
পশ্চিমবঙ্গে টানটান উত্তেজনার মধ্যে চলছে বিধানসভা নির্বাচনে দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণ। এ দফায় রাজ্যের সাত জেলার ১৪২টি বিধানসভা আসনে ভোট হচ্ছে। এদিন ভাগ্য নির্ধারণ হতে যাচ্ছে মমতা ব্যানার্জি, শুভেন্দু অধিকারীসহ মোট ১ হাজার ৪৪৮ জন প্রার্থীর। ভোটের এই মহারণে শেষ হাসিটা কে হাসবেন, তা নিয়ে এরই মধ্যে শুরু হয়েছে জল্পনা-কল্পনা।
এই নির্বাচন শাসক ও বিরোধী দল—উভয়ের জন্যই অস্তিত্বের প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। একদিকে মমতা ব্যানার্জির নেতৃত্বে তৃণমূল কংগ্রেসের কাছে এক দশকেরও বেশি সময়ের ক্ষমতা ধরে রাখার চ্যালেঞ্জ, অন্যদিকে বিজেপির কাছে এটি বাংলার মসনদ দখলের চূড়ান্ত লড়াই।
২০১১ সালে দীর্ঘ বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে ক্ষমতায় আসা তৃণমূল কংগ্রেস টানা তিনবার সাফল্যের মুখ দেখেছে। ২০২১ সালের নির্বাচনে বিজেপিকে বড় ব্যবধানে হারিয়ে হ্যাটট্রিক করেন মমতা। উপনির্বাচনের পর বিধানসভায় তাদের আসন সংখ্যা পৌঁছায় ২১৫-তে। তৃণমূলের লক্ষ্য এখন চতুর্থবার নবান্নে ফেরা।
২০২১ সালে ৭৭ আসন জিতে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে উঠে আসা বিজেপির লড়াই এবার আরও কঠিন। উপনির্বাচন এবং বিধায়কদের দলবদলের কারণে বর্তমানে তাদের আসন সংখ্যা ৭৫-এ দাঁড়িয়েছে। দলের ভাঙন রোধ করে এবং বুথ স্তরে সংগঠন মজবুত করে এবার তৃণমূলকে উৎখাত করতে মরিয়া গেরুয়া শিবির।
২০২১-এর ভোটে বাংলার রাজনীতিতে বড়সড় পরিবর্তন দেখা গিয়েছিল। স্বাধীনতা পরবর্তীকালে সেই প্রথম বিধানসভায় কোনো বাম বা কংগ্রেস প্রতিনিধি ছিল না। ফলে এবারের নির্বাচনে বাম এবং কংগ্রেসের জন্য প্রধান লক্ষ্য হবে নিজেদের হারানো জনভিত্তি ফিরে পাওয়া এবং বিধানসভায় ফের জায়গা করে নেওয়া।
আগামী ৪ মে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ভোট গণনা অনুষ্ঠিত হবে। ফলে ওই দিনই জানা যেতে পারে শেষ হাসিটা কে হাসছেন।
বাংলা৭১নিউজ/এসএস