ঢাকা ০৪:৫৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬, ৩০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo সোনারগাঁয়ে ১৭০০ পিস ইয়াবাসহ আটক ১ Logo গজারিয়ায় ঝুঁকিপূর্ণ এলপিজি সিলিন্ডার দিয়ে চলছে সিএনজি অটোরিকশা Logo মধ্যপ্রাচ্যে আকাশ ও সমুদ্রে ড্রোন হামলা চালাতে নতুন টাস্কফোর্স যুক্তরাষ্ট্রের Logo পশ্চিম তীরে এক কাতারে ফিলিস্তিনি ও ইসরায়েলি বিক্ষোভকারীরা Logo পায়ে স্কচটেপ দিয়ে পেঁচানো ছিল ৩ হাজার ৯৩৫ ইয়াবা, আটক ২ Logo দেশে হামের উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ১১৫৯ Logo ২৪ ঘণ্টায় দেশের সব বিভাগে বজ্রসহ বৃষ্টির আভাস Logo আগামী সপ্তাহে ভারত সফরে যেতে পারেন প্রধানমন্ত্রী, মোদির সঙ্গে বৈঠকের সম্ভাবনা Logo চট্টগ্রামে বিষাক্ত গ্যাস লিকেজে মৃত্যু বেড়ে ৮ Logo অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ইতিহাস গড়া সেঞ্চুরি করে তানজিদ বললেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ’

সূর্য মরে গেলেও পৃথিবীতে টিকে থাকার কৌশল জানালেন বিজ্ঞানী গ্যাব্রিয়েল হ্যারি

আজ থেকে ১০০ কোটি বছর পর সূর্যের অভ্যন্তরে মূল জ্বালানি শেষ হতে শুরু করলে এটি আকারে প্রসারিত হয়ে এক ভয়াল লোহিত দানবে পরিণত হবে। এর ফলে পৃথিবীর সমস্ত মহাসাগর ও বায়ুমণ্ডল শুষ্ক হয়ে বিলীন হয়ে যাবে এবং এক পর্যায়ে সূর্য পৃথিবীকেই গিলে ফেলতে পারে।

পরবর্তী ধাপে সূর্য সংকুচিত হয়ে একটি ম্লান শ্বেত বামনে পরিণত হবে। এর ফলে মহাবিশ্বের তাপ ও আলো বহুলাংশে কমে যাবে। আর প্রায় ১০০ ট্রিলিয়ন বা ১০০ লাখ কোটি বছর পর পুরো গ্যালাক্সিতেই নতুন নক্ষত্র তৈরির সক্ষমতা ফুরিয়ে সবকিছু চিরতরে অন্ধকারে ডুবে যাবে।

তবে জার্নাল অব ব্রিটিশ ইন্টারপ্ল্যানেটারি সোসাইটি-তে প্রকাশের জন্য গৃহীত গবেষক গ্যাব্রিয়েল হ্যারির এক সাম্প্রতিক নিবন্ধ অনুযায়ী, মানবজাতি বা পৃথিবীর প্রাণকে বাঁচানোর জন্য মহাজাগতিক দূরত্ব অতিক্রম করে অন্য নক্ষত্রজগতে পালিয়ে যাওয়ার প্রয়োজন নেই। কিছু অভূতপূর্ব সুরক্ষা ব্যবস্থা ও উন্নত প্রযুক্তির মাধ্যমে আমাদের প্রিয় পৃথিবীকে নিজের সৌরজগতেই সুরক্ষিত রাখা সম্ভব।

তার মতে, উত্তপ্ত সূর্যের তীব্র তাপ থেকে পৃথিবীকে রক্ষা করতে সূর্য ও পৃথিবীর মধ্যবর্তী ল্যাগ্রাঞ্জ পয়েন্ট ১-এ একটি বিশাল সৌর-আবরণ বা ‘সানশেড’ স্থাপন করা যেতে পারে। ল্যাগ্রাঞ্জ পয়েন্টে বামন গ্রহ ‘সেরেস’ থেকে তাত্ত্বিকভাবে ২০ লাখ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি কার্বন সংযোগ-তার ঝুলিয়ে তার সাথে অ্যালুমিনিয়ামের তৈরি বিশাল সানশেড যুক্ত করা সম্ভব। চাঁদের মাত্র ০.০১ শতাংশ উপাদান ব্যবহার করেই প্রায় ৩ লাখ ৫০ হাজার কিলোমিটার ব্যাসার্ধের এই অ্যালুমিনিয়াম ছাতা তৈরি করা সম্ভব, যা পৃথিবীর ওপর আকাশের প্রায় ৭০ ডিগ্রি এলাকা ঢেকে দিয়ে অতিরিক্ত সৌর তাপ আটকে দেবে।

