ঢাকা ০২:২৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬, ২৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

টাটকা ইলিশ-চিংড়ি চেনার উপায়

বর্ষা এলেই বাজারে বাড়ে ইলিশ ও চিংড়ির চাহিদা। তবে বেশি দাম দিলেই যে ভালো মাছ মিলবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। অনেক সময় টাটকা ভেবে বাসি মাছ কিনে ফেলেন ক্রেতারা। তাই বাজারে যাওয়ার আগে টাটকা মাছ চেনার কয়েকটি সহজ লক্ষণ জানা থাকলে ভালো মানের ইলিশ ও চিংড়ি বেছে নেওয়া অনেক সহজ হবে।

টাটকা ইলিশ চিনবেন যেভাবে

ইলিশ কেনার সময় প্রথমেই মাছের চোখ লক্ষ্য করুন। টাটকা ইলিশের চোখ স্বচ্ছ, পরিষ্কার ও কিছুটা উজ্জ্বল থাকে। চোখ যদি ঘোলাটে, দেবে যাওয়া বা নিস্তেজ দেখায়, তাহলে মাছটি পুরোনো হতে পারে।

সম্ভব হলে ফুলকাও দেখে নিন। টাটকা ইলিশের ফুলকা উজ্জ্বল লাল বা গাঢ় গোলাপি রঙের হয়। ফুলকার রং বাদামি, ধূসর বা কালচে হলে সেই মাছ না কেনাই ভালো।

হাতে তুলে দেখুন মাছের শরীর শক্ত কি না। টাটকা ইলিশ সাধারণত শক্ত থাকে। শরীর অতিরিক্ত নরম হলে বা সহজে বাঁকিয়ে গেলে সেটি খুব টাটকা নাও হতে পারে।

এ ছাড়া ভালো ইলিশের গায়ে প্রাকৃতিক রুপালি আভা থাকে। আঁশ সহজে উঠে গেলে বা চামড়া নিস্তেজ দেখালে সতর্ক হতে হবে।

গন্ধও গুরুত্বপূর্ণ। টাটকা ইলিশে হালকা নদী বা সমুদ্রের স্বাভাবিক গন্ধ থাকবে। তীব্র আঁশটে, টক বা অ্যামোনিয়ার মতো গন্ধ পাওয়া গেলে সেই মাছ এড়িয়ে চলাই ভালো।

টাটকা চিংড়ি চেনার উপায়

চিংড়ি কেনার সময় দেখুন মাথা ও শরীর শক্তভাবে লেগে আছে কি না। মাথা যদি ঢিলে হয়ে যায় বা সহজেই আলাদা হয়ে আসে, তাহলে সেটি পুরোনো হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।

টাটকা চিংড়ির খোসা শক্ত, মসৃণ ও চকচকে থাকে। খোসা অতিরিক্ত নরম বা পিচ্ছিল হলে না কেনাই ভালো।

চিংড়ির গায়ে অস্বাভাবিক কালো, লাল বা বাদামি দাগ থাকলে সতর্ক থাকুন। এগুলো মাছের গুণগত মান কমে যাওয়ার ইঙ্গিত হতে পারে।

চিংড়ির শরীর সাধারণত কিছুটা বাঁকানো থাকে। তবে শুধু শরীরের আকৃতি দেখে মাছের মান বা রাসায়নিক ব্যবহারের বিষয় নিশ্চিত হওয়া যায় না।

গন্ধও পরীক্ষা করুন। টাটকা চিংড়িতে স্বাভাবিক সামুদ্রিক গন্ধ থাকবে। যদি অ্যামোনিয়ার মতো তীব্র বা দুর্গন্ধ পাওয়া যায়, তাহলে সেটি না কেনাই নিরাপদ।

মাছ কেনার সময় যা খেয়াল রাখবেন

বিশ্বস্ত ও পরিচ্ছন্ন দোকান থেকে মাছ কেনার চেষ্টা করুন। মাছ যেন বরফের মধ্যে বা পর্যাপ্ত ঠান্ডা পরিবেশে সংরক্ষণ করা থাকে। কেনার পর যত দ্রুত সম্ভব রান্না করুন অথবা ফ্রিজে রেখে দিন। দীর্ঘ সময় রোদে বা গরমে রাখা মাছ না কেনাই ভালো।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, শুধু একটি লক্ষণ দেখে নয়, চোখ, ফুলকা, গন্ধ, শরীরের দৃঢ়তা এবং সংরক্ষণের অবস্থা—সবকিছু মিলিয়ে বিচার করেই ইলিশ বা চিংড়ি কিনলে ভালো মানের মাছ পাওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি থাকে।

