ঢাকা ০৫:১৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬, ৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo হামের উপসর্গে আরও ৩ শিশুর প্রাণহানি, মোট মৃত্যু ৯৩৩ Logo গণ-শুনানিতে মার্চেন্ট বিদ্যুৎকেন্দ্রে বিনিয়োগ বাড়াতে প্রথম ৫ বছর কম ট্যারিফের প্রস্তাব Logo হুমকির খবরে কূটনৈতিক এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার Logo গুদামের দরজা ভেঙে ‘১৯৭ বস্তা’ সার নিয়ে গেল কৃষক Logo আম পাড়াকে কেন্দ্র করে বৃদ্ধকে পিটিয়ে হত্যা, যুবকের যাবজ্জীবন Logo ধর্ষণ মামলার রায় শুনে আদালত চত্বরে জ্ঞান হারালেন ইউপি সদস্য Logo রাষ্ট্র মেরামতের রূপরেখা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী : ধর্ম প্রতিমন্ত্রী Logo বঙ্গভবনে সপরিবারে নতুন রাষ্ট্রপতি Logo ফরিদপুরে মাদ্রাসাছাত্রীকে গণধর্ষণ, দুই যুবকের যাবজ্জীবন Logo কুমিল্লায় ইয়াবাসহ বাংলাদেশে ঢুকে ভারতীয় নাগরিক গ্রেপ্তার

ট্রাম্পের অর্থনৈতিক অবরোধে যোগ দিলে প্রতিবেশীদের ‘শত্রু’ ভাববে ইরান, ইউরোপে হামলার ভাবনা

যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন ইরানবিরোধী অর্থনৈতিক অবরোধে অংশ নিলে প্রতিবেশী দেশগুলোকে শত্রু হিসেবে গণ্য করবে তেহরান। ইরানের অর্থনীতি দুর্বল করার যেকোনো পদক্ষেপে আঞ্চলিক কোনো দেশ শামিল হলে তাদের স্বার্থে আঘাত হানার কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে দেশটির সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল।

কাউন্সিলের সেক্রেটারি মোহসেন রেজাই শনিবার (২২ আগস্ট) রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, আমরা সব প্রতিবেশী দেশকে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক যুদ্ধে যোগ না দেওয়ার জন্য বলছি। অন্যথায়, আমরা তাদের শত্রু হিসেবে বিবেচনা করব।

রেজাই ইরানের আঞ্চলিক কৌশলকে তিন পর্যায়ের প্রক্রিয়া হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, প্রথমত আমরা আলোচনা করব। তারপর সুন্দর ভাষায় তাদের যুক্তরাষ্ট্র থেকে দূরে রাখার চেষ্টা করব। কারণ আমরা আসলে যুদ্ধ ছড়াতে চাই না। এরপরও যেসব দেশ যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ নেওয়া বজায় রাখবে, তাদের পুনর্বিবেচনার জন্য কিছুটা সময় দেব। তবে তৃতীয় পর্যায়ে আমরা অবশ্যই ব্যবস্থা নেব।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইরানবিরোধী অর্থনৈতিক হুমকি ক্রমাগত বাড়তে থাকার মুখে এ মন্তব্য করেন রেজাই। গত বুধবার ট্রাম্প ঘোষণা করেন, তার সরকার ইরানের বিরুদ্ধে এযাবৎকালের ‘সবচেয়ে বিধ্বংসী অর্থনৈতিক অভিযান’ শুরু করতে যাচ্ছে। একই সঙ্গে ইরানকে যেকোনো ধরনের লাইফলাইন বা সহায়তা দেওয়া দেশগুলোকে ‘ভয়াবহ অর্থনৈতিক পরিণতি’র শিকার হওয়ার হুমকি দেন তিনি।

