ঢাকা ০১:১৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মৃত্যুর আগের লক্ষণসমূহ

মৃত্যু এক অনিবার্য সত্য। জন্মের পর থেকে ধীরে ধীরে সবাই সেই সত্যের দিকে এগিয়ে যায়। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন, ‘প্রত্যেক প্রাণীকেই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে। এরপর আমার দিকেই তোমাদের ফিরিয়ে আনা হবে।’ (সুরা আনকাবুত: ৫৭)

অন্য আয়াতে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘প্রতিটি প্রাণ মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করবে এবং কেয়ামতের দিন তোমাদেরকে পূর্ণমাত্রায় বিনিময় দেয়া হবে। যে ব্যক্তিকে জাহান্নামের আগুন হতে রক্ষা করে জান্নাতে দাখিল করা হলো সেই সফল হলো, কেননা পার্থিব জীবন ছলনার বস্তু ছাড়া আর কিছুই নয়।’ (সুরা আলে ইমরান: ১৮৫)

তবে, ইসলামে মৃত্যু কোনো চূড়ান্ত সমাপ্তি নয়। এটি আখেরাতের জীবনে প্রবেশের জন্য দুনিয়াবিয়োগ মাত্র। কোরআন ও সহিহ হাদিসে মৃত্যুর মুহূর্ত, মুমিন ও পাপীদের ভিন্ন অবস্থা এবং উত্তম মৃত্যুর কিছু আলামতের কথা এসেছে। তবে এগুলো সবার ক্ষেত্রে সমানভাবে অবশ্যম্ভাবী লক্ষণ হিসেবে দেখা ঠিক নয়। নিচে সহিহ দলিলের আলোকে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরা হলো।

১. নেককার মুমিন মৃত্যুর আগে সুসংবাদ পান
আল্লাহর প্রতি ঈমান ও নেক আমলের ওপর অবিচল থাকা মুমিনের জন্য মৃত্যুর সময় ফেরেশতারা সুসংবাদ নিয়ে আসেন। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, ‘নিশ্চয় যারা বলে, আল্লাহই আমাদের রব অতঃপর তাতে অবিচল থাকে, ফেরেশতারা তাদের কাছে নাজিল হয় (এবং বলে,) তোমরা ভয় পেয়ো না, দুশ্চিন্তা করো না এবং সেই জান্নাতের সুসংবাদ গ্রহণ করো যার ওয়াদা তোমাদের দেওয়া হয়েছিল।’ (সুরা ফুসসিলাত: ৩০)

অন্যদিকে অবাধ্য মানুষের জন্য মৃত্যুর সময় কঠিন পরিস্থিতির কথাও কোরআনে এসেছে এভাবে- ‘তখন কেমন দশা হবে যখন ফেরেশতারা তাদের মুখে আর পিঠে মারতে মারতে তাদের জান বের করবে।’ (সুরা মুহাম্মাদ: ২৭)

২. ভালো আমলের ওপর মৃত্যু সৌভাগ্যের লক্ষণ
মুমিনের সবচেয়ে বড় সৌভাগ্য হলো নেক আমলের মধ্যে থাকা অবস্থায় মৃত্যুবরণ করা।

রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘আল্লাহ যখন কোনো বান্দার কল্যাণ চান, তখন তাকে (নেক কাজে) ব্যবহার করেন।’ সাহাবিরা জিজ্ঞেস করলেন, কীভাবে? তিনি বলেন, ‘মৃত্যুর আগে আল্লাহ তাকে নেক আমলের তাওফিক দেন, এরপর সেই অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।’ (তিরমিজি: ২১৪২)

আরও বর্ণিত হয়েছে, ‘প্রত্যেক মানুষকে যে অবস্থায় মৃত্যু দেওয়া হবে, কেয়ামতের দিন তাকে সেই অবস্থাতেই উঠানো হবে।’ (সহিহ মুসলিম: ২৮৭৮)

৩. মৃত্যুর সময় জিহ্বায় ঈমানের কথা থাকা
উত্তম মৃত্যুর অন্যতম আলামত হলো জীবনের শেষ মুহূর্তে ঈমানের সাক্ষ্য উচ্চারণ করা। রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘যার সর্বশেষ কথা হবে “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ”, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।’ (সুনানে আবু দাউদ: ৩১১৬)