সূর্যের আলো সম্পূর্ণ আটকে দেওয়ার পর পৃথিবীতে বিকল্প আলো ও তাপ সরবরাহের প্রয়োজন হবে। এর জন্য সৌরজগতের গ্যাস ডোমিনেটেড বিশাল গ্রহগুলোকে, যেমন বৃহস্পতিকে শক্তির উৎস হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে। বৃহস্পতির বায়ুমণ্ডলের ৬,৫০০ কিলোমিটার গভীরে ভাসমান ফিউশন রিঅ্যাক্টর স্থাপন করা যেতে পারে, যা হিলিয়াম-৪ ও হাইড্রোজেন জ্বালানি ব্যবহার করে বিপুল শক্তি উৎপন্ন করবে।

উৎপাদিত শক্তি বৃহস্পতির ল্যাগ্রাঞ্জ পয়েন্ট ১-এ বিম করে পাঠানো হবে এবং সেখান থেকে শক্তিশালী লেজার ডিভাইসের মাধ্যমে পৃথিবীতে ছড়িয়ে দেওয়া হবে। এই মওজুদকৃত ফিউশন জ্বালানি দিয়ে পৃথিবীতে টানা ৯.১ কোয়াড্রিলিয়ন বা ১০ লাখ কোটি বছর সূর্যালোকের সমপরিমাণ আলো ও তাপ সরবরাহ করা সম্ভব।

উত্তপ্ত সূর্য থেকে পৃথিবীকে দূরে সরাতে এর কক্ষপথের শক্তি বৃদ্ধি করতে হবে। গ্রহাণুর পরিবর্তে নিরাপদ বিকল্প হিসেবে অক্সিজেন পার্টিকল বিম ব্যবহার করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতি থেকে সংগৃহীত অক্সিজেনের পরমাণু দিয়ে আমাজন নদীর বহমান পানির ভরের অর্ধেকের সমান একটি বিম তৈরি করে পৃথিবীর পাশ দিয়ে অবিরাম ছুড়ে দেওয়া হবে। এটি মহাকর্ষীয় স্লিংশট প্রক্রিয়ায় কোনো প্রকার সংঘর্ষের ঝুঁকি ছাড়াই পৃথিবীকে ধীরে ধীরে নিরাপদ দূরত্বে ঠেলে দেবে। বিমটি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে বায়ুমণ্ডলে আঘাত করলেও তা অক্সিজেনের তৈরি হওয়ায় প্রাকৃতিক পরিবেশের কোনো ক্ষতি হবে না।

সময়ের সাথে পৃথিবীর অভ্যন্তরীণ টেকটোনিক কার্যকলাপ স্তব্ধ হয়ে গেলে পর্বত গঠন এবং প্রাণধারণের জন্য জরুরি পুষ্টিচক্র বন্ধ হয়ে যাবে। এটি রোধ করতে প্রতিদিন মাত্র ২ কেজি অ্যান্টিম্যাটার বা প্রতিপদার্থ বিশেষ পাত্রে সংরক্ষণ করে গলিত লোহার মাধ্যমে পৃথিবীর ভূত্বকের গভীর কেন্দ্রে পাঠিয়ে দেওয়া হবে। পৃথিবীর কেন্দ্রে গিয়ে অ্যান্টিম্যাটারের বিলয় ঘটলে উৎপন্ন বিপুল তাপ ভূ-অভ্যন্তরকে উত্তপ্ত রাখবে এবং ভেতরের সঞ্চালন ও টেকটোনিক প্লেটের গতিশীলতা অব্যাহত রাখবে।

