ঢাকা ০২:৪৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২৬, ২২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আয়াতুল্লাহ খামেনির জানাজায় ‘ট্রাম্পকে হত্যা করো’ স্লোগান

ইরানের রাজধানী তেহরানে গতকাল রবিবার মার্কিন-ইসরায়েল হামলায় শহীদ সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ও তাঁর পরিবারের চার সদস্যের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ সময় গোটা এলাকা বিশাল জনসমুদ্রে পরিণত হয়। লাখো অংশগ্রহণকারী ধর্মীয় বাণী আওড়ে এবং বুক চাপড়ে এই শহীদ নেতার প্রতি শোক ও শ্রদ্ধা প্রকাশ করেন। শহীদ নেতা ও তাঁর স্বজনদের এই জানাজার সময় কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়।

জানাজা শুরুর আগে সেখানে সমবেত জনতার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলবিরোধী স্লোগান শোনা যায়। একই সঙ্গে খামেনিকে হত্যার প্রতিশোধ নেওয়ার আহ্বানও জানান অনেকে। রবিবার (৫ জুলাই) গ্র্যান্ড মোসাল্লা থেকে আল জাজিরার সাংবাদিক তৌহিদ আসাদি জানান, জানাজায় উপস্থিত মানুষের মধ্যে তীব্র আবেগ ও ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ দেখা গেছে। চারদিক থেকে ‘আমেরিকা ধ্বংস হোক’ এবং ‘ইসরায়েল ধ্বংস হোক’ স্লোগান দেওয়া হয়। সমাবেশে উপস্থিত অনেকেই হত্যাকাণ্ডের প্রতিশোধ নেওয়ার দাবি জানান।

বিভিন্ন বার্তা সংস্থা প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়, জানাজায় অংশ নেওয়া কয়েকজনের হাতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে লক্ষ্যবস্তু হিসেবে উপস্থাপন করা প্রতীকসংবলিত ছবি রয়েছে।

প্রকাশিত একটি ছবিতে জনতার হাতে থাকা একটি ব্যানারে লেখা ছিল, ‘ওয়ান্টেড। পুরস্কার ১০ কোটি ডলার। ট্রাম্প! ইরানের জনগণ শিগগিরই আপনাকে হত্যা করবে।’ একই ধরনের আরেকটি বড় ব্যানার তেহরানের একটি সড়কের পাশেও টানানো হয়েছে। সেখানে থাকা মার্কিন প্রেসিডেন্টের মুখাবয়বের অংশে পথচারীদের লাথি ও লাঠি দিয়ে আঘাত করতে দেখা যায়।

জানাজার নামাজের আগে সমবেত মানুষের উদ্দেশে বক্তব্য দেন ইরানের কবি মোহাম্মদ রাসুলি। তিনি বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্টের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, ‘পৃথিবীর সবচেয়ে নিকৃষ্টতম মানুষটি এখনও কেন বেঁচে আছে?’ এরপর তিনি উপস্থিত জনতার সঙ্গে ‘আমেরিকা ধ্বংস হোক’ এবং ‘ইসরায়েল ধ্বংস হোক’ স্লোগান দেন।

এদিন জানাজার নামাজে লাখো মানুষের সমাগম ঘটে। অনেকে সারারাত মসজিদে অবস্থান করেন, আবার অনেকেই ভোরের আগে এসে উপস্থিত হন যাতে সকাল ৮টার নামাজে অংশ নিতে পারেন। ইরানের জাতীয় পতাকা ও প্রতিশোধের প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত লাল পতাকা হাতে অনেক মানুষ খামেনির ছবি বহন করেন।

প্রসঙ্গত, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় আলী খামেনি নিহত হন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। একই হামলায় তাঁর মেয়ে, জামাতা, ১৪ মাস বয়সী নাতনি এবং বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির স্ত্রীও প্রাণ হারান।