তাই মৃত্যুপথযাত্রী ব্যক্তিকে নম্রভাবে কালিমা স্মরণ করিয়ে দেওয়ার নির্দেশও হাদিসে এসেছে। (সহিহ মুসলিম: ৯১৬)

৪. মুমিনের জন্য মৃত্যু সহজ করে দেওয়া
মৃত্যুযন্ত্রণা বাস্তব এবং তা থেকে নবী-রাসুলরাও অব্যাহতি পাননি। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘মৃত্যুযন্ত্রণা অবশ্যই আসবে। এটাই সেই বিষয়, যা থেকে তুমি পালাতে চাইতে।’ (সুরা কাফ: ১৯)

মা আয়েশা (রা.) বলেন, মৃত্যুশয্যায় রাসুলুল্লাহ (স.)-এর সামনে একটি পানির পাত্র ছিল। তিনি তাতে হাত ডুবিয়ে বারবার মুখমণ্ডল মুছছিলেন এবং বলছিলেন, ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ। নিশ্চয়ই মৃত্যুর অনেক কষ্ট রয়েছে।’ (সহিহ বুখারি: ৬৫১০)

তবে নেককার মুমিনের জন্য আল্লাহ তাআলা এই কঠিন মুহূর্ত সহজ করে দেন এবং তাকে জান্নাতের সুসংবাদ প্রদান করেন।

৫. কপালে ঘাম নিয়ে মৃত্যু
বুরাইদা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘মুমিনের মৃত্যু কপালে ঘাম নিয়ে হয়।’ (তিরমিজি: ৯৮২; নাসায়ি: ১৮২৯)

আলেমরা এটিকে উত্তম মৃত্যুর একটি আলামত হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তবে এটি সবার ক্ষেত্রে দেখা যাবে, এমন দাবি করা ঠিক নয়।

৬. জুমার দিন বা রাতে মৃত্যু
কিছু হাদিসে জুমার দিন বা রাতে মৃত্যুবরণকারীর বিশেষ ফজিলতের কথা এসেছে। রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘জুমার দিনে বা রাতে যে মুসলিম মৃত্যুবরণ করে, আল্লাহ তাকে কবরের ফিতনা থেকে নিরাপদ রাখবেন।’ (তিরমিজি: ১০৭৪)

অনেক মুহাদ্দিস এই হাদিসকে হাসান বলেছেন। তাই এটিকে উত্তম মৃত্যুর একটি সুসংবাদ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

৭. শহীদের বিশেষ মর্যাদা
ইসলামে শহীদের মর্যাদা অত্যন্ত উচ্চ। শহীদ হওয়া শুধু যুদ্ধক্ষেত্রে নিহত হওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। রাসুলুল্লাহ (স.) বিভিন্ন হাদিসে প্লেগে মৃত্যু, পেটের রোগে মৃত্যু, পানিতে ডুবে মৃত্যু, ধ্বংসস্তূপে চাপা পড়ে মৃত্যু এবং আল্লাহর পথে শহীদ হওয়ার মতো কয়েকটি মৃত্যুকে শহীদের মর্যাদা দিয়েছেন। (সহিহ বুখারি: ২৮২৯, সহিহ মুসলিম: ১৯১৪, ১৯১৫)

এসব ব্যক্তি আল্লাহর কাছে বিশেষ মর্যাদা লাভ করবেন বলে হাদিসে এসেছে।

মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তওবার সুযোগ
আল্লাহ তাআলা বান্দার জন্য তওবার দরজা খোলা রেখেছেন। তবে মৃত্যুযন্ত্রণা শুরু হয়ে গেলে সেই সুযোগ শেষ হয়ে যায়। হাদিস শরিফে ইরশাদ হয়েছে, ‘আল্লাহ বান্দার তওবা গ্রহণ করেন, যতক্ষণ না তার রুহ কণ্ঠাগত হয়।’ (তিরমিজি: ৩৫৩৭)

