ঢাকা ০৫:৩৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬, ৩০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গজারিয়ায় ঝুঁকিপূর্ণ এলপিজি সিলিন্ডার দিয়ে চলছে সিএনজি অটোরিকশা

মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় সিএনজি অটোরিকশায় জ্বালানি হিসেবে অবৈধভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে রান্নার কাজে ব্যবহৃত এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডার। যাত্রীদের আসনের পেছনে দড়ি দিয়ে এসব সিলিন্ডার বেঁধে ঝুঁকি নিয়ে চলছে অটোরিকশা। এতে যেকোনো সময় অগ্নিকাণ্ড বা বিস্ফোরণের আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

শুক্রবার (১৪ আগস্ট) দুপুরে সরেজমিনে উপজেলার ভবেরচর বাসস্ট্যান্ড থেকে হোগলাকান্দি হয়ে কালীপুরা ট্রলার ঘাট সড়কে অন্তত ২৪টি অটোরিকশায় এমন চিত্র দেখা যায়। প্রতিটি অটোরিকশায় যাত্রীদের আসনের ঠিক পেছনে ঝুঁকিপূর্ণভাবে এলপিজি সিলিন্ডার বাঁধা ছিল।

স্থানীয় সূত্র ও অটোরিকশাচালকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গজারিয়ার বিভিন্ন সিএনজি ফিলিং স্টেশনে দীর্ঘদিন ধরে তীব্র গ্যাসসংকট চলছে। অনেক চালক ২৪ ঘণ্টার বেশি সময় লাইনে দাঁড়িয়েও গ্যাস পাচ্ছেন না। এতে আয়-রোজগার বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় কেউ কেউ বাধ্য হয়ে রান্নার কাজে ব্যবহৃত এলপিজি সিলিন্ডার অটোরিকশায় ব্যবহার করছেন।

এক যাত্রী রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘গাড়ির ভেতরে এভাবে গ্যাসের সিলিন্ডার রাখা খুবই ভয়ংকর। বাধ্য হয়েই আমাদের যাতায়াত করতে হচ্ছে। চালককে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, সিএনজি পাওয়া যাচ্ছে না। কিন্তু দুর্ঘটনা হলে এর দায় কে নেবে?’

আরেক যাত্রী মোছা. শারমিন আক্তার বলেন, ‘সিলিন্ডারটি আমাদের ঠিক পেছনে রাখা ছিল। পুরো পথজুড়ে ভয় লাগছিল। সামান্য দুর্ঘটনা বা আগুনের সূত্রপাত হলে বড় বিপদ হতে পারে। প্রশাসনের উচিত দ্রুত এভাবে সিলিন্ডার ব্যবহার বন্ধ করা।’

তিনি আরও বলেন, আগে একই পথে ৪০ টাকা ভাড়া নেওয়া হলেও এখন ৫০ টাকা নেওয়া হচ্ছে। অর্থাৎ ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াতের পাশাপাশি যাত্রীদের অতিরিক্ত ভাড়াও দিতে হচ্ছে।

তবে চালকদের দাবি, সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতে গ্যাসের সংকট না থাকলে তারা ঝুঁকি নিয়ে এলপিজি ব্যবহার করতেন না।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক অটোরিকশাচালক বলেন, ‘গ্যাসের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। অনেক সময় সারাদিনেও গ্যাস পাওয়া যায় না। গাড়ি না চালালে পরিবারের খরচ চলবে কীভাবে? তাই বাধ্য হয়ে বিকল্প হিসেবে এলপিজি ব্যবহার করছি।’

স্থানীয়দের অভিযোগ, শুধু অটোরিকশাচালকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলে সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না। ফিলিং স্টেশনগুলোতে দীর্ঘদিনের গ্যাসসংকটের কারণ খুঁজে বের করে সরবরাহ স্বাভাবিক করার পাশাপাশি যানবাহনে ঝুঁকিপূর্ণভাবে এলপিজি সিলিন্ডার ব্যবহার বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

গজারিয়া ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের স্টেশন অফিসার ফিরোজ মিয়া বলেন, এলপি গ্যাস অত্যন্ত দাহ্য। সিলিন্ডারে ত্রুটি, অসতর্কতা কিংবা পরিবহনের সময় আগুনের সংস্পর্শে এলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। বিশেষ করে যাত্রীবাহী অটোরিকশায় এভাবে সিলিন্ডার বহন অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।

ভবেরচর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ কামাল আখন্দ বলেন, যানবাহনে রান্নার কাজে ব্যবহৃত গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহার নিষিদ্ধ ও বেআইনি। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দ্রুত অভিযান পরিচালনা করা হবে। জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ

Tag :

গজারিয়ায় ঝুঁকিপূর্ণ এলপিজি সিলিন্ডার দিয়ে চলছে সিএনজি অটোরিকশা

আপডেট সময় ০৪:৩৯:০২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬

মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় সিএনজি অটোরিকশায় জ্বালানি হিসেবে অবৈধভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে রান্নার কাজে ব্যবহৃত এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডার। যাত্রীদের আসনের পেছনে দড়ি দিয়ে এসব সিলিন্ডার বেঁধে ঝুঁকি নিয়ে চলছে অটোরিকশা। এতে যেকোনো সময় অগ্নিকাণ্ড বা বিস্ফোরণের আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

শুক্রবার (১৪ আগস্ট) দুপুরে সরেজমিনে উপজেলার ভবেরচর বাসস্ট্যান্ড থেকে হোগলাকান্দি হয়ে কালীপুরা ট্রলার ঘাট সড়কে অন্তত ২৪টি অটোরিকশায় এমন চিত্র দেখা যায়। প্রতিটি অটোরিকশায় যাত্রীদের আসনের ঠিক পেছনে ঝুঁকিপূর্ণভাবে এলপিজি সিলিন্ডার বাঁধা ছিল।

স্থানীয় সূত্র ও অটোরিকশাচালকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গজারিয়ার বিভিন্ন সিএনজি ফিলিং স্টেশনে দীর্ঘদিন ধরে তীব্র গ্যাসসংকট চলছে। অনেক চালক ২৪ ঘণ্টার বেশি সময় লাইনে দাঁড়িয়েও গ্যাস পাচ্ছেন না। এতে আয়-রোজগার বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় কেউ কেউ বাধ্য হয়ে রান্নার কাজে ব্যবহৃত এলপিজি সিলিন্ডার অটোরিকশায় ব্যবহার করছেন।

এক যাত্রী রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘গাড়ির ভেতরে এভাবে গ্যাসের সিলিন্ডার রাখা খুবই ভয়ংকর। বাধ্য হয়েই আমাদের যাতায়াত করতে হচ্ছে। চালককে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, সিএনজি পাওয়া যাচ্ছে না। কিন্তু দুর্ঘটনা হলে এর দায় কে নেবে?’

আরেক যাত্রী মোছা. শারমিন আক্তার বলেন, ‘সিলিন্ডারটি আমাদের ঠিক পেছনে রাখা ছিল। পুরো পথজুড়ে ভয় লাগছিল। সামান্য দুর্ঘটনা বা আগুনের সূত্রপাত হলে বড় বিপদ হতে পারে। প্রশাসনের উচিত দ্রুত এভাবে সিলিন্ডার ব্যবহার বন্ধ করা।’

তিনি আরও বলেন, আগে একই পথে ৪০ টাকা ভাড়া নেওয়া হলেও এখন ৫০ টাকা নেওয়া হচ্ছে। অর্থাৎ ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াতের পাশাপাশি যাত্রীদের অতিরিক্ত ভাড়াও দিতে হচ্ছে।

তবে চালকদের দাবি, সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতে গ্যাসের সংকট না থাকলে তারা ঝুঁকি নিয়ে এলপিজি ব্যবহার করতেন না।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক অটোরিকশাচালক বলেন, ‘গ্যাসের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। অনেক সময় সারাদিনেও গ্যাস পাওয়া যায় না। গাড়ি না চালালে পরিবারের খরচ চলবে কীভাবে? তাই বাধ্য হয়ে বিকল্প হিসেবে এলপিজি ব্যবহার করছি।’

স্থানীয়দের অভিযোগ, শুধু অটোরিকশাচালকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলে সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না। ফিলিং স্টেশনগুলোতে দীর্ঘদিনের গ্যাসসংকটের কারণ খুঁজে বের করে সরবরাহ স্বাভাবিক করার পাশাপাশি যানবাহনে ঝুঁকিপূর্ণভাবে এলপিজি সিলিন্ডার ব্যবহার বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

গজারিয়া ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের স্টেশন অফিসার ফিরোজ মিয়া বলেন, এলপি গ্যাস অত্যন্ত দাহ্য। সিলিন্ডারে ত্রুটি, অসতর্কতা কিংবা পরিবহনের সময় আগুনের সংস্পর্শে এলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। বিশেষ করে যাত্রীবাহী অটোরিকশায় এভাবে সিলিন্ডার বহন অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।

ভবেরচর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ কামাল আখন্দ বলেন, যানবাহনে রান্নার কাজে ব্যবহৃত গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহার নিষিদ্ধ ও বেআইনি। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দ্রুত অভিযান পরিচালনা করা হবে। জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