ঢাকা ০৩:৫৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ২০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo দুর্গাপূজায় রাত ১০টা পর্যন্ত শপিংমল-দোকান খোলা রাখা যাবে Logo নাইজেরিয়ায় সামরিক বিমান বিধ্বস্ত, ৩২ আরোহীর সবাই নিহত Logo দুদকের মামলায় চট্টগ্রাম ওয়াসার সাবেক গাড়িচালকের কারাদণ্ড Logo ৭ নভেম্বর সাধারণ ছুটি ঘোষণা Logo নতুন ঋণচুক্তি সই, বিশ্বব্যাংক থেকে ৩০ কোটি ডলার পাবে বাংলাদেশ Logo গণমাধ্যমের স্বাধীনতার সঙ্গে জনগণের অধিকার সুরক্ষার তাগিদ তথ্য প্রতিমন্ত্রীর Logo রাবি ছাত্রদলের ৩ নেতা বহিষ্কার, ৬ জনকে শোকজ Logo নারী উদ্যোক্তাদের ঋণ ও সেবা সহজ করতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে: শিল্পমন্ত্রী Logo কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার হাত ধরে সাংবাদিকতার নতুন দিগন্ত : লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের প্রশিক্ষণ সম্পন্ন Logo আপনারা এক পা এগিয়ে এলে আমিও দুই পা যাবো: রাষ্ট্রপতি

সকালে চিয়া সিড খাওয়ার উপকারিতা জানালেন চিকিৎসক

সুস্থ থাকতে খাদ্যতালিকায় পুষ্টিকর খাবার রাখার বিকল্প নেই। স্বাস্থ্যসচেতন মানুষের কাছে দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে চিয়া সিড। ছোট্ট এই বীজে রয়েছে ফাইবার, প্রোটিন, ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্টসহ নানা প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান। তবে চিয়া সিড খাওয়ার উপযুক্ত সময় কখন সকাল, দুপুর নাকি রাত?

পুষ্টিবিদদের মতে, চিয়া সিড খাওয়ার নির্দিষ্ট কোনো সময় নেই। তবে সকালের নাশতা কিংবা মধ্যসকালের নাশতায় এটি খেলে দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখতে সহায়তা করতে পারে।

চিয়া সিডে থাকা ফাইবার ও প্রোটিন ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে। ফলে সকালের নাশতায় এটি রাখলে দুপুরের খাবারের আগে বারবার ক্ষুধা লাগার প্রবণতা কমতে পারে। পাশাপাশি পানির সংস্পর্শে চিয়া সিড জেলির মতো আকার ধারণ করে, যা পেট ভরা অনুভূতি বাড়াতে সাহায্য করে।

১. পুষ্টির জোগান: চিয়া সিডে রয়েছে ফাইবার, প্রোটিন, ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড এবং ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, ফসফরাস, আয়রন ও জিঙ্কের মতো খনিজ উপাদান।

২. হৃদযন্ত্রের সুস্থতা: সুষম খাদ্যাভ্যাসের অংশ হিসেবে চিয়া সিডের ফাইবার কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করতে পারে। এতে থাকা ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডও হৃদ্‌স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী।

৩. ওজন নিয়ন্ত্রণ: ফাইবার ও প্রোটিন দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে। ফলে অতিরিক্ত খাবার খাওয়ার প্রবণতা নিয়ন্ত্রণ করা সহজ হতে পারে।

৪. হজমে সহায়তা: চিয়া সিডের ফাইবার অন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখতে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতে সহায়ক।

৫. রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণ: ফাইবার খাবার থেকে গ্লুকোজ শোষণের গতি ধীর করতে পারে। তবে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে চিয়া সিডের নির্দিষ্ট কার্যকারিতা নিয়ে আরও গবেষণা প্রয়োজন।

৬. অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের উৎস: চিয়া সিডে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরের কোষকে অক্সিডেটিভ স্ট্রেসজনিত ক্ষতি থেকে সুরক্ষায় ভূমিকা রাখতে পারে।

যেভাবে খাবেন চিয়া সিড

চিয়া সিড দই, স্মুদি, ওটস, ফল কিংবা পুডিংয়ের সঙ্গে মিশিয়ে খাওয়া যায়। স্যুপ, সালাদ ও প্যানকেকেও এটি যোগ করা যেতে পারে।

তবে খাওয়ার আগে একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি—শুকনো চিয়া সিড সরাসরি খাওয়া এড়িয়ে চলুন। এটি দ্রুত পানি শোষণ করে ফুলে ওঠে, ফলে গলায় আটকে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তাই পানি বা অন্য কোনো তরলে ভালোভাবে ভিজিয়ে কিংবা দইয়ের মতো আর্দ্র খাবারের সঙ্গে মিশিয়ে খাওয়াই নিরাপদ।

