বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬, ০৬:৩৩ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
আগামী অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি ৭.৫ শতাংশে নামিয়ে আনা হবে : অর্থমন্ত্রী বেইজিং পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গা ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য ১৩৭ কোটি টাকার সহায়তা চুক্তি সংখ্যালঘুদের অধিকার রক্ষায় সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেবে সরকার: মির্জা ফখরুল জাপানের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে প্রাথমিক শিক্ষায় সংস্কার আনা হবে : প্রতিমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ‘বুলেট ট্রেনে’ ডালিয়ান থেকে বেইজিংয়ের পথে নকল পেলে প্রতিষ্ঠান প্রধানকে আইনের আওতায় আনা হবে : শিক্ষামন্ত্রী ‘সবাই তোমাকে ঘৃণা করে’— নেতানিয়াহুকে ট্রাম্পের তিরস্কার নিয়ে তোলপাড় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের বার্ষিক সম্মেলনে অংশ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী

যুক্তরাষ্ট্রকে হারিয়ে আবার বিশ্বের সেরা সুপারকম্পিউটার চীনের

বাংলা৭১নিউজ ডেস্ক:
  • আপডেট সময় বুধবার, ২৪ জুন, ২০২৬
  • ১৩ বার পড়া হয়েছে

বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুতগতির সুপারকম্পিউটারের তালিকায় শীর্ষস্থান দখল করেছে চীন। যুক্তরাষ্ট্রকে হটিয়ে প্রভাবশালী ‘টপ ৫০০’ তালিকায় শীর্ষস্থান পুনর্দখল করল বেইজিং। 

বুধবার (২৪ জুন) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে কাতারের সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা। 

প্রতিবেদনে বলা হয়, মঙ্গলবার (২৩ জুন) জার্মানির হামবুর্গে ঘোষিত অর্ধবার্ষিক এই র‌্যাংকিং অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের ‘এল ক্যাপিটান’-কে ছাড়িয়ে চীনের ‘লাইনশাইন’ এখন বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সুপারকম্পিউটারে পরিণত হয়েছে।

চীনের এই সাফল্য অত্যাধুনিক প্রযুক্তিতে বিশ্বের অন্যতম পরাশক্তি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করার ক্ষেত্রে বেইজিংয়ের ক্রমবর্ধমান সক্ষমতাকেই প্রমাণ করে।

সর্বশেষ ‘টপ ৫০০’ তালিকা অনুযায়ী, চীনের শেনঝেনের ন্যাশনাল সুপারকম্পিউটিং সেন্টারে অবস্থিত ‘লাইনশাইন’ ২ দশমিক ১৯৮ এক্সাফ্লপস পারফরম্যান্স অর্জন করেছে। যার মানে এটি প্রতি সেকেন্ডে ২ কুইন্টিলিয়নেরও (১ কুইন্টিলিয়ন = ১০ এর পিঠে ১৮টি শূন্য) বেশি জটিল গণনা করতে সক্ষম। গতি ও পারফরম্যান্সের দিক থেকে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ‘এল ক্যাপিটান’ থেকে প্রায় ২০ শতাংশ এগিয়ে রয়েছে। 

২০১৭ সালে ‘সানওয়ে তাইহুলাইট’ শীর্ষস্থান অর্জনের পর এই প্রথম কোনো চীনা সুপারকম্পিউটার বিশ্বের এক নম্বর স্থান দখল করল।

ক্যালিফোর্নিয়ার লিভারমোরে অবস্থিত লরেন্স লিভারমোর ন্যাশনাল ল্যাবরেটরির ‘এল ক্যাপিটান’ ২০২৪ সালের নভেম্বর থেকে শীর্ষ পারফর্মিং সিস্টেম হিসেবে নিজের অবস্থান ধরে রেখেছিল।

সর্বশেষ তালিকায় যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যের ওক রিজ ন্যাশনাল ল্যাবরেটরির ‘ফ্রন্টিয়ার’ রয়েছে তৃতীয় স্থানে। চতুর্থ স্থানে রয়েছে ইলিনয়ের ডাউনরস গ্রোভ টাউনশিপের আর্নল্ড ন্যাশনাল ল্যাবরেটরির ‘অরোরা’। পঞ্চম স্থানে রয়েছে জার্মানির জুলিখ সুপারকম্পিউটিং সেন্টারের ‘জুপিটার।’

শীর্ষ ২০-এর মধ্যে স্থান পাওয়া অন্যান্য দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে যুক্তরাজ্য, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, ইতালি, নেদারল্যান্ডস এবং সুইজারল্যান্ড।

টপ৫০০ তালিকার অন্যতম সংগঠক ও টেনেসি বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার বিজ্ঞানের ইমেরিটাস অধ্যাপক জ্যাক ডনগ্যারা বলেন, “সবচেয়ে উন্নত চিপগুলোর ওপর মার্কিন রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও চীন যে প্রযুক্তিতে কতটা স্বাবলম্বী হয়ে উঠছে, লাইনশাইনের সাফল্য তারই প্রমাণ।” 

ডনগ্যারা আল-জাজিরাকে বলেন, “রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ হয়তো চীনের উন্নত চিপ পাওয়ার গতি কিছুটা ধীর করেছে, কিন্তু এটি দেশটিকে নিজস্ব বিকল্প প্রযুক্তি তৈরিতে দারুণভাবে অনুপ্রাণিত করেছে।”

ডনগ্যারা বলেন, “লাইনশাইন ইঙ্গিত করে যে, চীন বড় আকারের বিনিয়োগ ও হার্ডওয়্যার-সফটওয়্যারের সমন্বিত ডিজাইনের মাধ্যমে এর জবাব দিয়েছে।”

