ঢাকা ০৬:৫০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬, ২৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কার্ড থেকে বিকাশ-নগদে ‘অ্যাড মানি’তে কড়াকড়ি

কার্ড থেকে মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেসের (এমএফএস) ব্যক্তি হিসাবে ‘অ্যাড মানি’ বা টাকা স্থানান্তরের ক্ষেত্রে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

এখন থেকে নিজের নামে নিবন্ধিত এমএফএস হিসাবে অন্য কোনো ব্যক্তির কার্ড ব্যবহার করে টাকা আনা যাবে না। একই সঙ্গে নতুন কোনো কার্ড যুক্ত করার ক্ষেত্রে প্রথমবার সর্বোচ্চ ৫০০ টাকার পরীক্ষামূলক বা ‘টোকেন লেনদেন’ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

আজ (মঙ্গলবার) বাংলাদেশ ব্যাংকের পেমেন্ট সিস্টেমস ডিপার্টমেন্ট (পিএসডি) এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করে সব তফসিলি ব্যাংক ও মোবাইল ব্যাংকিং সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠিয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সার্কুলারে বলা হয়েছে, গ্রাহকের নিরাপত্তার স্বার্থে সাময়িক পদক্ষেপ হিসেবে প্রথমবার কোনো কার্ড এমএফএস হিসাবে যুক্ত করার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৫০০ টাকার একটি টোকেন লেনদেন করতে হবে। এই লেনদেনটি সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার ২৪ ঘণ্টা পর সংশ্লিষ্ট কার্ডটি ওই এমএফএস হিসাবের সঙ্গে স্থায়ীভাবে সংযুক্ত হবে এবং গ্রাহক নিয়মিত লেনদেন করতে পারবেন।

তবে এই নিয়মে কিছুটা ছাড় মিলবে আগামী ১ জুন থেকে।

সার্কুলার অনুযায়ী, আগামী ১ জুন থেকে কার্ড থেকে এমএফএস অ্যাকাউন্টে ‘অ্যাড মানি’ করার ক্ষেত্রে কার্ডধারী এবং এমএফএস হিসাবধারী একই ব্যক্তি কি না তা নিশ্চিত করতে হবে।

অর্থাৎ, কার্ডটি যার নামে, বিকাশ বা নগদ অ্যাকাউন্টটিও তার নামেই নিবন্ধিত হতে হবে। নাম মিলে গেলে কার্ড সংযুক্ত করার ক্ষেত্রে ওই ৫০০ টাকার টোকেন লেনদেনের বাধ্যবাধকতা আর থাকবে না। সরাসরি কার্ড যুক্ত করে নিয়মিত লেনদেন করা যাবে।

সার্কুলারে আরও একটি বড় কারিগরি পরিবর্তনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এতদিন কার্ড থেকে এমএফএসে টাকা আনার প্রক্রিয়াটি অনেক ক্ষেত্রে ‘মার্চেন্ট পেমেন্ট’ হিসেবে দেখানো হতো।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক স্পষ্ট জানিয়েছে, এখন থেকে এই লেনদেনকে মার্চেন্ট পেমেন্টের পরিবর্তে ‘ফান্ড ট্রান্সফার’ হিসেবে বিবেচনা বা চিহ্নিত করতে হবে। একই সঙ্গে লেনদেনটি সম্পন্ন হওয়ার সময় কোন বেনিফিশিয়ারি ওয়ালেট নম্বরে (মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্ট) টাকা যাচ্ছে, তা কার্ড ইস্যুকারী ব্যাংকের কাছে স্পষ্ট ও দৃশ্যমান হতে হবে।

এমএফএস প্রতিষ্ঠানগুলোকে আগামী ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে এই প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কোনো প্রতিষ্ঠান এই সময়সীমার মধ্যে ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হলে, আগামী ১ আগস্ট থেকে ওই প্রতিষ্ঠানের কার্ড থেকে এমএফএস হিসাবে ‘অ্যাড মানি’ করার সুবিধা সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, এমএফএস ব্যক্তি হিসাবের মাধ্যমে অন্য সব লেনদেনের ক্ষেত্রে আগের নিয়ম যথারীতি বহাল থাকবে।

এই নতুন নির্দেশনাটি অবিলম্বে কার্যকর হবে বলেও সার্কুলারে উল্লেখ করা হয়েছে।

বাংলা৭১নিউজ/এসএএইচ

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

কার্ড থেকে বিকাশ-নগদে ‘অ্যাড মানি’তে কড়াকড়ি

আপডেট সময় ০৫:৫৭:০৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২০ মে ২০২৬

