সাধারণত আমরা যখন কোনো প্রাণীর কথা ভাবি, তখন স্বাভাবিকভাবেই এমন একটি অবয়বের কথা কল্পনায় আসে―যার একটি মাথা আছে, মাথায় চোখ, মুখ ও মস্তিষ্ক রয়েছে। কিন্তু জানেন কি, কিছু প্রাণীর স্পষ্ট মাথা নেই। শুনতে অবাক লাগলেও প্রকৃত অর্থেই নেই। অর্থাৎ, কিছু প্রাণীর বিবর্তনের পথ বেশ ভিন্ন।
সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এমন কিছু প্রাণী রয়েছে, যাদের একটি নির্দিষ্ট মাথা নেই বা তাদের শরীরের গঠন এতটাই অস্পষ্ট যে, মাথা শনাক্ত করা কঠিন। তবে কোনো কোনো প্রাণীর আলোক-সংবেদনশীল অঙ্গ বা পূর্ণাঙ্গ চোখ থাকে, যার মাধ্যমে তারা দিক নির্ণয় করতে পারে, শিকারি শনাক্ত করতে কিংবা খাবার খুঁজে পায়। তাহলে এমন পাঁচটি প্রাণী সম্পর্কে জেনে নেয়া যাক।
স্টারফিশ:
নামের সঙ্গে এই মাছের মিল না থাকলেও সত্যিকার অর্থেই স্টারফিশের কোনো মাথা বা মস্তিষ্ক নেই। বরং তাদের শরীর রেডিয়াল প্রতিসাম্যে সজ্জিত, অর্থাৎ শরীর একটি কেন্দ্রীয় চাকতির চারপাশে বিন্যস্ত থাকে। প্রতিটি বাহুর শেষে একটি ক্ষুদ্র অক্ষিবিন্দু থাকে, যা আলো, ছায়া এবং বড় বড় বস্তু শনাক্ত করতে পারে। যদিও এই ছোটাকৃতির চোখগুলো বিবরণসহ কোনো প্রতিবিম্ব তৈরি করতে পারে না, এরপরও স্টারফিশকে তাদের দিক নির্ণয় করতে এবং পথ হারালে ফিরে আসার ক্ষেত্রে সহায়তা করতে পারে।
সি আর্চিন:
এরও কোনো স্পষ্ট মাথা নেই। তবে বিজ্ঞানীরা আবিষ্কার করেছেন, তারা প্রচলিত চোখ ছাড়াই দেখতে পারে। তাদের শরীরে অসংখ্য আলোক-সংবেদনশীল কোষ রয়েছে এবং তাদের দীর্ঘ কাঁটা বিভিন্ন দিক থেকে আসা আলো আটকাতে সহায়তা করে। যা মূলত তাদের পুরো শরীরকে সাধারণ দর্শনতন্ত্রে পরিণত করে। এছাড়া এটি তাদের কাছে আসা শিকারিকে শনাক্ত করতে এবং চারপাশের পরিবেশে চলাচলে সহায়তা করে।
স্ক্যালপ:
প্রাণীজগতের মধ্যে স্ক্যালপের দৃষ্টি ব্যবস্থা খুবই ব্যতিক্রম। মাথার পরিবর্তে তাদের ম্যান্টলের কিনারায় প্রায় ২০০টি পর্যন্ত ক্ষুদ্র, উজ্জ্বল নীল চোখ থাকে। প্রতিটি চোখে আণুবীক্ষণিক স্ফটিক দিয়ে তৈরি একটি আয়না থাকে, যা রেটিনায় আলো প্রতিফলিত করে। প্রকৃতিতে এমন দৃশ্য খুব কমই দেখা যায়। চোখগুলো স্ক্যালপকে চলাচল শনাক্ত করতে এবং দ্রুত খোলস একসঙ্গে চাপড় মেরে সাঁতার কেটে পালিয়ে গিয়ে শিকারি থেকে রক্ষায় সহায়তা করে।
মুন জেলিফিশ:
এই জেলিফিশের কোনো মস্তিষ্ক বা নির্দিষ্ট মাথা নেই। এরপরও অনেক প্রজাতির মধ্যে রূপলিয়া নামক সহজ সংবেদনশীল অঙ্গ থাকে। এগুলোতে আদিম চোখ রয়েছে, যা আলোর তীব্রতা ও দিকের পরিবর্তন শনাক্ত করে। যদিও এরা পরিপূর্ণ প্রতিবিম্ব দেখতে পায় না, এই আলোক-সংবেদনশীল অঙ্গগুলো জেলিফিশকে নিজেদের দিক থেকে ঠিক রাখার জন্য এবং পরিবেশগত পরিবর্তনে প্রতিক্রিয়া জানাতে ভূমিকা রাখে।
ব্রিটল স্টার:
ব্রিটল স্টারেরও নির্দিষ্ট মাথা নেই। বাহুর প্রান্তে অবস্থিত চোখের ওপর নির্ভর করে না। তাদের কঙ্কাল জুড়ে বিভিন্ন প্রজাতির আলোক-সংবেদনশীল কোষ রয়েছে। যা তাদের শরীরের অধিকাংশ জুড়ে আলো এবং ছায়া অনুভব করতে সক্ষম করে, বিপদ এলে তাৎক্ষণিক ফাটলে আশ্রয় নিতে সহায়তা করে।
সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস
বাংলা৭১নিউজ/জেএস




