আরও দীর্ঘ সময়ের কথা ভাবলে, প্রায় ৪৫০ কোটি বছর পর মিল্কিওয়ে ও অ্যান্ড্রোমিডা গ্যালাক্সির মহাজাগতিক সংঘর্ষের সময় অন্য কোনো বিশালাকার বস্তুর আঘাত এড়াতে পুরো সৌরজগতকেই সরিয়ে নেওয়া সম্ভব। বৃহস্পতির ল্যাগ্রাঞ্জ পয়েন্ট ১-এ রাখা লঞ্চারের মাধ্যমে সূর্যের মেরুর ওপর দিয়ে শক্তিশালী হাইড্রোজেন বিম ছুড়ে মহাকর্ষীয় স্লিংশট প্রভাবে পুরো সৌরজগতকে নিরাপদ পথে স্থানান্তর করা যাবে।

এখন প্রশ্ন আসতে পারে, ভবিষ্যতের কোনো সভ্যতা কেন এসব সুরক্ষা ব্যবস্থা তৈরি করে সৌরজগতেই থেকে যাবে, যখন তারা চাইলে অন্য কোনো নক্ষত্রজগতে চলে যেতে পারে। এর কারণ হলো, অন্য কোনো দূরবর্তী নক্ষত্রজগতে অভিবাসন বা টেরাফর্মিংয়ের তুলনায় এই সুরক্ষা ব্যবস্থাগুলো ১ হাজার থেকে ১০ লাখ গুণ কম জ্বালানিনির্ভর।

এছাড়া মহাকাশে বিদ্যমান খনিজ আহরণের পরিকাঠামোকেই রূপান্তর করে সরাসরি কাজে লাগানো যাবে, যার ফলে তাৎক্ষণিক অর্থনৈতিক সুবিধা মিলবে। অন্যদিকে, বিভিন্ন নক্ষত্রে ছড়িয়ে পড়লে হাজার বছর পর দূরবর্তী উপনিবেশগুলো একে অপরের কাছে অপরিচিত বা ভিনগ্রহবাসী হয়ে উঠতে পারে, যা পরবর্তীতে ভয়াবহ আন্তঃনক্ষত্র যুদ্ধের জন্ম দিতে পারে। একই সৌরজগতে অবস্থান করলে সমাজ ও মানবজাতিকে সুসংগঠিত রাখা সম্ভব হবে।

এই বিজ্ঞানসম্মত প্রস্তাবনাগুলো বাস্তবায়িত হলে শেষ নক্ষত্রটির আলো নিভে যাওয়ার কোটি কোটি বছর পরও কৃত্রিম আলোর মাধ্যমে পৃথিবী অন্তত ৯০ লাখ বিলিয়ন বছর ধরে প্রাণের জন্য এক নিরাপদ, আরামদায়ক ও আলোকময় আবাসস্থল হিসেবে টিকে থাকবে।

বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ

Tag :

সোনারগাঁয়ে ১৭০০ পিস ইয়াবাসহ আটক ১

সূর্য মরে গেলেও পৃথিবীতে টিকে থাকার কৌশল জানালেন বিজ্ঞানী গ্যাব্রিয়েল হ্যারি

আপডেট সময় ০২:৪৭:১৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬

আজ থেকে ১০০ কোটি বছর পর সূর্যের অভ্যন্তরে মূল জ্বালানি শেষ হতে শুরু করলে এটি আকারে প্রসারিত হয়ে এক ভয়াল লোহিত দানবে পরিণত হবে। এর ফলে পৃথিবীর সমস্ত মহাসাগর ও বায়ুমণ্ডল শুষ্ক হয়ে বিলীন হয়ে যাবে এবং এক পর্যায়ে সূর্য পৃথিবীকেই গিলে ফেলতে পারে।

পরবর্তী ধাপে সূর্য সংকুচিত হয়ে একটি ম্লান শ্বেত বামনে পরিণত হবে। এর ফলে মহাবিশ্বের তাপ ও আলো বহুলাংশে কমে যাবে। আর প্রায় ১০০ ট্রিলিয়ন বা ১০০ লাখ কোটি বছর পর পুরো গ্যালাক্সিতেই নতুন নক্ষত্র তৈরির সক্ষমতা ফুরিয়ে সবকিছু চিরতরে অন্ধকারে ডুবে যাবে।

