ঢাকা ০৩:০৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২৬, ২২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কিয়েভে রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র-ড্রোন হামলায় নিহত ১১

ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে এক সপ্তাহের মধ্যে দ্বিতীয়বারের মতো বড় ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। এতে অন্তত ১১ জন নিহত এবং ৪৬ জন আহত হয়েছেন।

সোমবার (৬ জুলাই) কিয়েভের সামরিক প্রশাসনের প্রধান তিমুর তকাচেঙ্কোর বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে বিবিসি

তকাচেঙ্কো টেলিগ্রামে জানান, হামলার পর শহরের ২০টিরও বেশি স্থানে উদ্ধার অভিযান চলছে। অন্তত দুটি জেলায় বহুতল আবাসিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই হামলা এমন সময় হলো, যখন ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনকে ঘিরে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক তৎপরতা চলছে। সম্মেলনের ফাঁকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।

হামলার কয়েক ঘণ্টা আগে জেলেনস্কি সতর্ক করে বলেছিলেন, আগের প্রাণঘাতী হামলার পর মস্কো কিয়েভে আরও বড় আক্রমণের প্রস্তুতি নিচ্ছে। গত বৃহস্পতিবারের হামলায় অন্তত ৩০ জন নিহত হয়েছিলেন।

কিয়েভের মেয়র ভিতালি ক্লিচকো জানান, রাশিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র শহরের বিভিন্ন স্থাপনায় আঘাত হানে। এতে একাধিক আবাসিক ভবনে আগুন লাগে। পাশাপাশি কয়েকটি গুদামঘর ও একটি গ্যারেজ ওয়ার্কশপও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এর আগে রোববার সন্ধ্যায় ইউক্রেনের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় ঝাপোরিঝঝিয়া শহরেও দুটি রুশ গাইডেড বোমা হামলা চালানো হয়। এতে দায়িত্ব পালনরত এক পুলিশ কর্মকর্তা নিহত হন এবং আরও দুই পুলিশ সদস্য গুরুতর আহত হন। এছাড়া দুই শিশুসহ অন্তত ১৩ জন আহত হয়েছেন।

আঞ্চলিক গভর্নরের তথ্য অনুযায়ী, ওই হামলায় আবাসিক ভবন, ব্যক্তিগত বাড়িঘর এবং অন্তত ৩৫টি অ্যাপার্টমেন্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এদিকে পূর্ব ইউক্রেনের কৌশলগত শহর কস্তিয়ানতিনিভকা পুরোপুরি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে আবারও দাবি করেছে রাশিয়া। মস্কোর দাবি, নিহত ইউক্রেনীয় সেনাদের মরদেহ হস্তান্তরের জন্য ছয় ঘণ্টার যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দেওয়া হলেও ইউক্রেন তাতে সাড়া দেয়নি।

ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেন, সীমান্তবর্তী রুশ অঞ্চলগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইউক্রেন সীমান্তজুড়ে একটি ‘বাফার জোন’ গড়ে তোলা হচ্ছে। তার দাবি, খারকিভ, সুমি ও দনিপ্রোপেত্রোভস্ক অঞ্চলের কিছু অংশে ধাপে ধাপে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনও সামরিক কমান্ডারদের সঙ্গে বৈঠকে একই অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

তবে রাশিয়ার এসব দাবি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। তিনি অভিযোগ করেন, কস্তিয়ানতিনিভকার পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে বিভ্রান্ত করতে ইচ্ছাকৃতভাবে ভুয়া তথ্য ছড়াচ্ছে মস্কো।

বাংলা৭১নিউজ/এসএএইচ

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

কিয়েভে রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র-ড্রোন হামলায় নিহত ১১

আপডেট সময় ০২:১৫:০৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ জুলাই ২০২৬

ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে এক সপ্তাহের মধ্যে দ্বিতীয়বারের মতো বড় ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। এতে অন্তত ১১ জন নিহত এবং ৪৬ জন আহত হয়েছেন।

সোমবার (৬ জুলাই) কিয়েভের সামরিক প্রশাসনের প্রধান তিমুর তকাচেঙ্কোর বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে বিবিসি

তকাচেঙ্কো টেলিগ্রামে জানান, হামলার পর শহরের ২০টিরও বেশি স্থানে উদ্ধার অভিযান চলছে। অন্তত দুটি জেলায় বহুতল আবাসিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই হামলা এমন সময় হলো, যখন ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনকে ঘিরে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক তৎপরতা চলছে। সম্মেলনের ফাঁকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।

হামলার কয়েক ঘণ্টা আগে জেলেনস্কি সতর্ক করে বলেছিলেন, আগের প্রাণঘাতী হামলার পর মস্কো কিয়েভে আরও বড় আক্রমণের প্রস্তুতি নিচ্ছে। গত বৃহস্পতিবারের হামলায় অন্তত ৩০ জন নিহত হয়েছিলেন।

কিয়েভের মেয়র ভিতালি ক্লিচকো জানান, রাশিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র শহরের বিভিন্ন স্থাপনায় আঘাত হানে। এতে একাধিক আবাসিক ভবনে আগুন লাগে। পাশাপাশি কয়েকটি গুদামঘর ও একটি গ্যারেজ ওয়ার্কশপও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এর আগে রোববার সন্ধ্যায় ইউক্রেনের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় ঝাপোরিঝঝিয়া শহরেও দুটি রুশ গাইডেড বোমা হামলা চালানো হয়। এতে দায়িত্ব পালনরত এক পুলিশ কর্মকর্তা নিহত হন এবং আরও দুই পুলিশ সদস্য গুরুতর আহত হন। এছাড়া দুই শিশুসহ অন্তত ১৩ জন আহত হয়েছেন।

আঞ্চলিক গভর্নরের তথ্য অনুযায়ী, ওই হামলায় আবাসিক ভবন, ব্যক্তিগত বাড়িঘর এবং অন্তত ৩৫টি অ্যাপার্টমেন্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এদিকে পূর্ব ইউক্রেনের কৌশলগত শহর কস্তিয়ানতিনিভকা পুরোপুরি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে আবারও দাবি করেছে রাশিয়া। মস্কোর দাবি, নিহত ইউক্রেনীয় সেনাদের মরদেহ হস্তান্তরের জন্য ছয় ঘণ্টার যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দেওয়া হলেও ইউক্রেন তাতে সাড়া দেয়নি।

ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেন, সীমান্তবর্তী রুশ অঞ্চলগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইউক্রেন সীমান্তজুড়ে একটি ‘বাফার জোন’ গড়ে তোলা হচ্ছে। তার দাবি, খারকিভ, সুমি ও দনিপ্রোপেত্রোভস্ক অঞ্চলের কিছু অংশে ধাপে ধাপে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনও সামরিক কমান্ডারদের সঙ্গে বৈঠকে একই অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

তবে রাশিয়ার এসব দাবি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। তিনি অভিযোগ করেন, কস্তিয়ানতিনিভকার পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে বিভ্রান্ত করতে ইচ্ছাকৃতভাবে ভুয়া তথ্য ছড়াচ্ছে মস্কো।

বাংলা৭১নিউজ/এসএএইচ