ঢাকা ০৩:৫৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬, ৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম

দরুদ পাঠের সঠিক নিয়মাবলী

রাসুলুল্লাহ (স.)-এর প্রতি দরুদ পাঠ মুমিনের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ইবাদত। আল্লাহ তাআলা নিজে এবং তাঁর ফেরেশতারা নবীর প্রতি দরুদ পাঠ করেন। এরপর মুমিনদেরও এ আমলের নির্দেশ দিয়েছেন। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ ও তাঁর ফেরেশতারা নবীর প্রতি দরুদ পাঠ করেন। হে ঈমানদাররা, তোমরাও তাঁর প্রতি দরুদ পাঠ করো এবং যথাযথভাবে সালাম পেশ করো।’ (সুরা আহজাব: ৫৬)

দরুদ পাঠের গুরুত্ব যেমন অনেক, তেমনি তা সহিহ পদ্ধতিতে আদায় করাও জরুরি। এ বিষয়ে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরা হলো।

সহিহ সূত্রে বর্ণিত দরুদই সর্বোত্তম
রাসুলুল্লাহ (স.)-এর শেখানো দরুদই সর্বোত্তম। সাহাবায়ে কেরাম দরুদ পাঠের পদ্ধতি জানতে চাইলে তিনি তাদের ‘দরুদে ইবরাহিম’ শিক্ষা দেন। (সহিহ বুখারি: ৬৩৫৭)

নামাজে তাশাহহুদের পর এই দরুদ পড়া সুন্নত। নামাজের বাইরে জিকির হিসেবেও এটি নিয়মিত পড়া উত্তম আমল।

রাসুলুল্লাহ (স.)-এর নাম শুনলে দরুদ পাঠ করুন
রাসুলুল্লাহ (স.)-এর নাম উচ্চারিত হলে তাঁর প্রতি দরুদ পাঠ করা মুমিনের দায়িত্ব। এ বিষয়ে অবহেলা করতে হাদিসে কঠোর সতর্কতা এসেছে।

রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘সেই ব্যক্তির নাক ধুলোমলিন হোক (অপমানিত হোক), যার কাছে আমার নাম উচ্চারিত হলো অথচ সে আমার প্রতি দরুদ পাঠ করল না।’ (জামে তিরমিজি: ৩৫৪৫)

শুক্রবার বেশি বেশি দরুদ পড়ার ফজিলত
সপ্তাহের অন্য দিনের মতো শুক্রবারও দরুদ পাঠ করা যায়। তবে জুমার দিনে এর বিশেষ মর্যাদা রয়েছে।

রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘তোমরা জুমার দিনে আমার ওপর বেশি বেশি দরুদ পাঠ করো। কারণ তোমাদের দরুদ আমার কাছে পেশ করা হয়।’ (সুনানে আবু দাউদ: ১০৪৭)

দোয়ার আগে দরুদ পাঠ করা উত্তম
দোয়ার আদবের মধ্যে রয়েছে প্রথমে আল্লাহর প্রশংসা করা, এরপর রাসুলুল্লাহ (স.)-এর প্রতি দরুদ পাঠ করা এবং তারপর নিজের প্রয়োজন আল্লাহর কাছে তুলে ধরা।

হজরত ফাদালাহ ইবনে উবাইদ (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ (স.) এক ব্যক্তিকে দরুদ ছাড়া দোয়া করতে দেখে প্রথমে আল্লাহর প্রশংসা এবং পরে দরুদ পাঠের নির্দেশ দেন। (সুনানে আবু দাউদ: ১৪৮১, জামে তিরমিজি: ৩৪৭৭)

নির্দিষ্ট সংখ্যাকে শরিয়তের বিধান মনে করা ঠিক নয়
দরুদ পাঠের জন্য ইসলাম কোনো নির্দিষ্ট সংখ্যা নির্ধারণ করেনি। কেউ নিজের সুবিধার জন্য নির্দিষ্ট সংখ্যা ঠিক করে পড়তে পারেন। তবে ১০০, ৩১৩ বা সোয়া লাখের মতো সংখ্যাকে বিশেষ ফজিলতের জন্য আবশ্যক মনে করা ঠিক নয়, যদি তার পক্ষে সহিহ দলিল না থাকে।

রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি আমার প্রতি একবার দরুদ পাঠ করে, আল্লাহ তার প্রতি দশটি রহমত নাজিল করেন।’ (সহিহ মুসলিম: ৪০৮)

