ আগস্ট) সরেজমিনে দেখা যায়, বর্ষার পানিতে উত্তাল পদ্মা। তীব্র স্রোত আছড়ে পড়ছে নদীর ডান তীরে। পালেরচর ইউনিয়নের কাথুরিয়া, মোহন ফকিরের কান্দি ও মধু ব্যাপারীকান্দি এলাকায় একের পর এক নদীতে বিলীন হচ্ছে তীরের অংশ। ঘরবাড়ি ও মালামাল নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন স্থানীয়রা।
পালেরচর থেকে মাঝিরঘাট পর্যন্ত ইটের সড়কের বড় একটি অংশ নদীগর্ভে চলে যাওয়ায় যোগাযোগও ব্যাহত হচ্ছে। নদীতীরের বৈদ্যুতিক খুঁটি ও সংযোগ সরিয়ে নিতে কাজ করছেন পল্লী বিদ্যুতের কর্মীরা।
ভাঙনে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্তদের একজন ৮২ বছর বয়সী মালেক ঘরামী। তার ২৮ শতাংশ জমির মধ্যে ২৪ শতাংশই ইতিমধ্যে পদ্মায় বিলীন হয়েছে। এখন শেষ সম্বল বসতঘরটিও সরিয়ে নিতে হচ্ছে তাকে।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে মালেক ঘরামী বলেন, ‘কোথায় যাব, তার কোনো ঠিকানা নেই। এখানে আর থাকা সম্ভব নয়। তাই ঘর খুলে অন্যত্র যাওয়ার চেষ্টা করছি।’
একই অবস্থা মধু ব্যাপারীকান্দির সোলেম শরীফের। সন্তানদের নিয়ে গড়ে তোলা নিজের ঘরটি চোখের সামনে ভেঙে ফেলতে হচ্ছে তাকে।
পাউবো সূত্রে জানা গেছে, জাজিরায় পদ্মার ডান তীর রক্ষায় ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা ব্যয়ে ১০ দশমিক ৬৭ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি প্রকল্প চলমান রয়েছে। ৩৯টি প্যাকেজে পরিচালিত প্রকল্পটির কাজ এখন পর্যন্ত প্রায় ৫৩ শতাংশ শেষ হয়েছে।
তবে বর্ষা মৌসুমে পদ্মার স্রোতের প্রধান প্রবাহ জাজিরা অংশে আঘাত হানায় নতুন করে প্রায় তিন কিলোমিটার এলাকা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।
পাউবোর উপবিভাগীয় প্রকৌশলী এম এ শামীম বলেন, পদ্মার তীব্র স্রোতের কারণেই এ ভাঙন দেখা দিয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে জিওব্যাগ ফেলা হচ্ছে। প্রকল্পের কাজ শেষ হলে ভাঙনের ঝুঁকি অনেকটাই কমে আসবে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নদীতীর রক্ষা প্রকল্পের কাজ সময়মতো শেষ না হওয়ায় ভাঙনের তীব্রতা বাড়ছে। পালেরচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল হোসেন ফরাজী বলেন, সময়মতো কাজ শেষ না হওয়ায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বেড়েছে।
এদিকে ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন শরীয়তপুরের জেলা প্রশাসক তাহসিনা বেগম। তিনি জানান, ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা করা হচ্ছে। তাঁদের খাদ্যসামগ্রী, ঢেউটিন ও পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
প্রকল্পের কাজ ধীরগতিতে চলার অভিযোগের বিষয়ে পাউবোর কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে বলেও জানান জেলা প্রশাসক।
স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত নদীতীর রক্ষা প্রকল্পের কাজ শেষ করা না হলে সামনে আরও বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। ভাঙন ঠেকাতে জরুরি পদক্ষেপের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনেরও দাবি জানিয়েছেন তারা।
বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ



