তাই মৃত্যু আসার আগেই আন্তরিক তওবা করা প্রত্যেক মুসলমানের দায়িত্ব।

মৃত্যুর মুহূর্ত সম্পর্কে কোরআনের বর্ণনা
কোরআনে মৃত্যুর শেষ মুহূর্তের একটি হৃদয়স্পর্শী চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, ‘যখন প্রাণ কণ্ঠাগত হবে এবং বলা হবে, কে তাকে রক্ষা করবে? তখন সে নিশ্চিত বুঝতে পারবে যে, এটাই বিদায়ের ক্ষণ। আর পায়ের সঙ্গে পা জড়িয়ে যাবে।’ (সুরা কিয়ামাহ: ২৬-৩০)

এই আয়াত মানুষকে স্মরণ করিয়ে দেয়, মৃত্যুর সেই মুহূর্ত থেকে কারও পালানোর সুযোগ নেই।

যেসব কুসংস্কার থেকে সতর্ক থাকা জরুর
মৃত্যুর আগে মানুষ নির্দিষ্ট স্বপ্ন দেখে, কাক ডাকলে মৃত্যু আসে, ৪০ দিন আগে সবাই নিজের মৃত্যু বুঝে যায় কিংবা সবাই মৃত্যুর সময় ফেরেশতাকে দেখতে পায়—এ ধরনের অনেক কথা সমাজে প্রচারিত হলেও এগুলোর পক্ষে নির্ভরযোগ্য সহিহ দলিল নেই। তাই এসব বিষয়ে নিশ্চিত বক্তব্য দেওয়া উচিত নয়।

মৃত্যু কখন আসবে, তা একমাত্র আল্লাহ তাআলাই জানেন। একজন মুমিনের দায়িত্ব হলো মৃত্যুর সময় কী ঘটবে তা নিয়ে কৌতূহলী হওয়ার চেয়ে জীবনের প্রতিটি মুহূর্তকে নেক আমলে ভরিয়ে তোলা। কারণ মানুষ যে অবস্থায় পৃথিবী থেকে বিদায় নেয়, আল্লাহর ইচ্ছায় কেয়ামতের দিন সে সেই অবস্থাতেই পুনরুত্থিত হবে।

বাংলা৭১নিউজ/জেএস

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

মৃত্যুর আগের লক্ষণসমূহ

আপডেট সময় ১২:২৭:০২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬

মৃত্যু এক অনিবার্য সত্য। জন্মের পর থেকে ধীরে ধীরে সবাই সেই সত্যের দিকে এগিয়ে যায়। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন, ‘প্রত্যেক প্রাণীকেই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে। এরপর আমার দিকেই তোমাদের ফিরিয়ে আনা হবে।’ (সুরা আনকাবুত: ৫৭)

অন্য আয়াতে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘প্রতিটি প্রাণ মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করবে এবং কেয়ামতের দিন তোমাদেরকে পূর্ণমাত্রায় বিনিময় দেয়া হবে। যে ব্যক্তিকে জাহান্নামের আগুন হতে রক্ষা করে জান্নাতে দাখিল করা হলো সেই সফল হলো, কেননা পার্থিব জীবন ছলনার বস্তু ছাড়া আর কিছুই নয়।’ (সুরা আলে ইমরান: ১৮৫)

তবে, ইসলামে মৃত্যু কোনো চূড়ান্ত সমাপ্তি নয়। এটি আখেরাতের জীবনে প্রবেশের জন্য দুনিয়াবিয়োগ মাত্র। কোরআন ও সহিহ হাদিসে মৃত্যুর মুহূর্ত, মুমিন ও পাপীদের ভিন্ন অবস্থা এবং উত্তম মৃত্যুর কিছু আলামতের কথা এসেছে। তবে এগুলো সবার ক্ষেত্রে সমানভাবে অবশ্যম্ভাবী লক্ষণ হিসেবে দেখা ঠিক নয়। নিচে সহিহ দলিলের আলোকে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরা হলো।

