দিনের শুরু থেকে সন্ধ্যার আড্ডা— এক কাপ চা যেন অনেকেরই নিত্যসঙ্গী। তবে বাইরে দোকানে বা বাসায় গরম পানিতে টি ব্যাগ ডুবিয়ে তৈরি চা পান করা কতটা নিরাপদ, তা নিয়ে অনেকের মনেই প্রশ্ন থাকে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এর উত্তর নির্ভর করে টি ব্যাগের মানের ওপর।
পুষ্টিবিদদের মতে, চায়ে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরের প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে। নিয়মিত পরিমিত চা পান করলে দীর্ঘমেয়াদি নানা রোগের ঝুঁকি কমতে পারে। পাশাপাশি হৃদ্রোগ ও মস্তিষ্কে রক্ত চলাচলজনিত সমস্যার আশঙ্কাও কমাতে সহায়ক হতে পারে। অনেকের ক্ষেত্রে এক কাপ চা মানসিক প্রশান্তিও এনে দেয়।
তবে টি ব্যাগ দিয়ে তৈরি চা সব সময় সমান নিরাপদ নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, নিম্নমানের টি ব্যাগে অনেক সময় নাইলন বা অনুরূপ কৃত্রিম উপাদান ব্যবহার করা হয়। গরম পানির সংস্পর্শে এ ধরনের টি ব্যাগ থেকে ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণা শরীরে প্রবেশের আশঙ্কা থাকে। দীর্ঘদিন এমন টি ব্যাগ ব্যবহার করলে ছোটখাটো বিভিন্ন স্বাস্থ্যসমস্যার ঝুঁকি বাড়তে পারে।
অন্যদিকে, উন্নতমানের কাগজের তৈরি টি ব্যাগ তুলনামূলক নিরাপদ বলে মনে করেন পুষ্টিবিদরা। এছাড়া প্রাকৃতিক উপাদান বা চা পাতার আবরণ দিয়ে তৈরি টি ব্যাগও ব্যবহার করা যেতে পারে। এসব ক্ষেত্রে ক্ষতির আশঙ্কা কম থাকে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, টি ব্যাগের চেয়ে চা পাতা ফুটিয়ে চা তৈরি করাই সবচেয়ে ভালো উপায়। এতে চায়ের উপকারী উপাদান পানিতে ভালোভাবে মিশে যায় এবং শরীর সহজে তা গ্রহণ করতে পারে। এর ফলে প্রদাহ কমাতে এবং শরীরকে সুস্থ রাখতে চায়ের উপকারিতা আরও বেশি পাওয়া যায়।
একজন সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ দিনে তিন থেকে চার কাপ চা পান করতে পারেন। তবে ১২ বছরের কম বয়সী শিশুদের চা না দেওয়াই ভালো। এছাড়া চায়ে অতিরিক্ত চিনি ও দুধ মেশানো হলে এর স্বাস্থ্য উপকারিতা কমে যেতে পারে এবং শরীরের জন্য ক্ষতির ঝুঁকিও বাড়তে পারে।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, চা পান করতে চাইলে ভালো মানের টি ব্যাগ বেছে নেওয়া বা সরাসরি চা পাতা ফুটিয়ে তৈরি চা পান করাই সবচেয়ে নিরাপদ ও স্বাস্থ্যকর অভ্যাস।
বাংলা৭১নিউজ/জেএস



