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা চ্যাটজিপিটির মতো মডেল চালাতে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন গ্রাফিক্স প্রসেসিং ইউনিট (জিপিইউ) ব্যবহার করা হয়। তবে চীনের লাইনশাইন সম্পূর্ণ ভিন্ন পথে হেঁটে কেবল জেনারেল-পারপাস সেন্ট্রাল প্রসেসিং ইউনিটের (সিপিইউ) ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে। কেবল সিপিইউ ব্যবহার করে ২ এক্সাফ্লপসের বেশি পারফরম্যান্স দেখানো বিশ্বের প্রথম ও একমাত্র সিস্টেম এটি।

১৯৯৩ সাল থেকে এই তালিকাটি বছরে দুইবার প্রকাশিত হয়ে আসছে। কম্পিউটার বিজ্ঞানী এরিখ স্ট্রোমায়ার ও হ্যান্স মেউয়ার এই বিষয়ে একটি সম্মেলনের প্রস্তুতি নেওয়ার সময় প্রথম বিশ্বজুড়ে সুপারকম্পিউটারের পরিসংখ্যান সংকলন করেছিলেন।

এই তালিকাটি লিনপ্যাক বেঞ্চমার্ক ব্যবহার করে সুপারকম্পিউটারগুলোর পারফরম্যান্স মূল্যায়ন করে, যা মূলত একগুচ্ছ রৈখিক সমীকরণ সমাধান করতে কতটুকু সময় লাগে তা পরিমাপ করে।

একসময় চীনের সুপারকম্পিউটারগুলো এই তালিকায় আধিপত্য বিস্তার করেছিল, ২০১৯ সালে তালিকার প্রায় অর্ধেক জায়গা তারাই দখল করে রেখেছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের মধ্যে সম্পর্কের অবনতি হওয়ায় এই র‍্যাংকিংয়ে চীনের অংশগ্রহণ কমে যায়।

কম্পিউটিং শিল্প বিষয়ক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ‘ইন্টারসেক্ট৩৬০ রিসার্চ’-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা অ্যাডিসন স্নেল বলেন, লাইনশাইনের ক্ষমতা দেখে তিনি অবাক হননি, তবে চীনা ডেভেলপাররা যে আবার এই র‍্যাংকিং প্রকল্পে অংশ নিতে শুরু করেছে, সেটি বেশ উল্লেখযোগ্য।

টপ৫০০ তালিকাটি কয়েক দশক ধরে প্রভাবশালী হলেও, কিছু বিশেষজ্ঞ মনে করেন- এআই আসার পর কম্পিউটিং প্রক্রিয়ায় পরিবর্তনের কারণে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই র‍্যাংকিংয়ের প্রাসঙ্গিকতা কিছুটা কমেছে।

মাইক্রোসফট এবং আমাজনের মতো করপোরেট টেক জায়ান্টগুলো আজকের এআই অগ্রগতির অগ্রভাগে থাকলেও, টপ৫০০ তালিকাটি মূলত সরকারি ও একাডেমিক উদ্যোগের মাধ্যমে তৈরি, যারা স্বেচ্ছায় এতে অংশ নেয়।

ইন্টারসেক্ট৩৬০ রিসার্চ’-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা অ্যাডিসন স্নেল আল-জাজিরাকে বলেন, “বিশ্বের শীর্ষ সুপারকম্পিউটার হিসেবে লাইনশাইনের এই র‍্যাংকিং যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ ও জাপানে একটি ঝাঁকুনি সৃষ্টি করবে, কারণ দেশগুলো এআই-এর আধিপত্য বজায় রাখার জন্য ক্রমাগত প্রতিযোগিতা করে যাচ্ছে।”

স্নেল আরো যোগ করেন, “প্রযুক্তির দিক থেকে যুক্তরাষ্ট্র এখনো বিশ্বব্যাপী এগিয়ে রয়েছে, তবে এই ব্যবধান খুব বেশি নয়। দ্রুত পরিবর্তনের এই যুগে বৈশ্বিক ক্রম বিন্যাস খুব দ্রুত বদলে যেতে পারে। ডিজিটাল সার্বভৌমত্ব বর্তমানে সুপারকম্পিউটিং এবং এআই-এর অন্যতম প্রধান আলোচনার বিষয় এবং প্রতিটি অঞ্চলই নিজস্ব সম্পদ ও সক্ষমতা বাড়াতে কাজ করছে।”

এআই-এর মতো শীর্ষস্থানীয় প্রযুক্তিতে বিশ্বব্যাপী আধিপত্য বিস্তারের জন্য চীন ও যুক্তরাষ্ট্র এক তীব্র লড়াইয়ে লিপ্ত রয়েছে। একে অপরের অগ্রগতিকে রুখে দিতে ওয়াশিংটন এবং বেইজিং একে অপরের ওপর একের পর এক নিষেধাজ্ঞা এবং রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ জারি করেছে।

গত এপ্রিলে স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির প্রকাশিত ‘২০২৬ এআই ইনডেক্স রিপোর্ট’-এ দেখা গেছে যে, চীন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এআই মডেলের পারফরম্যান্সের ব্যবধান ‘কার্যকরভাবে কমিয়ে এনেছে’।

ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র যদিও আরো বেশি শীর্ষ মানের এআই মডেল তৈরি করছে, কিন্তু পেটেন্ট ও শিল্পে রোবট স্থাপনের দিক থেকে চীন এগিয়ে রয়েছে।

বাংলা৭১নিউজ/এবি

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2015-2026
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com