১. নেককার মুমিন মৃত্যুর আগে সুসংবাদ পান
আল্লাহর প্রতি ঈমান ও নেক আমলের ওপর অবিচল থাকা মুমিনের জন্য মৃত্যুর সময় ফেরেশতারা সুসংবাদ নিয়ে আসেন। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, ‘নিশ্চয় যারা বলে, আল্লাহই আমাদের রব অতঃপর তাতে অবিচল থাকে, ফেরেশতারা তাদের কাছে নাজিল হয় (এবং বলে,) তোমরা ভয় পেয়ো না, দুশ্চিন্তা করো না এবং সেই জান্নাতের সুসংবাদ গ্রহণ করো যার ওয়াদা তোমাদের দেওয়া হয়েছিল।’ (সুরা ফুসসিলাত: ৩০)

অন্যদিকে অবাধ্য মানুষের জন্য মৃত্যুর সময় কঠিন পরিস্থিতির কথাও কোরআনে এসেছে এভাবে- ‘তখন কেমন দশা হবে যখন ফেরেশতারা তাদের মুখে আর পিঠে মারতে মারতে তাদের জান বের করবে।’ (সুরা মুহাম্মাদ: ২৭)

২. ভালো আমলের ওপর মৃত্যু সৌভাগ্যের লক্ষণ
মুমিনের সবচেয়ে বড় সৌভাগ্য হলো নেক আমলের মধ্যে থাকা অবস্থায় মৃত্যুবরণ করা।

রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘আল্লাহ যখন কোনো বান্দার কল্যাণ চান, তখন তাকে (নেক কাজে) ব্যবহার করেন।’ সাহাবিরা জিজ্ঞেস করলেন, কীভাবে? তিনি বলেন, ‘মৃত্যুর আগে আল্লাহ তাকে নেক আমলের তাওফিক দেন, এরপর সেই অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।’ (তিরমিজি: ২১৪২)

আরও বর্ণিত হয়েছে, ‘প্রত্যেক মানুষকে যে অবস্থায় মৃত্যু দেওয়া হবে, কেয়ামতের দিন তাকে সেই অবস্থাতেই উঠানো হবে।’ (সহিহ মুসলিম: ২৮৭৮)

৩. মৃত্যুর সময় জিহ্বায় ঈমানের কথা থাকা
উত্তম মৃত্যুর অন্যতম আলামত হলো জীবনের শেষ মুহূর্তে ঈমানের সাক্ষ্য উচ্চারণ করা। রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘যার সর্বশেষ কথা হবে “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ”, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।’ (সুনানে আবু দাউদ: ৩১১৬)

তাই মৃত্যুপথযাত্রী ব্যক্তিকে নম্রভাবে কালিমা স্মরণ করিয়ে দেওয়ার নির্দেশও হাদিসে এসেছে। (সহিহ মুসলিম: ৯১৬)

৪. মুমিনের জন্য মৃত্যু সহজ করে দেওয়া
মৃত্যুযন্ত্রণা বাস্তব এবং তা থেকে নবী-রাসুলরাও অব্যাহতি পাননি। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘মৃত্যুযন্ত্রণা অবশ্যই আসবে। এটাই সেই বিষয়, যা থেকে তুমি পালাতে চাইতে।’ (সুরা কাফ: ১৯)

মা আয়েশা (রা.) বলেন, মৃত্যুশয্যায় রাসুলুল্লাহ (স.)-এর সামনে একটি পানির পাত্র ছিল। তিনি তাতে হাত ডুবিয়ে বারবার মুখমণ্ডল মুছছিলেন এবং বলছিলেন, ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ। নিশ্চয়ই মৃত্যুর অনেক কষ্ট রয়েছে।’ (সহিহ বুখারি: ৬৫১০)

তবে নেককার মুমিনের জন্য আল্লাহ তাআলা এই কঠিন মুহূর্ত সহজ করে দেন এবং তাকে জান্নাতের সুসংবাদ প্রদান করেন।

৫. কপালে ঘাম নিয়ে মৃত্যু
বুরাইদা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘মুমিনের মৃত্যু কপালে ঘাম নিয়ে হয়।’ (তিরমিজি: ৯৮২; নাসায়ি: ১৮২৯)

আলেমরা এটিকে উত্তম মৃত্যুর একটি আলামত হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তবে এটি সবার ক্ষেত্রে দেখা যাবে, এমন দাবি করা ঠিক নয়।