চিয়া সিড পুষ্টিকর খাবার হলেও এটি কোনো রোগের বিকল্প চিকিৎসা নয়। সুস্থ থাকতে সুষম খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত শরীরচর্চা ও পর্যাপ্ত ঘুমের পাশাপাশি পরিমিত পরিমাণে চিয়া সিড খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে পারেন।

সূত্র: ভেরিওয়েল হেলথ

বাংলা৭১নিউজ/জেএস

Tag :

দুর্গাপূজায় রাত ১০টা পর্যন্ত শপিংমল-দোকান খোলা রাখা যাবে

সকালে চিয়া সিড খাওয়ার উপকারিতা জানালেন চিকিৎসক

আপডেট সময় ১২:৫৩:০০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬

সুস্থ থাকতে খাদ্যতালিকায় পুষ্টিকর খাবার রাখার বিকল্প নেই। স্বাস্থ্যসচেতন মানুষের কাছে দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে চিয়া সিড। ছোট্ট এই বীজে রয়েছে ফাইবার, প্রোটিন, ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্টসহ নানা প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান। তবে চিয়া সিড খাওয়ার উপযুক্ত সময় কখন সকাল, দুপুর নাকি রাত?

পুষ্টিবিদদের মতে, চিয়া সিড খাওয়ার নির্দিষ্ট কোনো সময় নেই। তবে সকালের নাশতা কিংবা মধ্যসকালের নাশতায় এটি খেলে দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখতে সহায়তা করতে পারে।

চিয়া সিডে থাকা ফাইবার ও প্রোটিন ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে। ফলে সকালের নাশতায় এটি রাখলে দুপুরের খাবারের আগে বারবার ক্ষুধা লাগার প্রবণতা কমতে পারে। পাশাপাশি পানির সংস্পর্শে চিয়া সিড জেলির মতো আকার ধারণ করে, যা পেট ভরা অনুভূতি বাড়াতে সাহায্য করে।

১. পুষ্টির জোগান: চিয়া সিডে রয়েছে ফাইবার, প্রোটিন, ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড এবং ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, ফসফরাস, আয়রন ও জিঙ্কের মতো খনিজ উপাদান।

২. হৃদযন্ত্রের সুস্থতা: সুষম খাদ্যাভ্যাসের অংশ হিসেবে চিয়া সিডের ফাইবার কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করতে পারে। এতে থাকা ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডও হৃদ্‌স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী।

৩. ওজন নিয়ন্ত্রণ: ফাইবার ও প্রোটিন দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে। ফলে অতিরিক্ত খাবার খাওয়ার প্রবণতা নিয়ন্ত্রণ করা সহজ হতে পারে।

৪. হজমে সহায়তা: চিয়া সিডের ফাইবার অন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখতে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতে সহায়ক।

৫. রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণ: ফাইবার খাবার থেকে গ্লুকোজ শোষণের গতি ধীর করতে পারে। তবে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে চিয়া সিডের নির্দিষ্ট কার্যকারিতা নিয়ে আরও গবেষণা প্রয়োজন।

৬. অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের উৎস: চিয়া সিডে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরের কোষকে অক্সিডেটিভ স্ট্রেসজনিত ক্ষতি থেকে সুরক্ষায় ভূমিকা রাখতে পারে।

যেভাবে খাবেন চিয়া সিড

চিয়া সিড দই, স্মুদি, ওটস, ফল কিংবা পুডিংয়ের সঙ্গে মিশিয়ে খাওয়া যায়। স্যুপ, সালাদ ও প্যানকেকেও এটি যোগ করা যেতে পারে।

তবে খাওয়ার আগে একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি—শুকনো চিয়া সিড সরাসরি খাওয়া এড়িয়ে চলুন। এটি দ্রুত পানি শোষণ করে ফুলে ওঠে, ফলে গলায় আটকে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তাই পানি বা অন্য কোনো তরলে ভালোভাবে ভিজিয়ে কিংবা দইয়ের মতো আর্দ্র খাবারের সঙ্গে মিশিয়ে খাওয়াই নিরাপদ।

চিয়া সিড পুষ্টিকর খাবার হলেও এটি কোনো রোগের বিকল্প চিকিৎসা নয়। সুস্থ থাকতে সুষম খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত শরীরচর্চা ও পর্যাপ্ত ঘুমের পাশাপাশি পরিমিত পরিমাণে চিয়া সিড খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে পারেন।

সূত্র: ভেরিওয়েল হেলথ

বাংলা৭১নিউজ/জেএস