সংক্ষিপ্ত রূপের বদলে পূর্ণ দরুদ লেখা উত্তম
রাসুলুল্লাহ (স.)-এর নাম লেখার সময় অনেকেই (স.), (সা.) বা অন্য সংক্ষিপ্ত রূপ ব্যবহার করেন। আলেমদের একটি বড় অংশ পূর্ণাঙ্গভাবে ‘সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম’ লেখাকে অধিক উত্তম বলেছেন। এতে নবী (স.)-এর প্রতি সম্মান প্রকাশ পায় এবং পাঠকও পূর্ণ দরুদ পড়তে উৎসাহিত হন।

ভিত্তিহীন ফজিলত প্রচার থেকে বিরত থাকুন
সমাজে বিভিন্ন নামে অনেক দরুদ প্রচলিত রয়েছে। কোনো দরুদের শব্দ সহিহ হলেও তার সঙ্গে অতিরঞ্জিত বা ভিত্তিহীন ফজিলত জুড়ে দেওয়া ঠিক নয়।

বিশেষ কোনো দরুদকে নির্দিষ্ট সওয়াব বা অলৌকিক ফলের মাধ্যম হিসেবে প্রচার করার আগে তা সহিহ হাদিসে প্রমাণিত কি না, যাচাই করা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে রাসুলুল্লাহ (স.)-এর শেখানো দরুদ অনুসরণ করাই সবচেয়ে নিরাপদ।

দরুদ পাঠ মুমিনের জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ আমল। এটি রাসুলুল্লাহ (স.)-এর প্রতি ভালোবাসা ও আনুগত্যের প্রকাশ। তাই সহিহ সূত্রে বর্ণিত দরুদ নিয়মিত পাঠ করা, তাঁর নাম শুনলে দরুদ পড়া এবং ভিত্তিহীন আমল থেকে দূরে থাকাই একজন মুসলিমের করণীয়। সুন্নাহ অনুযায়ী এই আমল আদায় করলে আল্লাহর রহমত ও অশেষ কল্যাণের আশা করা যায়।

তথ্যসূত্র: আল-কুরআন, সহিহ বুখারি, সহিহ মুসলিম, সুনানে আবু দাউদ, জামে তিরমিজি

বাংলা৭১নিউজ/জেএস

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

সফর সংক্ষিপ্ত করে দেশে ফিরলেন স্পিকার

দরুদ পাঠের সঠিক নিয়মাবলী

আপডেট সময় ০১:১০:৩৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬

রাসুলুল্লাহ (স.)-এর প্রতি দরুদ পাঠ মুমিনের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ইবাদত। আল্লাহ তাআলা নিজে এবং তাঁর ফেরেশতারা নবীর প্রতি দরুদ পাঠ করেন। এরপর মুমিনদেরও এ আমলের নির্দেশ দিয়েছেন। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ ও তাঁর ফেরেশতারা নবীর প্রতি দরুদ পাঠ করেন। হে ঈমানদাররা, তোমরাও তাঁর প্রতি দরুদ পাঠ করো এবং যথাযথভাবে সালাম পেশ করো।’ (সুরা আহজাব: ৫৬)

দরুদ পাঠের গুরুত্ব যেমন অনেক, তেমনি তা সহিহ পদ্ধতিতে আদায় করাও জরুরি। এ বিষয়ে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরা হলো।

সহিহ সূত্রে বর্ণিত দরুদই সর্বোত্তম
রাসুলুল্লাহ (স.)-এর শেখানো দরুদই সর্বোত্তম। সাহাবায়ে কেরাম দরুদ পাঠের পদ্ধতি জানতে চাইলে তিনি তাদের ‘দরুদে ইবরাহিম’ শিক্ষা দেন। (সহিহ বুখারি: ৬৩৫৭)

নামাজে তাশাহহুদের পর এই দরুদ পড়া সুন্নত। নামাজের বাইরে জিকির হিসেবেও এটি নিয়মিত পড়া উত্তম আমল।

রাসুলুল্লাহ (স.)-এর নাম শুনলে দরুদ পাঠ করুন
রাসুলুল্লাহ (স.)-এর নাম উচ্চারিত হলে তাঁর প্রতি দরুদ পাঠ করা মুমিনের দায়িত্ব। এ বিষয়ে অবহেলা করতে হাদিসে কঠোর সতর্কতা এসেছে।

রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘সেই ব্যক্তির নাক ধুলোমলিন হোক (অপমানিত হোক), যার কাছে আমার নাম উচ্চারিত হলো অথচ সে আমার প্রতি দরুদ পাঠ করল না।’ (জামে তিরমিজি: ৩৫৪৫)