তবে জার্নাল অব ব্রিটিশ ইন্টারপ্ল্যানেটারি সোসাইটি-তে প্রকাশের জন্য গৃহীত গবেষক গ্যাব্রিয়েল হ্যারির এক সাম্প্রতিক নিবন্ধ অনুযায়ী, মানবজাতি বা পৃথিবীর প্রাণকে বাঁচানোর জন্য মহাজাগতিক দূরত্ব অতিক্রম করে অন্য নক্ষত্রজগতে পালিয়ে যাওয়ার প্রয়োজন নেই। কিছু অভূতপূর্ব সুরক্ষা ব্যবস্থা ও উন্নত প্রযুক্তির মাধ্যমে আমাদের প্রিয় পৃথিবীকে নিজের সৌরজগতেই সুরক্ষিত রাখা সম্ভব।

তার মতে, উত্তপ্ত সূর্যের তীব্র তাপ থেকে পৃথিবীকে রক্ষা করতে সূর্য ও পৃথিবীর মধ্যবর্তী ল্যাগ্রাঞ্জ পয়েন্ট ১-এ একটি বিশাল সৌর-আবরণ বা ‘সানশেড’ স্থাপন করা যেতে পারে। ল্যাগ্রাঞ্জ পয়েন্টে বামন গ্রহ ‘সেরেস’ থেকে তাত্ত্বিকভাবে ২০ লাখ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি কার্বন সংযোগ-তার ঝুলিয়ে তার সাথে অ্যালুমিনিয়ামের তৈরি বিশাল সানশেড যুক্ত করা সম্ভব। চাঁদের মাত্র ০.০১ শতাংশ উপাদান ব্যবহার করেই প্রায় ৩ লাখ ৫০ হাজার কিলোমিটার ব্যাসার্ধের এই অ্যালুমিনিয়াম ছাতা তৈরি করা সম্ভব, যা পৃথিবীর ওপর আকাশের প্রায় ৭০ ডিগ্রি এলাকা ঢেকে দিয়ে অতিরিক্ত সৌর তাপ আটকে দেবে।

সূর্যের আলো সম্পূর্ণ আটকে দেওয়ার পর পৃথিবীতে বিকল্প আলো ও তাপ সরবরাহের প্রয়োজন হবে। এর জন্য সৌরজগতের গ্যাস ডোমিনেটেড বিশাল গ্রহগুলোকে, যেমন বৃহস্পতিকে শক্তির উৎস হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে। বৃহস্পতির বায়ুমণ্ডলের ৬,৫০০ কিলোমিটার গভীরে ভাসমান ফিউশন রিঅ্যাক্টর স্থাপন করা যেতে পারে, যা হিলিয়াম-৪ ও হাইড্রোজেন জ্বালানি ব্যবহার করে বিপুল শক্তি উৎপন্ন করবে।

উৎপাদিত শক্তি বৃহস্পতির ল্যাগ্রাঞ্জ পয়েন্ট ১-এ বিম করে পাঠানো হবে এবং সেখান থেকে শক্তিশালী লেজার ডিভাইসের মাধ্যমে পৃথিবীতে ছড়িয়ে দেওয়া হবে। এই মওজুদকৃত ফিউশন জ্বালানি দিয়ে পৃথিবীতে টানা ৯.১ কোয়াড্রিলিয়ন বা ১০ লাখ কোটি বছর সূর্যালোকের সমপরিমাণ আলো ও তাপ সরবরাহ করা সম্ভব।

উত্তপ্ত সূর্য থেকে পৃথিবীকে দূরে সরাতে এর কক্ষপথের শক্তি বৃদ্ধি করতে হবে। গ্রহাণুর পরিবর্তে নিরাপদ বিকল্প হিসেবে অক্সিজেন পার্টিকল বিম ব্যবহার করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতি থেকে সংগৃহীত অক্সিজেনের পরমাণু দিয়ে আমাজন নদীর বহমান পানির ভরের অর্ধেকের সমান একটি বিম তৈরি করে পৃথিবীর পাশ দিয়ে অবিরাম ছুড়ে দেওয়া হবে। এটি মহাকর্ষীয় স্লিংশট প্রক্রিয়ায় কোনো প্রকার সংঘর্ষের ঝুঁকি ছাড়াই পৃথিবীকে ধীরে ধীরে নিরাপদ দূরত্বে ঠেলে দেবে। বিমটি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে বায়ুমণ্ডলে আঘাত করলেও তা অক্সিজেনের তৈরি হওয়ায় প্রাকৃতিক পরিবেশের কোনো ক্ষতি হবে না।