বাংলা৭১নিউজ/জেএস

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

টাটকা ইলিশ-চিংড়ি চেনার উপায়

আপডেট সময় ০১:২০:৪৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬

বর্ষা এলেই বাজারে বাড়ে ইলিশ ও চিংড়ির চাহিদা। তবে বেশি দাম দিলেই যে ভালো মাছ মিলবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। অনেক সময় টাটকা ভেবে বাসি মাছ কিনে ফেলেন ক্রেতারা। তাই বাজারে যাওয়ার আগে টাটকা মাছ চেনার কয়েকটি সহজ লক্ষণ জানা থাকলে ভালো মানের ইলিশ ও চিংড়ি বেছে নেওয়া অনেক সহজ হবে।

টাটকা ইলিশ চিনবেন যেভাবে

ইলিশ কেনার সময় প্রথমেই মাছের চোখ লক্ষ্য করুন। টাটকা ইলিশের চোখ স্বচ্ছ, পরিষ্কার ও কিছুটা উজ্জ্বল থাকে। চোখ যদি ঘোলাটে, দেবে যাওয়া বা নিস্তেজ দেখায়, তাহলে মাছটি পুরোনো হতে পারে।

সম্ভব হলে ফুলকাও দেখে নিন। টাটকা ইলিশের ফুলকা উজ্জ্বল লাল বা গাঢ় গোলাপি রঙের হয়। ফুলকার রং বাদামি, ধূসর বা কালচে হলে সেই মাছ না কেনাই ভালো।

হাতে তুলে দেখুন মাছের শরীর শক্ত কি না। টাটকা ইলিশ সাধারণত শক্ত থাকে। শরীর অতিরিক্ত নরম হলে বা সহজে বাঁকিয়ে গেলে সেটি খুব টাটকা নাও হতে পারে।

এ ছাড়া ভালো ইলিশের গায়ে প্রাকৃতিক রুপালি আভা থাকে। আঁশ সহজে উঠে গেলে বা চামড়া নিস্তেজ দেখালে সতর্ক হতে হবে।

গন্ধও গুরুত্বপূর্ণ। টাটকা ইলিশে হালকা নদী বা সমুদ্রের স্বাভাবিক গন্ধ থাকবে। তীব্র আঁশটে, টক বা অ্যামোনিয়ার মতো গন্ধ পাওয়া গেলে সেই মাছ এড়িয়ে চলাই ভালো।

টাটকা চিংড়ি চেনার উপায়

চিংড়ি কেনার সময় দেখুন মাথা ও শরীর শক্তভাবে লেগে আছে কি না। মাথা যদি ঢিলে হয়ে যায় বা সহজেই আলাদা হয়ে আসে, তাহলে সেটি পুরোনো হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।

টাটকা চিংড়ির খোসা শক্ত, মসৃণ ও চকচকে থাকে। খোসা অতিরিক্ত নরম বা পিচ্ছিল হলে না কেনাই ভালো।

চিংড়ির গায়ে অস্বাভাবিক কালো, লাল বা বাদামি দাগ থাকলে সতর্ক থাকুন। এগুলো মাছের গুণগত মান কমে যাওয়ার ইঙ্গিত হতে পারে।

চিংড়ির শরীর সাধারণত কিছুটা বাঁকানো থাকে। তবে শুধু শরীরের আকৃতি দেখে মাছের মান বা রাসায়নিক ব্যবহারের বিষয় নিশ্চিত হওয়া যায় না।

গন্ধও পরীক্ষা করুন। টাটকা চিংড়িতে স্বাভাবিক সামুদ্রিক গন্ধ থাকবে। যদি অ্যামোনিয়ার মতো তীব্র বা দুর্গন্ধ পাওয়া যায়, তাহলে সেটি না কেনাই নিরাপদ।

মাছ কেনার সময় যা খেয়াল রাখবেন

বিশ্বস্ত ও পরিচ্ছন্ন দোকান থেকে মাছ কেনার চেষ্টা করুন। মাছ যেন বরফের মধ্যে বা পর্যাপ্ত ঠান্ডা পরিবেশে সংরক্ষণ করা থাকে। কেনার পর যত দ্রুত সম্ভব রান্না করুন অথবা ফ্রিজে রেখে দিন। দীর্ঘ সময় রোদে বা গরমে রাখা মাছ না কেনাই ভালো।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, শুধু একটি লক্ষণ দেখে নয়, চোখ, ফুলকা, গন্ধ, শরীরের দৃঢ়তা এবং সংরক্ষণের অবস্থা—সবকিছু মিলিয়ে বিচার করেই ইলিশ বা চিংড়ি কিনলে ভালো মানের মাছ পাওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি থাকে।

বাংলা৭১নিউজ/জেএস