ঢাকা ০১:৩৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২৬, ২২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাহাড়ধসে নিহত বেড়ে ৮

কক্সবাজারের উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে টানা ভারি বর্ষণে পৃথক তিনটি পাহাড়ধসে আটজন নিহত হয়েছে।

সোমবার (৬ জুলাই) রাতে উখিয়ার কুতুপালং, জামতলী ও বালুখালি ক্যাম্পে এসব দুর্ঘটনা ঘটে।

উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা( ওসি) মুজিবুর রহমান জানান, সোমবার দিবাগত রাতে উখিয়ার পালংখালী ১৫ নম্বর জামতলী রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ডি/৬ ব্লকে পাহাড়ধসে রোহিঙ্গা যুবক মোহাম্মদ কামাল হোসাইন (৪৪) বসতঘরে মাটিচাপা পড়েন। পরে উদ্ধারকারীরা কামাল হোসাইন, তার স্ত্রী হুমায়রা বেগম (৩৯) এবং তাদের চার বছর বয়সী ছেলে মোহাম্মদ আনাসের মরদেহ উদ্ধার করেন।

এর কিছুক্ষণ পর কুতুপালং ৭ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ডি/৭ ব্লকে পাহাড় থেকে নেমে আসা মাটির নিচে চাপা পড়ে একরাম (৭) নামে এক রোহিঙ্গা শিশুর মৃত্যু হয়। সে ওই ক্যাম্পের বাসিন্দা মোহাম্মদ রশিদের ছেলে।

পরে বালুখালী ১১ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সি/১১ ব্লকে আরও একটি পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটে। এতে উম্মে হাবিবা (২৭), তার বোন তানজিনা আক্তার (১৩), মোহাম্মদ রশিদের ছেলে মোহাম্মদ রিহান (৫) এবং হারুনুর রশিদ (৩) নিহত হয়। এ ঘটনায় আরও একজন আহত হয়েছেন।

উখিয়া ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের কর্মকর্তা ডলার ত্রিপুরা জানান, ভারি বর্ষণের মধ্যে পাহাড়ধসের খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান চালান। পৃথক তিনটি ঘটনায় মোট আটজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পান্না আক্তার জানান, টানা বৃষ্টিপাতের কারণে পাহাড়ধসে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ৮ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে৷। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে গতকালও মাইকিং করে সতর্ক করা হয়েছে। তিনি সবাইকে প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানান।

এর আগে টানা ভারি বৃষ্টিপাতের জেরে উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাহাড়ধসে একই পরিবারের শিশুসহ তিন সদস্য নিহতের খবর পাওয়া যায়। রোববার (৫ জুলাই) দিবাগত রাতে পালংখালী জামতলী রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এ ঘটনা ঘটে।

বাংলা৭১নিউজ/এবি

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাহাড়ধসে নিহত বেড়ে ৮

আপডেট সময় ১২:২৬:৩০ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ জুলাই ২০২৬

কক্সবাজারের উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে টানা ভারি বর্ষণে পৃথক তিনটি পাহাড়ধসে আটজন নিহত হয়েছে।

সোমবার (৬ জুলাই) রাতে উখিয়ার কুতুপালং, জামতলী ও বালুখালি ক্যাম্পে এসব দুর্ঘটনা ঘটে।

উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা( ওসি) মুজিবুর রহমান জানান, সোমবার দিবাগত রাতে উখিয়ার পালংখালী ১৫ নম্বর জামতলী রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ডি/৬ ব্লকে পাহাড়ধসে রোহিঙ্গা যুবক মোহাম্মদ কামাল হোসাইন (৪৪) বসতঘরে মাটিচাপা পড়েন। পরে উদ্ধারকারীরা কামাল হোসাইন, তার স্ত্রী হুমায়রা বেগম (৩৯) এবং তাদের চার বছর বয়সী ছেলে মোহাম্মদ আনাসের মরদেহ উদ্ধার করেন।

এর কিছুক্ষণ পর কুতুপালং ৭ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ডি/৭ ব্লকে পাহাড় থেকে নেমে আসা মাটির নিচে চাপা পড়ে একরাম (৭) নামে এক রোহিঙ্গা শিশুর মৃত্যু হয়। সে ওই ক্যাম্পের বাসিন্দা মোহাম্মদ রশিদের ছেলে।

পরে বালুখালী ১১ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সি/১১ ব্লকে আরও একটি পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটে। এতে উম্মে হাবিবা (২৭), তার বোন তানজিনা আক্তার (১৩), মোহাম্মদ রশিদের ছেলে মোহাম্মদ রিহান (৫) এবং হারুনুর রশিদ (৩) নিহত হয়। এ ঘটনায় আরও একজন আহত হয়েছেন।

উখিয়া ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের কর্মকর্তা ডলার ত্রিপুরা জানান, ভারি বর্ষণের মধ্যে পাহাড়ধসের খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান চালান। পৃথক তিনটি ঘটনায় মোট আটজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পান্না আক্তার জানান, টানা বৃষ্টিপাতের কারণে পাহাড়ধসে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ৮ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে৷। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে গতকালও মাইকিং করে সতর্ক করা হয়েছে। তিনি সবাইকে প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানান।

এর আগে টানা ভারি বৃষ্টিপাতের জেরে উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাহাড়ধসে একই পরিবারের শিশুসহ তিন সদস্য নিহতের খবর পাওয়া যায়। রোববার (৫ জুলাই) দিবাগত রাতে পালংখালী জামতলী রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এ ঘটনা ঘটে।

বাংলা৭১নিউজ/এবি