সূত্র : আল-জাজিরা।

বাংলা৭১নিউজ/এসএএইচ

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

আয়াতুল্লাহ খামেনির জানাজায় ‘ট্রাম্পকে হত্যা করো’ স্লোগান

আপডেট সময় ০১:৩০:০২ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ জুলাই ২০২৬

ইরানের রাজধানী তেহরানে গতকাল রবিবার মার্কিন-ইসরায়েল হামলায় শহীদ সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ও তাঁর পরিবারের চার সদস্যের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ সময় গোটা এলাকা বিশাল জনসমুদ্রে পরিণত হয়। লাখো অংশগ্রহণকারী ধর্মীয় বাণী আওড়ে এবং বুক চাপড়ে এই শহীদ নেতার প্রতি শোক ও শ্রদ্ধা প্রকাশ করেন। শহীদ নেতা ও তাঁর স্বজনদের এই জানাজার সময় কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়।

জানাজা শুরুর আগে সেখানে সমবেত জনতার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলবিরোধী স্লোগান শোনা যায়। একই সঙ্গে খামেনিকে হত্যার প্রতিশোধ নেওয়ার আহ্বানও জানান অনেকে। রবিবার (৫ জুলাই) গ্র্যান্ড মোসাল্লা থেকে আল জাজিরার সাংবাদিক তৌহিদ আসাদি জানান, জানাজায় উপস্থিত মানুষের মধ্যে তীব্র আবেগ ও ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ দেখা গেছে। চারদিক থেকে ‘আমেরিকা ধ্বংস হোক’ এবং ‘ইসরায়েল ধ্বংস হোক’ স্লোগান দেওয়া হয়। সমাবেশে উপস্থিত অনেকেই হত্যাকাণ্ডের প্রতিশোধ নেওয়ার দাবি জানান।

বিভিন্ন বার্তা সংস্থা প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়, জানাজায় অংশ নেওয়া কয়েকজনের হাতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে লক্ষ্যবস্তু হিসেবে উপস্থাপন করা প্রতীকসংবলিত ছবি রয়েছে।

প্রকাশিত একটি ছবিতে জনতার হাতে থাকা একটি ব্যানারে লেখা ছিল, ‘ওয়ান্টেড। পুরস্কার ১০ কোটি ডলার। ট্রাম্প! ইরানের জনগণ শিগগিরই আপনাকে হত্যা করবে।’ একই ধরনের আরেকটি বড় ব্যানার তেহরানের একটি সড়কের পাশেও টানানো হয়েছে। সেখানে থাকা মার্কিন প্রেসিডেন্টের মুখাবয়বের অংশে পথচারীদের লাথি ও লাঠি দিয়ে আঘাত করতে দেখা যায়।

জানাজার নামাজের আগে সমবেত মানুষের উদ্দেশে বক্তব্য দেন ইরানের কবি মোহাম্মদ রাসুলি। তিনি বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্টের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, ‘পৃথিবীর সবচেয়ে নিকৃষ্টতম মানুষটি এখনও কেন বেঁচে আছে?’ এরপর তিনি উপস্থিত জনতার সঙ্গে ‘আমেরিকা ধ্বংস হোক’ এবং ‘ইসরায়েল ধ্বংস হোক’ স্লোগান দেন।

এদিন জানাজার নামাজে লাখো মানুষের সমাগম ঘটে। অনেকে সারারাত মসজিদে অবস্থান করেন, আবার অনেকেই ভোরের আগে এসে উপস্থিত হন যাতে সকাল ৮টার নামাজে অংশ নিতে পারেন। ইরানের জাতীয় পতাকা ও প্রতিশোধের প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত লাল পতাকা হাতে অনেক মানুষ খামেনির ছবি বহন করেন।

প্রসঙ্গত, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় আলী খামেনি নিহত হন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। একই হামলায় তাঁর মেয়ে, জামাতা, ১৪ মাস বয়সী নাতনি এবং বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির স্ত্রীও প্রাণ হারান।

সূত্র : আল-জাজিরা।

বাংলা৭১নিউজ/এসএএইচ