এর পরের দিন মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টও একই সুরে বলেন, আপনারা হয় আমাদের সঙ্গে আছেন, না হয় আমাদের বিরুদ্ধে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে লিপ্ত রয়েছে। ওই দিন দুই মিত্রদেশ যৌথভাবে তেহরানের বিরুদ্ধে প্রথম দফায় হামলা চালায়। রেজাই মনে করেন, ট্রাম্প প্রশাসন প্রকৃতপক্ষে ইরানের সমাজব্যবস্থাকে অর্থনৈতিক চাপের মুখে ভেঙে ফেলার বাজি ধরেছে। এর উদ্দেশ্য বিক্ষোভের মাধ্যমে যুদ্ধাবস্থার অবসান ঘটানো। তিনি বলেন, তারা আশা করছে যে অর্থনৈতিক চাপ দিয়ে আমাদের ঐক্য ভেঙে দেওয়া সম্ভব হলে একদল বিক্ষোভকারী রাস্তায় নামবে। এতে তারা প্রকারান্তরে যুক্তরাষ্ট্রের এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানের কাজটাই সহজ করে দেবে।

গত ১৭ জুনের একটি সমঝোতা স্মারক ব্যর্থ হওয়ার পর যুদ্ধ বন্ধের আলোচনা স্থবির হয়ে পড়েছে। ওই সমঝোতায় ‘অবিলম্বে এবং স্থায়ীভাবে সামরিক অভিযান বন্ধের’ আহ্বান জানানো হয়েছিল।

হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী বিরোধ রয়েছে। যুদ্ধের শুরুর দিকে ইরান এ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দিলে বিশ্ববাজারে তেল ও সারের দাম আকাশচুম্বী হয়ে ওঠে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যের যেসব দেশ এ প্রণালির ওপর নির্ভরশীল ছিল, তারা বিকল্প বাণিজ্যপথ খুঁজতে শুরু করে।

তেহরান এখন মধ্যপ্রাচ্যের বাইরেও তাদের লক্ষ্যবস্তুর তালিকা বাড়ানোর কথা ভাবছে বলে গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। ট্রাম্পের অভিযানকে সমর্থন দেওয়া ইউরোপের মার্কিন মিত্রদের ওপরও আঘাত হানতে পারে ইরান। রেজাই সতর্ক করে দিয়েছেন, আঞ্চলিক দেশগুলো যদি যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক যুদ্ধের পরিকল্পনায় অংশ নেয়, তবে পারস্য উপসাগরের বাইরের বিকল্প তেল পরিবহন পথগুলোও লক্ষ্যবস্তু করবে তেহরান।

এদিকে মার্কিন এ নতুন পদক্ষেপের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। জাতিসংঘভুক্ত সদস্যদেশগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের এ নীতিকে ‘বাহ্যিক সার্বভৌমত্ব’ চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা বলে মন্তব্য করেছে তারা।

বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ

Tag :

হামের উপসর্গে আরও ৩ শিশুর প্রাণহানি, মোট মৃত্যু ৯৩৩

ট্রাম্পের অর্থনৈতিক অবরোধে যোগ দিলে প্রতিবেশীদের ‘শত্রু’ ভাববে ইরান, ইউরোপে হামলার ভাবনা

আপডেট সময় ০৪:১৬:৫১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন ইরানবিরোধী অর্থনৈতিক অবরোধে অংশ নিলে প্রতিবেশী দেশগুলোকে শত্রু হিসেবে গণ্য করবে তেহরান। ইরানের অর্থনীতি দুর্বল করার যেকোনো পদক্ষেপে আঞ্চলিক কোনো দেশ শামিল হলে তাদের স্বার্থে আঘাত হানার কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে দেশটির সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল।

কাউন্সিলের সেক্রেটারি মোহসেন রেজাই শনিবার (২২ আগস্ট) রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, আমরা সব প্রতিবেশী দেশকে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক যুদ্ধে যোগ না দেওয়ার জন্য বলছি। অন্যথায়, আমরা তাদের শত্রু হিসেবে বিবেচনা করব।

