হিজাব না পরে ইউটিউবে গান পরিবেশন করায় পারাস্তো আহমাদি নামে ইরানের এক গায়িকা ও তার সহশিল্পীদের ৭৪ বার করে চাবুক মারার নির্দেশ দিয়েছেন দেশটির এক আদালত।
বার্তাসংস্থা এএফপি শনিবার (২০ জুন) ওই গায়িকার ভিডিওগ্রাফার ও স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে।
তিনি ইউটিউবে লাইভে গান পরিবেশন করেন। এ সময় তার সঙ্গে একজন পিয়ানো বাদক, ড্রামার, গিটারিস্ট এবং বেসিস্ট। পারাস্তো আহমাদিসহ তার তার সাত সহযোগীকে চাবুক মারার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তারা ইউটিউবে বিভিন্ন ধরনের গান পরিবেশন করেন। যারমধ্যে শক্তিশালী ও শোকপূর্ণ গান ছিল। এটি মূলত ছিল একটি কনসার্ট। তবে সেখানে স্বশরীরে কোনো দর্শক ছিল না।
ইরানে নারীদের প্রকাশ্যে গান গাওয়া নিষেধ। দেশটির নারীদের সঠিকভাবে পোশাক এবং মাথায় স্কার্ফ পরা বাধ্যতামূলক।
এএফপি জানিয়েছে, ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে ইউটিউবে ওই লাইভ কনসার্টটি করেছিলেন আহমাদি। তার ওই ভিডিও ৩০ লাখ মানুষ দেখেন। এছাড়া ইউটিউবের অন্যান্য চ্যানেলেও কনসার্টটি পুনরায় আপলোড করা হয়।
চাবুক মারার বিষয়টি নিশ্চিত করে আহমাদির ভিডিওগ্রাফার তাহমিনে মোনজাভি গত বৃহস্পতিবার ইনস্টাগ্রামে এক পোস্টে লিখেছেন, “দুই বছর ধরে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড থেকে আমাদের ব্যান করে রাখা, দেশ ছাড়ার ক্ষেত্রেও নিষেধাজ্ঞা দেওয়া। সঙ্গে আমাদের ৭৪ বার চাবুক মারার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”
ইউটিউবে ওই লাইভ কনসার্ট করার পর আহমাদিসহ তার সহযোগীদের ২০২৪ সালেই গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে তাদের জামিন দেওয়া হয়।
ইরানের বিচার বিভাগ সংশ্লিষ্ট মিজান নিউজ ওই সময় জানায়, “আইনি ও ধর্মীয় স্ট্যান্ডার্ড না মেনে গান পরিবেশন করায় তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।”
এই গায়িকা ও তার সহযোগীদের ৭৪ বার করে চাবুক মারার নির্দেশটি দিয়েছেন কোমের প্রাদেশিক অপরাধ আদালত। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল ‘ইন্টারনেটে অশ্লীল ও অনৈতিক কনটেন্ট তৈরি ও প্রকাশ করে শালীনতা ভঙ্গ করা।’
সূত্র: এএফপি
বাংলা৭১নিউজ/এসএএইচ