শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২৬, ০৪:৪১ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
একক আধিপত্য নয়, প্রয়োজন সব মতের সুস্থ বিনিময় : তথ‍্যমন্ত্রী জুলাই আন্দোলনে শহীদ পরিবার ও আহতদের স্মৃতি স্মারক দিলেন প্রধানমন্ত্রী আওয়ামী লীগের দাফন হয়ে গেছে দিল্লিতে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী খামেনির জানাজায় অংশ না নিতে যুক্তরাষ্ট্রের চাপ, সহায়তা বন্ধের হুমকি বাজেট বাস্তবায়ন হলে অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াবে: অর্থমন্ত্রী জুলাই গণঅভ্যুত্থানে দল-মত ভুলে মানুষ রাস্তায় নামে, তাদের সম্মান করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে কেপ ভার্দের দুর্গ ভেঙে শেষ ষোলোয়ে আর্জেন্টিনা অতিরিক্ত সময়েও থামেনি নাটক, সমতায় ফিরল কেপ ভার্দে খামেনিকে শেষ শ্রদ্ধা জানালেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন জুলাই-আগস্টে দেশে বন্যার আশঙ্কা: এফএফডব্লিউসি

লাল পতাকায় পরিপূর্ণ খামেনির দাফন অনুষ্ঠান, কী বার্তা দিচ্ছে?

বাংলা৭১নিউজ ঢাকা:
  • আপডেট সময় শনিবার, ৪ জুলাই, ২০২৬
  • ১০ বার পড়া হয়েছে

ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির দাফন অনুষ্ঠানে ভক্তদের হাতে বিপুলসংখ্যক লাল পতাকা দেখা গেছে। এ ধরনের পতাকা তার দাফন প্রক্রিয়ায় বিশেষ অর্থ বহন করছে। দেশটির বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) অনুষ্ঠান চলাকালে কোনো ধরনের হামলা হলে তার কঠোর জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে।

তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক মোহাম্মদ এসলামি বলেন, খামেনির দাফন প্রক্রিয়ায় এ ধরনের পতাকা বিশেষ অর্থ বহন করছে। এর মাধ্যমে ভক্তরা সরকারের কাছে সর্বোচ্চ নেতার হত্যার প্রতিশোধ নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছেন।

তিনি বলেন, যারা তাদের সর্বোচ্চ নেতাকে হত্যা করেছে, তাদের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নিতে ভক্তরা ইরান সরকারকে আহ্বান জানাচ্ছেন।

মোহাম্মদ এসলামি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় নিহত এই সাবেক নেতা কেবল রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ ব্যক্তিত্বই ছিলেন না, বরং তিনি এর চেয়েও অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ ছিলেন।

এদিকে খামেনির জানাজায় অংশ নিতে আসা মানুষের জন্য হাজার হাজার স্কুল উন্মুক্ত করা হয়েছে। ইরানের সংবাদ সংস্থা আইএসএনএর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটির শিক্ষামন্ত্রী জানিয়েছেন, খামেনির দাফন প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণকারীদের স্বাগত জানাতে দেশজুড়ে পাঁচ হাজারের বেশি স্কুল এবং প্রায় ৪০ থেকে ৫০ হাজার শ্রেণিকক্ষ খোলা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাবেক এই সর্বোচ্চ নেতার দাফন প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে ১০০টিরও বেশি দেশের প্রতিনিধি এবং লাখ লাখ মানুষ তেহরানে সমবেত হবেন।

ইরানের ইসলামি বিপ্লবের নেতৃত্ব দিয়ে দেশের প্রথম সর্বোচ্চ নেতা হন আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনি। তার মৃত্যুর পর ১৯৮৯ সাল থেকে আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি ইরানের সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। পাহলভি রাজতন্ত্রের অবসান ঘটানো ইসলামি বিপ্লবের আদর্শিক নেতা ছিলেন খোমেনি। অন্যদিকে, সেই বিপ্লবের সামরিক ও আধাসামরিক কাঠামো গড়ে তোলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন খামেনি।

খামেনির মৃত্যুর পর তার উত্তরসূরি হয়েছেন তার ছেলে মোজতবা খামেনি। তার শাসনামলের শুরুতেই এত বড় রাষ্ট্রীয় আয়োজন হতে যাচ্ছে। যদিও সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি এখনো প্রকাশ্যে আসেননি।

আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি ১৯৩৯ সালে উত্তর-পূর্ব ইরানের পবিত্র শিয়া শহর মাশহাদে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের প্রাক্কালে তিনি রাজতন্ত্রবিরোধী আন্দোলনের অন্যতম প্রধান ব্যক্তিত্বে পরিণত হন।

ইরাকের সঙ্গে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের সময় ১৯৮১ থেকে ১৯৮৯ সাল পর্যন্ত তিনি প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির মৃত্যুর পর ১৯৮৯ সালে তিনি সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচিত হন।

খামেনি ইরানের সামরিক ও আধাসামরিক কাঠামোকে আরও শক্তিশালী করেন। পাশাপাশি বহির্বিশ্বের হুমকি মোকাবিলায় একটি উন্নত প্রতিরক্ষা কৌশল প্রতিষ্ঠা করেন। তাঁর শাসনের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ আসে ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে। সে সময় অর্থনৈতিক দুর্দশাকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া বিক্ষোভ দেশব্যাপী অস্থিরতায় রূপ নেয়। পরে ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরানে মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় তিনি নিহত হন।

সূত্র: আল জাজিরা

বাংলা৭১নিউজ/এবি

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2015-2026
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com