অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ী ঢলে বগুড়ায় যমুনা ও বাঙালি নদীতে পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে যমুনা নদীতে বিপদসীমার ৪০ সেন্টিমিটার নীচ দিয়ে পানি প্রবাহিত হলেও সারিয়াকান্দি, সোনাতলা ও ধুনট উপজেলায় আমন ধানের বীজতলাসহ শত শত একর জমির ফসল পানিতে তলিয়ে গেছে। কৃষকের কষ্টার্জিত ফসল তলিয়ে যাওয়ায় কপালে চিন্তার ভাজ পড়েছে। এছাড়া সারিয়াকান্দি উপজেলার বহাইল ইউনিয়নের চর মাঝিরা গ্রামে ভাঙন শুরু হয়েছে। ভাঙন আতঙ্কে নদীপাড়ের মানুষ তাদের ঘরবাড়ি সরিয়ে নিচ্ছেন।
এদিকে বগুড়া পানি উন্নয়ন বোর্ড ভাঙন কবলিত এলাকা চিহিৃত করে বালুভর্তি জিও ব্যাগ ফেলে নদীতীর রক্ষার চেষ্টা করছে। স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, প্রতি বর্ষা মৌসুমে ভাঙন দেখা দিলেও এর স্থায়ী কোনো সমাধান এখনও হয়নি।
জানা যায়, যমুনা ও বাঙালি নদী বেষ্টিত উপজেলা বগুড়ার সারিয়াকান্দি, সোনাতলা ও ধুনট। সারিয়াকান্দি উপজেলায় হাটশেরপুর ইউনিয়নের চকরথীনাথ, ধনারপাড়া, করনজাপাড়া, শেরপুর, শিমুলবাড়ী, নয়াপাড়া, কর্ণিবাড়ী, দুব্বাগাড়ী, চালুয়াবাড়ী ইউনিয়নের সুজালিরপাড়া ও বহাইল ইউনিয়নের চর মাঝিরা গ্রামে ২০১৫ সাল থেকেই যমুনা নদীর ভাঙন অব্যাহত রয়েছে।
এ বছর এলাকায় আবার ভাঙন দেখা দিয়েছে। চর মাঝিরা গ্রামে পানি বাড়ার কারণে বসতভিটা ও ফসলি জমি ভাঙন হুমকিতে রয়েছে। এছাড়া ধুনট উপজেলায় যমুনা নদীর ভাঙন ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। ভাঙনে শহরবাড়ী স্পারের সামনের অংশ নদীতে বিলীন হয়েছে।
ভাণ্ডারবাড়ী ইউনিয়নে বর্ষার এক মাসেই যমুনার ডান তীরের প্রবল ভাঙনে কৃষক পরিবারের বসতভিটা ও প্রায় ৫০০ বিঘা আবাদি জমি বিলীন হয়ে গেছে। গত বছরে এ ইউনিয়নের শহড়বাড়ী গ্রামে হঠাৎ ভাঙনে নয়টি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান নদীতে বিলীন হয়ে যায়। এবার ভাঙন সরাসরি বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের দিকে ধেয়ে আসায় স্থানীয়দের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
অপরদিকে সোনাতলা উপজেলার নদীকূলীয় এলাকার শত শত একর জমির বিভিন্ন ধরনের ফসল বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। কৃষকের কষ্টার্জিত ফসল বন্যার পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় তাদের স্বপ্ন ধুলিস্যাৎ হয়েছে। বিশেষ করে ওই উপজেলার তেকানীচুকাইনগর, পাকুল্যা ও সোনাতলা সদর ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি চরের শত শত একর জমির ফসল বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে।
স্থানীয়রা বলেন, আকস্মিক বন্যায় ব্যাপক ফসল নষ্ট হয়েছে। এতে আমরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি।
বগুড়া পাউবোর উপবিভাগীয় প্রকৌশলী হুমায়ুন কবির জানান, যমুনা নদীতে উজানের ঢল ও ভারি বর্ষণের কারণে পানি বাড়ছে। ভাঙন শুরুর পরপরই এটি রোধে কার্যকর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ভাঙনকবলিত এলাকায় বালিভর্তি জিওব্যাগ ও টিউব ফেলা হচ্ছে। যা ভাঙনরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
বাংলা৭১নিউজ/এবি



