৬. জুমার দিন বা রাতে মৃত্যু
কিছু হাদিসে জুমার দিন বা রাতে মৃত্যুবরণকারীর বিশেষ ফজিলতের কথা এসেছে। রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘জুমার দিনে বা রাতে যে মুসলিম মৃত্যুবরণ করে, আল্লাহ তাকে কবরের ফিতনা থেকে নিরাপদ রাখবেন।’ (তিরমিজি: ১০৭৪)

অনেক মুহাদ্দিস এই হাদিসকে হাসান বলেছেন। তাই এটিকে উত্তম মৃত্যুর একটি সুসংবাদ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

৭. শহীদের বিশেষ মর্যাদা
ইসলামে শহীদের মর্যাদা অত্যন্ত উচ্চ। শহীদ হওয়া শুধু যুদ্ধক্ষেত্রে নিহত হওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। রাসুলুল্লাহ (স.) বিভিন্ন হাদিসে প্লেগে মৃত্যু, পেটের রোগে মৃত্যু, পানিতে ডুবে মৃত্যু, ধ্বংসস্তূপে চাপা পড়ে মৃত্যু এবং আল্লাহর পথে শহীদ হওয়ার মতো কয়েকটি মৃত্যুকে শহীদের মর্যাদা দিয়েছেন। (সহিহ বুখারি: ২৮২৯, সহিহ মুসলিম: ১৯১৪, ১৯১৫)

এসব ব্যক্তি আল্লাহর কাছে বিশেষ মর্যাদা লাভ করবেন বলে হাদিসে এসেছে।

মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তওবার সুযোগ
আল্লাহ তাআলা বান্দার জন্য তওবার দরজা খোলা রেখেছেন। তবে মৃত্যুযন্ত্রণা শুরু হয়ে গেলে সেই সুযোগ শেষ হয়ে যায়। হাদিস শরিফে ইরশাদ হয়েছে, ‘আল্লাহ বান্দার তওবা গ্রহণ করেন, যতক্ষণ না তার রুহ কণ্ঠাগত হয়।’ (তিরমিজি: ৩৫৩৭)

তাই মৃত্যু আসার আগেই আন্তরিক তওবা করা প্রত্যেক মুসলমানের দায়িত্ব।

মৃত্যুর মুহূর্ত সম্পর্কে কোরআনের বর্ণনা
কোরআনে মৃত্যুর শেষ মুহূর্তের একটি হৃদয়স্পর্শী চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, ‘যখন প্রাণ কণ্ঠাগত হবে এবং বলা হবে, কে তাকে রক্ষা করবে? তখন সে নিশ্চিত বুঝতে পারবে যে, এটাই বিদায়ের ক্ষণ। আর পায়ের সঙ্গে পা জড়িয়ে যাবে।’ (সুরা কিয়ামাহ: ২৬-৩০)

এই আয়াত মানুষকে স্মরণ করিয়ে দেয়, মৃত্যুর সেই মুহূর্ত থেকে কারও পালানোর সুযোগ নেই।

যেসব কুসংস্কার থেকে সতর্ক থাকা জরুর
মৃত্যুর আগে মানুষ নির্দিষ্ট স্বপ্ন দেখে, কাক ডাকলে মৃত্যু আসে, ৪০ দিন আগে সবাই নিজের মৃত্যু বুঝে যায় কিংবা সবাই মৃত্যুর সময় ফেরেশতাকে দেখতে পায়—এ ধরনের অনেক কথা সমাজে প্রচারিত হলেও এগুলোর পক্ষে নির্ভরযোগ্য সহিহ দলিল নেই। তাই এসব বিষয়ে নিশ্চিত বক্তব্য দেওয়া উচিত নয়।

মৃত্যু কখন আসবে, তা একমাত্র আল্লাহ তাআলাই জানেন। একজন মুমিনের দায়িত্ব হলো মৃত্যুর সময় কী ঘটবে তা নিয়ে কৌতূহলী হওয়ার চেয়ে জীবনের প্রতিটি মুহূর্তকে নেক আমলে ভরিয়ে তোলা। কারণ মানুষ যে অবস্থায় পৃথিবী থেকে বিদায় নেয়, আল্লাহর ইচ্ছায় কেয়ামতের দিন সে সেই অবস্থাতেই পুনরুত্থিত হবে।

বাংলা৭১নিউজ/জেএস