রেজাই ইরানের আঞ্চলিক কৌশলকে তিন পর্যায়ের প্রক্রিয়া হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, প্রথমত আমরা আলোচনা করব। তারপর সুন্দর ভাষায় তাদের যুক্তরাষ্ট্র থেকে দূরে রাখার চেষ্টা করব। কারণ আমরা আসলে যুদ্ধ ছড়াতে চাই না। এরপরও যেসব দেশ যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ নেওয়া বজায় রাখবে, তাদের পুনর্বিবেচনার জন্য কিছুটা সময় দেব। তবে তৃতীয় পর্যায়ে আমরা অবশ্যই ব্যবস্থা নেব।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইরানবিরোধী অর্থনৈতিক হুমকি ক্রমাগত বাড়তে থাকার মুখে এ মন্তব্য করেন রেজাই। গত বুধবার ট্রাম্প ঘোষণা করেন, তার সরকার ইরানের বিরুদ্ধে এযাবৎকালের ‘সবচেয়ে বিধ্বংসী অর্থনৈতিক অভিযান’ শুরু করতে যাচ্ছে। একই সঙ্গে ইরানকে যেকোনো ধরনের লাইফলাইন বা সহায়তা দেওয়া দেশগুলোকে ‘ভয়াবহ অর্থনৈতিক পরিণতি’র শিকার হওয়ার হুমকি দেন তিনি।

এর পরের দিন মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টও একই সুরে বলেন, আপনারা হয় আমাদের সঙ্গে আছেন, না হয় আমাদের বিরুদ্ধে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে লিপ্ত রয়েছে। ওই দিন দুই মিত্রদেশ যৌথভাবে তেহরানের বিরুদ্ধে প্রথম দফায় হামলা চালায়। রেজাই মনে করেন, ট্রাম্প প্রশাসন প্রকৃতপক্ষে ইরানের সমাজব্যবস্থাকে অর্থনৈতিক চাপের মুখে ভেঙে ফেলার বাজি ধরেছে। এর উদ্দেশ্য বিক্ষোভের মাধ্যমে যুদ্ধাবস্থার অবসান ঘটানো। তিনি বলেন, তারা আশা করছে যে অর্থনৈতিক চাপ দিয়ে আমাদের ঐক্য ভেঙে দেওয়া সম্ভব হলে একদল বিক্ষোভকারী রাস্তায় নামবে। এতে তারা প্রকারান্তরে যুক্তরাষ্ট্রের এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানের কাজটাই সহজ করে দেবে।

গত ১৭ জুনের একটি সমঝোতা স্মারক ব্যর্থ হওয়ার পর যুদ্ধ বন্ধের আলোচনা স্থবির হয়ে পড়েছে। ওই সমঝোতায় ‘অবিলম্বে এবং স্থায়ীভাবে সামরিক অভিযান বন্ধের’ আহ্বান জানানো হয়েছিল।

হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী বিরোধ রয়েছে। যুদ্ধের শুরুর দিকে ইরান এ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দিলে বিশ্ববাজারে তেল ও সারের দাম আকাশচুম্বী হয়ে ওঠে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যের যেসব দেশ এ প্রণালির ওপর নির্ভরশীল ছিল, তারা বিকল্প বাণিজ্যপথ খুঁজতে শুরু করে।

তেহরান এখন মধ্যপ্রাচ্যের বাইরেও তাদের লক্ষ্যবস্তুর তালিকা বাড়ানোর কথা ভাবছে বলে গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। ট্রাম্পের অভিযানকে সমর্থন দেওয়া ইউরোপের মার্কিন মিত্রদের ওপরও আঘাত হানতে পারে ইরান। রেজাই সতর্ক করে দিয়েছেন, আঞ্চলিক দেশগুলো যদি যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক যুদ্ধের পরিকল্পনায় অংশ নেয়, তবে পারস্য উপসাগরের বাইরের বিকল্প তেল পরিবহন পথগুলোও লক্ষ্যবস্তু করবে তেহরান।

এদিকে মার্কিন এ নতুন পদক্ষেপের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। জাতিসংঘভুক্ত সদস্যদেশগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের এ নীতিকে ‘বাহ্যিক সার্বভৌমত্ব’ চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা বলে মন্তব্য করেছে তারা।

বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