সময়ের সাথে পৃথিবীর অভ্যন্তরীণ টেকটোনিক কার্যকলাপ স্তব্ধ হয়ে গেলে পর্বত গঠন এবং প্রাণধারণের জন্য জরুরি পুষ্টিচক্র বন্ধ হয়ে যাবে। এটি রোধ করতে প্রতিদিন মাত্র ২ কেজি অ্যান্টিম্যাটার বা প্রতিপদার্থ বিশেষ পাত্রে সংরক্ষণ করে গলিত লোহার মাধ্যমে পৃথিবীর ভূত্বকের গভীর কেন্দ্রে পাঠিয়ে দেওয়া হবে। পৃথিবীর কেন্দ্রে গিয়ে অ্যান্টিম্যাটারের বিলয় ঘটলে উৎপন্ন বিপুল তাপ ভূ-অভ্যন্তরকে উত্তপ্ত রাখবে এবং ভেতরের সঞ্চালন ও টেকটোনিক প্লেটের গতিশীলতা অব্যাহত রাখবে।

আরও দীর্ঘ সময়ের কথা ভাবলে, প্রায় ৪৫০ কোটি বছর পর মিল্কিওয়ে ও অ্যান্ড্রোমিডা গ্যালাক্সির মহাজাগতিক সংঘর্ষের সময় অন্য কোনো বিশালাকার বস্তুর আঘাত এড়াতে পুরো সৌরজগতকেই সরিয়ে নেওয়া সম্ভব। বৃহস্পতির ল্যাগ্রাঞ্জ পয়েন্ট ১-এ রাখা লঞ্চারের মাধ্যমে সূর্যের মেরুর ওপর দিয়ে শক্তিশালী হাইড্রোজেন বিম ছুড়ে মহাকর্ষীয় স্লিংশট প্রভাবে পুরো সৌরজগতকে নিরাপদ পথে স্থানান্তর করা যাবে।

এখন প্রশ্ন আসতে পারে, ভবিষ্যতের কোনো সভ্যতা কেন এসব সুরক্ষা ব্যবস্থা তৈরি করে সৌরজগতেই থেকে যাবে, যখন তারা চাইলে অন্য কোনো নক্ষত্রজগতে চলে যেতে পারে। এর কারণ হলো, অন্য কোনো দূরবর্তী নক্ষত্রজগতে অভিবাসন বা টেরাফর্মিংয়ের তুলনায় এই সুরক্ষা ব্যবস্থাগুলো ১ হাজার থেকে ১০ লাখ গুণ কম জ্বালানিনির্ভর।

এছাড়া মহাকাশে বিদ্যমান খনিজ আহরণের পরিকাঠামোকেই রূপান্তর করে সরাসরি কাজে লাগানো যাবে, যার ফলে তাৎক্ষণিক অর্থনৈতিক সুবিধা মিলবে। অন্যদিকে, বিভিন্ন নক্ষত্রে ছড়িয়ে পড়লে হাজার বছর পর দূরবর্তী উপনিবেশগুলো একে অপরের কাছে অপরিচিত বা ভিনগ্রহবাসী হয়ে উঠতে পারে, যা পরবর্তীতে ভয়াবহ আন্তঃনক্ষত্র যুদ্ধের জন্ম দিতে পারে। একই সৌরজগতে অবস্থান করলে সমাজ ও মানবজাতিকে সুসংগঠিত রাখা সম্ভব হবে।

এই বিজ্ঞানসম্মত প্রস্তাবনাগুলো বাস্তবায়িত হলে শেষ নক্ষত্রটির আলো নিভে যাওয়ার কোটি কোটি বছর পরও কৃত্রিম আলোর মাধ্যমে পৃথিবী অন্তত ৯০ লাখ বিলিয়ন বছর ধরে প্রাণের জন্য এক নিরাপদ, আরামদায়ক ও আলোকময় আবাসস্থল হিসেবে টিকে থাকবে।

বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