শুক্রবার বেশি বেশি দরুদ পড়ার ফজিলত
সপ্তাহের অন্য দিনের মতো শুক্রবারও দরুদ পাঠ করা যায়। তবে জুমার দিনে এর বিশেষ মর্যাদা রয়েছে।

রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘তোমরা জুমার দিনে আমার ওপর বেশি বেশি দরুদ পাঠ করো। কারণ তোমাদের দরুদ আমার কাছে পেশ করা হয়।’ (সুনানে আবু দাউদ: ১০৪৭)

দোয়ার আগে দরুদ পাঠ করা উত্তম
দোয়ার আদবের মধ্যে রয়েছে প্রথমে আল্লাহর প্রশংসা করা, এরপর রাসুলুল্লাহ (স.)-এর প্রতি দরুদ পাঠ করা এবং তারপর নিজের প্রয়োজন আল্লাহর কাছে তুলে ধরা।

হজরত ফাদালাহ ইবনে উবাইদ (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ (স.) এক ব্যক্তিকে দরুদ ছাড়া দোয়া করতে দেখে প্রথমে আল্লাহর প্রশংসা এবং পরে দরুদ পাঠের নির্দেশ দেন। (সুনানে আবু দাউদ: ১৪৮১, জামে তিরমিজি: ৩৪৭৭)

নির্দিষ্ট সংখ্যাকে শরিয়তের বিধান মনে করা ঠিক নয়
দরুদ পাঠের জন্য ইসলাম কোনো নির্দিষ্ট সংখ্যা নির্ধারণ করেনি। কেউ নিজের সুবিধার জন্য নির্দিষ্ট সংখ্যা ঠিক করে পড়তে পারেন। তবে ১০০, ৩১৩ বা সোয়া লাখের মতো সংখ্যাকে বিশেষ ফজিলতের জন্য আবশ্যক মনে করা ঠিক নয়, যদি তার পক্ষে সহিহ দলিল না থাকে।

রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি আমার প্রতি একবার দরুদ পাঠ করে, আল্লাহ তার প্রতি দশটি রহমত নাজিল করেন।’ (সহিহ মুসলিম: ৪০৮)

সংক্ষিপ্ত রূপের বদলে পূর্ণ দরুদ লেখা উত্তম
রাসুলুল্লাহ (স.)-এর নাম লেখার সময় অনেকেই (স.), (সা.) বা অন্য সংক্ষিপ্ত রূপ ব্যবহার করেন। আলেমদের একটি বড় অংশ পূর্ণাঙ্গভাবে ‘সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম’ লেখাকে অধিক উত্তম বলেছেন। এতে নবী (স.)-এর প্রতি সম্মান প্রকাশ পায় এবং পাঠকও পূর্ণ দরুদ পড়তে উৎসাহিত হন।

ভিত্তিহীন ফজিলত প্রচার থেকে বিরত থাকুন
সমাজে বিভিন্ন নামে অনেক দরুদ প্রচলিত রয়েছে। কোনো দরুদের শব্দ সহিহ হলেও তার সঙ্গে অতিরঞ্জিত বা ভিত্তিহীন ফজিলত জুড়ে দেওয়া ঠিক নয়।

বিশেষ কোনো দরুদকে নির্দিষ্ট সওয়াব বা অলৌকিক ফলের মাধ্যম হিসেবে প্রচার করার আগে তা সহিহ হাদিসে প্রমাণিত কি না, যাচাই করা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে রাসুলুল্লাহ (স.)-এর শেখানো দরুদ অনুসরণ করাই সবচেয়ে নিরাপদ।

দরুদ পাঠ মুমিনের জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ আমল। এটি রাসুলুল্লাহ (স.)-এর প্রতি ভালোবাসা ও আনুগত্যের প্রকাশ। তাই সহিহ সূত্রে বর্ণিত দরুদ নিয়মিত পাঠ করা, তাঁর নাম শুনলে দরুদ পড়া এবং ভিত্তিহীন আমল থেকে দূরে থাকাই একজন মুসলিমের করণীয়। সুন্নাহ অনুযায়ী এই আমল আদায় করলে আল্লাহর রহমত ও অশেষ কল্যাণের আশা করা যায়।

তথ্যসূত্র: আল-কুরআন, সহিহ বুখারি, সহিহ মুসলিম, সুনানে আবু দাউদ, জামে তিরমিজি

বাংলা৭১নিউজ/জেএস