কার্ড থেকে মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেসের (এমএফএস) ব্যক্তি হিসাবে ‘অ্যাড মানি’ বা টাকা স্থানান্তরের ক্ষেত্রে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

এখন থেকে নিজের নামে নিবন্ধিত এমএফএস হিসাবে অন্য কোনো ব্যক্তির কার্ড ব্যবহার করে টাকা আনা যাবে না। একই সঙ্গে নতুন কোনো কার্ড যুক্ত করার ক্ষেত্রে প্রথমবার সর্বোচ্চ ৫০০ টাকার পরীক্ষামূলক বা ‘টোকেন লেনদেন’ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

আজ (মঙ্গলবার) বাংলাদেশ ব্যাংকের পেমেন্ট সিস্টেমস ডিপার্টমেন্ট (পিএসডি) এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করে সব তফসিলি ব্যাংক ও মোবাইল ব্যাংকিং সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠিয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সার্কুলারে বলা হয়েছে, গ্রাহকের নিরাপত্তার স্বার্থে সাময়িক পদক্ষেপ হিসেবে প্রথমবার কোনো কার্ড এমএফএস হিসাবে যুক্ত করার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৫০০ টাকার একটি টোকেন লেনদেন করতে হবে। এই লেনদেনটি সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার ২৪ ঘণ্টা পর সংশ্লিষ্ট কার্ডটি ওই এমএফএস হিসাবের সঙ্গে স্থায়ীভাবে সংযুক্ত হবে এবং গ্রাহক নিয়মিত লেনদেন করতে পারবেন।

তবে এই নিয়মে কিছুটা ছাড় মিলবে আগামী ১ জুন থেকে।

সার্কুলার অনুযায়ী, আগামী ১ জুন থেকে কার্ড থেকে এমএফএস অ্যাকাউন্টে ‘অ্যাড মানি’ করার ক্ষেত্রে কার্ডধারী এবং এমএফএস হিসাবধারী একই ব্যক্তি কি না তা নিশ্চিত করতে হবে।

অর্থাৎ, কার্ডটি যার নামে, বিকাশ বা নগদ অ্যাকাউন্টটিও তার নামেই নিবন্ধিত হতে হবে। নাম মিলে গেলে কার্ড সংযুক্ত করার ক্ষেত্রে ওই ৫০০ টাকার টোকেন লেনদেনের বাধ্যবাধকতা আর থাকবে না। সরাসরি কার্ড যুক্ত করে নিয়মিত লেনদেন করা যাবে।

সার্কুলারে আরও একটি বড় কারিগরি পরিবর্তনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এতদিন কার্ড থেকে এমএফএসে টাকা আনার প্রক্রিয়াটি অনেক ক্ষেত্রে ‘মার্চেন্ট পেমেন্ট’ হিসেবে দেখানো হতো।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক স্পষ্ট জানিয়েছে, এখন থেকে এই লেনদেনকে মার্চেন্ট পেমেন্টের পরিবর্তে ‘ফান্ড ট্রান্সফার’ হিসেবে বিবেচনা বা চিহ্নিত করতে হবে। একই সঙ্গে লেনদেনটি সম্পন্ন হওয়ার সময় কোন বেনিফিশিয়ারি ওয়ালেট নম্বরে (মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্ট) টাকা যাচ্ছে, তা কার্ড ইস্যুকারী ব্যাংকের কাছে স্পষ্ট ও দৃশ্যমান হতে হবে।

এমএফএস প্রতিষ্ঠানগুলোকে আগামী ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে এই প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কোনো প্রতিষ্ঠান এই সময়সীমার মধ্যে ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হলে, আগামী ১ আগস্ট থেকে ওই প্রতিষ্ঠানের কার্ড থেকে এমএফএস হিসাবে ‘অ্যাড মানি’ করার সুবিধা সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, এমএফএস ব্যক্তি হিসাবের মাধ্যমে অন্য সব লেনদেনের ক্ষেত্রে আগের নিয়ম যথারীতি বহাল থাকবে।

এই নতুন নির্দেশনাটি অবিলম্বে কার্যকর হবে বলেও সার্কুলারে উল্লেখ করা হয়েছে।

বাংলা৭১নিউজ/এসএএইচ