বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬, ০৭:৫১ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
রাজধানী ঘিরে বৃত্তাকার সড়ক ও নৌপথের অগ্রগতি কতটা, জানলেন প্রধানমন্ত্রী ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা ও অনলাইন প্রচারণা জোরদারের আহ্বান মির্জা ফখরুলের সদর হাসপাতালগুলোতে সিসিইউ চালু করা গেলে মৃত্যুহার কমানো সম্ভব : জুবাইদা রহমান সংবিধান সংস্কারে সুযোগ না পেলে জনগণের ম্যান্ডেট বাস্তবায়নের আন্দোলন চলবে সন্ত্রাসবাদকে কখনোই যৌক্তিক বলা যেতে পারে না : পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী পাকিস্তানে কোচিং সেন্টারের ছাদ ধসে ১৪ শিশু নিহত এভারকেয়ারে নজরুল ইসলাম খান, ভিড় না করার অনুরোধ চিকিৎসকদের টেক্সটাইল, গবেষণা ও কারিগরি শিক্ষায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেবে সরকার : শিক্ষামন্ত্রী নতুন ৩ উপজেলা ও ১ থানা অনুমোদন সরকার জনগণের প্রতি খুবই আন্তরিক : হুমায়ুন কবির

চন্দ্র অভিযানে হিউম্যানয়েড রোবট, নতুন প্রযুক্তি উন্মোচন চীনের

বাংলা৭১নিউজ,ডেস্ক:
  • আপডেট সময় বৃহস্পতিবার, ১৪ মে, ২০২৬
  • ৫৪ বার পড়া হয়েছে

চন্দ্র অভিযানকে সামনে রেখে উন্নত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইওয়ালা হিউম্যানয়েড রোবট উন্মোচন করেছে চীন। হংকংয়ের বিজ্ঞানীদের তৈরি এ রোবটটি চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতি স্থাপন ও পরিবহনের কাজ করবে।

২০৩০ সালের মধ্যে চাঁদে নভোচারী পাঠানোর লক্ষ্যেই চীন এ বিশেষ প্রস্তুতি নিয়েছে বলে প্রতিবেদনে লিখেছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ইন্ডিপেনডেন্ট। ২০২৯ সালের ‘চাং-ই-৮’ অভিযানের অংশ হিসেবে রোবটটিকে চাঁদে পাঠানোর পরিকল্পনা করেছে চীন। রোবটটির নকশা তৈরি করেছে ‘হংকং ইউনিভার্সিটি অফ সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি’। একশ কেজি ওজনের এ রোবটটি একজন ‘কুলি’ বা বহনকারী হিসেবে কাজ করবে।

চাঁদে নভোচারী নামার আগেই রোবটটি বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতি এক স্থান থেকে অন্য স্থানে নিয়ে যাওয়া ও সেগুলো স্থাপন করার দায়িত্ব পালন করবে। রোবটটির গঠন বেশ চমকপ্রদ। এর দেহের উপরের অংশ দেখতে মানুষের মতো ও দুটি হাত রয়েছে। দেহের নিচের অংশে রয়েছে চার চাকার একটি মডিউল, যা সৌরশক্তির মাধ্যমে চলবে।

‘হংকং ইউনিভার্সিটি অফ সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি’র অধ্যাপক গাও ইয়াং বলেছেন, “আমরা শুনেছি, চাং-ই-৭ অভিযানে সম্ভবত প্রথমবারের মতো চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে হিউম্যানয়েড রোবট নামানো হবে। তবে আমাদের রোবটটি দক্ষিণ মেরুর ভিন্ন এক অংশে যাবে। চাঁদের এলাকাটি অনেক বড় ও আর আমরা এর পুরো অংশ নিয়েই আগ্রহী। চাঁদে হিউম্যানয়েড রোবট ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমাদের এ উদ্যোগ নতুন দৃষ্টান্ত হবে, যা চীন পরিচালনা করছে। এ নকশাটি নিয়ে আমরা গর্বিত।

তিনি আরও বলেছেন, রোবটটিতে থাকা এআই যে কোনো বস্তু শনাক্ত এবং সেটির গতিবিধি অনুসরণ করতে পারবে। ফলে কোনো কাজ শুরুর আগেই রোবটটি নিজে থেকেই পরিকল্পনা বা কৌশল তৈরিতে সক্ষম হবে।

গত কয়েক দশক ধরে উচ্চাকাঙ্ক্ষী মহাকাশ কর্মসূচি চালানোর পর চীন ২০৩০ সালের মধ্যে চাঁদের পৃষ্ঠে মানুষ পাঠানোর পরিকল্পনা করছে। অন্যদিকে, নাসা তাদের ‘আর্টেমিস চার’ অভিযানের অংশ হিসেবে ২০২৮ সালের মধ্যে নভোচারীদের চাঁদে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য নিয়েছে। সংস্থাটির প্রাথমিক পরিকল্পনা ছিল ২০২৪ সালেই চাঁদে মানুষ নামানো। কারিগরি জটিলতা ও উন্নয়নমূলক কাজের ধীরগতির কারণে নাসার এ সময়সূচী বেশ কয়েকবার পরিবর্তন হয়েছে।

কিছু বিশেষজ্ঞ সতর্ক করে বলেছেন, ইলন মাস্কের রকেট কোম্পানি স্পেসএক্সের ‘স্টারশিপ হিউম্যান ল্যান্ডিং সিস্টেম’ নিয়ে এ বছর অগ্রগতি না হলে এ লক্ষ্যমাত্রা আরও পিছিয়ে যেতে পারে। মহাকাশযানটির বড় আকারের কারণে নিরাপদে অবতরণ ও ফিরে আসার জন্য মহাকাশেই জ্বালানি ভরার প্রয়োজন হবে, যা এভাবে আগে কখনো করা সম্ভব হয়নি।

গেল সেপ্টেম্বরে সেনেট কমিটির এক শুনানিতে নাসার সাবেক প্রশাসক জিম ব্রাইডেনস্টাইন বলেছিলেন, স্পেসএক্সের রকেটটির এ জটিলতার কারণে চাঁদে মানুষ পাঠানোর দৌড়ে যুক্তরাষ্ট্র চীনের পেছনে পড়ে যেতে পারে।

তিনি আরও বলেন, আমাদের এ জটিল প্রক্রিয়ার জন্য খুব অল্প সময়ের মধ্যে এক ডজন বা তারও বেশি রকেট উৎক্ষেপণ প্রয়োজন। বিষয়টি এমন কিছু কঠিন প্রযুক্তির ওপর নির্ভরশীল, যা এখনও পুরোপুরি তৈরি হয়নি, যেমন মহাকাশে অতিশীতল বা ক্রায়োজেনিক জ্বালানি ভরা। এমনটি এখনও মানুষ ব্যবহারের জন্য নিরাপদ হিসেবে স্বীকৃতি পায়নি। পরিস্থিতির পরিবর্তন না হলে চীনের নির্ধারিত সময়ের আগে যুক্তরাষ্ট্রের চাঁদের পৃষ্ঠে পৌঁছানোর সম্ভাবনা খুবই কম।

তার এমন মন্তব্যের পর স্পেসএক্সের স্টারশিপ কেবল দুটি পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ সম্পন্ন করেছে এবং পরবর্তী উৎক্ষেপণটি এ মাসের শেষদিকে হওয়ার কথা রয়েছে।

তথ্য সূত্র-  ইন্ডিপেনডেন্ট।

বাংলা৭১নিউজ/এসএএইচ

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2015-2026
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com