নামাজে দাঁড়ানোর পর অজান্তে শরীরের বিভিন্ন অংশে হাত দেওয়া, পোশাক ঠিক করা কিংবা পা নাড়াচাড়া করার ঘটনা অনেকেরই ঘটে। প্রয়োজন ছাড়া এভাবে নড়াচড়া করা নামাজের একাগ্রতা নষ্ট করে। তবে নামাজে শরীরের কোনো অংশ সামান্য নড়লেই নামাজ ভেঙে যায়, এমন ধারণা সঠিক নয়।
নামাজে অযথা নড়াচড়া
বিনা প্রয়োজনে নামাজে শরীরের কোনো অঙ্গ নাড়াচাড়া করা মাকরুহ। তাই নামাজের সময় অপ্রয়োজনীয়ভাবে শরীর স্পর্শ করা, পোশাক নিয়ে ব্যস্ত থাকা কিংবা বারবার পা নাড়ানো থেকে বিরত থাকা উচিত।
রাসুলুল্লাহ (স.) নামাজে স্থির থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। হজরত জাবির ইবন সামুরা (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (স.) আমাদের কাছে এসে বললেন, ‘আমি তোমাদের হাত উঠাতে দেখছি, যেন তা অবাধ্য ঘোড়ার লেজের মতো নড়ছে। তোমরা নামাজে স্থির থাকো।’ (সহিহ মুসলিম: ৮৫৪)
ডান পায়ের বৃদ্ধাঙ্গুলি নড়ালে কি নামাজ ভেঙে যায়?
অনেকে মনে করেন, নামাজে ডান পায়ের বৃদ্ধাঙ্গুলি একদম স্থির রাখতে হবে। সামান্য নড়লেও নামাজ ভেঙে যাবে। এ ধারণা সঠিক নয়।
নামাজে ডান পায়ের বৃদ্ধাঙ্গুলির আলাদা কোনো বিশেষ বিধান নেই। প্রয়োজন ছাড়া শরীরের যেকোনো অঙ্গ নাড়াচাড়া করা মাকরুহ হলেও সামান্য নড়াচড়ায় নামাজ ভেঙে যায় না।
কখন নড়াচড়া নামাজের জন্য সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়?
নামাজে প্রয়োজন ছাড়া বেশি নড়াচড়া করা ঠিক নয়। এমন অতিরিক্ত নড়াচড়া, যা দেখে দূর থেকে মনে হয় ওই ব্যক্তি নামাজে নেই, ফিকহের পরিভাষায় ‘আমলে কাসীর’ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। এ ধরনের নড়াচড়া নামাজ নষ্ট করে দিতে পারে।
তাই নামাজে শরীর যতটা সম্ভব স্থির রাখা উচিত।
সেজদায় পায়ের দিকে খেয়াল রাখা জরুরি
তবে সেজদার সময় পায়ের অবস্থানের দিকে খেয়াল রাখা দরকার। পূর্ণ একটি সেজদার সময় যদি উভয় পা একসঙ্গে মাটি থেকে উঠে থাকে, তাহলে নামাজ সহিহ হওয়ার ক্ষেত্রে সমস্যা হতে পারে। তাই সেজদায় অন্তত পায়ের আঙুল যেন মাটিতে থাকে, সেদিকে খেয়াল রাখা উচিত।
প্রয়োজন হলে শরীর স্পর্শ করা যাবে?
হ্যাঁ। শরীরে চুলকানি হলে চুলকানো, পোশাক ঠিক করার প্রয়োজন হলে তা ঠিক করা কিংবা অন্যকোনো বাস্তব প্রয়োজন দেখা দিলে প্রয়োজন অনুযায়ী নড়াচড়া করা যায়।
অসুস্থতা বা পায়ে ব্যথার কারণে কেউ নামাজের নির্দিষ্ট ভঙ্গিতে বসতে না পারলেও নিজের সুবিধামতো বসতে পারবেন। এতে নামাজের কোনো ক্ষতি হবে না।
সুতরাং, নামাজে ডান পায়ের বৃদ্ধাঙ্গুলি বা শরীরের কোনো অংশ সামান্য নড়লেই নামাজ ভেঙে যায়, এমন ধারণা ঠিক নয়। তবে বিনা প্রয়োজনে শরীর নাড়াচাড়া করা মাকরুহ। নামাজে অপ্রয়োজনীয় নড়াচড়া এড়িয়ে স্থিরতা ও একাগ্রতা বজায় রাখাই উত্তম।
বাংলা৭১নিউজ/জেএস



























