ঢাকা ০৮:০৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo ফরিদপুরের রাজপরিবারে জন্ম, কৈশোরে মুম্বাইয়ের বস্তিতে বাস— কে এই গায়িকা Logo ককরোচ পার্টির আন্দোলন মোদি সরকারের জন্য বিপদঘণ্টা Logo স্থানীয় সরকার নির্বাচনে যাদের প্রার্থী হতে দেবে না ইসি! Logo শিল্পকলায় রুনা লায়লার সংগীতানুষ্ঠান শুক্রবার Logo প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী পদে দায়িত্ব গ্রহণ করলেন রাশেদ Logo মোদির বাসভবনের সামনে থেকে রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা আটক Logo শহীদ জিয়ার রাজনীতিক হয়ে ওঠার পেছনে অন্যতম কারিগর ছিলেন যাদু মিয়া: তথ্যমন্ত্রী Logo জোরালো হচ্ছে মোদির পদত্যাগের দাবি Logo সরকার সাইবার বুলিংয়ের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে: তথ্য উপদেষ্টা Logo তেজগাঁওয়ে ভাঙারি ব্যবসায়ী হত্যা, র‌্যাবের হাতে গ্রেপ্তার ২

পদ্মার বুকে বাঁশের বাঁধে নিধন হচ্ছে শতশত মণ জাটকা

ফরিদপুরের সদরপুরে পদ্মা নদীর বুকে বাঁশের বাঁধ দিয়ে চলছে অবাধে জাটকা নিধন। নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে আড়া-আড়ি বাঁশের বাধ নির্মাণ করে প্রতিদিন শতশত মণ জাটকা ধরা হচ্ছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ওই এলাকায় অন্তত ২৫টি স্থানে এ ধরনের বাঁশের বাঁধ দিয়ে জাটকা শিকার করা হচ্ছে। উপজেলার আকোটের চর ইউনিয়নের শয়তানখালী, দিয়ারা নারিকেলবাড়িয়ার সোনপচা ও চর নাছিরপুর ইউনিয়ন পদ্মা নদীর বিস্তীর্ণ অংশজুড়ে বাঁশ পুঁতে তৈরি করা হয়েছে অস্থায়ী বাঁধ।

বাঁধের সঙ্গে বসানো হয়েছে সূক্ষ্ম ফাঁসের জাল। কোথাও ব্যবহার করা হচ্ছে নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল, কোথাও আবার টানা জাল দিয়ে অবাধে জাটকা ধরা হচ্ছে। নদীতে মাছের স্বাভাবিক চলাচল বাধাগ্রস্ত হওয়ায় বিপুল পরিমাণ জাটকা এসব ফাঁদে আটকা পড়ছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক জেলে জানান, এক একটি বাঁধে ৫-৬ জন করে জেলে ২৪ ঘণ্টা জাটকা শিকার করেন। জাটকা স্থানীয় বাজারে বিক্রির পাশাপাশি পাইকারদের মাধ্যমে নদী পথে দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠানো হচ্ছে। ফলে প্রশাসনের নজরদারি এড়িয়ে সহজেই বাজারজাত হচ্ছে বিপুল পরিমাণ জাটকা।

পদ্মাপাড়ে বাসিন্দাদের অভিযোগ, জাটকা নিধন অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে ইলিশের উৎপাদন মারাত্মকভাবে হ্রাস পেতে পারে। সরকার প্রতিবছর নির্দিষ্ট সময়ে জাটকা রক্ষায় অভিযান পরিচালনা করলেও বছরের অন্যান্য সময়ে নজরদারির নেই বললেও চলে। আবার অভিযানে এলেও বাঁধ পুরোপুরি অপসারণ না করে কয়েকটি বাঁশ কেটে চলে যায়।

নজরুল ইসলাম নামে স্থানীয় এক ব্যক্তি জানান, জাটকা রক্ষায় শুধু অভিযান নয়, জেলেদের বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থাও নিশ্চিত করতে হবে। তা না হলে নদীতে এ ধরনের অবৈধ শিকার বন্ধ করা কঠিন হবে। পদ্মার ইলিশ রক্ষায় এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে চড়া মূল্য দিতে হবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সদরপুর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মেহেদী হাসান বলেন, অবৈধ বাধ ও নিষিদ্ধ জালের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। তবে নদী এলাকার বিস্তৃতি ও জনবল সংকটের কারণে সব স্থান একযোগে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হচ্ছে না। তারপরও এ বিষয়ে আমরা সচেষ্ট রয়েছি।

বাংলা৭১নিউজ/এআরকে

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

ফরিদপুরের রাজপরিবারে জন্ম, কৈশোরে মুম্বাইয়ের বস্তিতে বাস— কে এই গায়িকা

পদ্মার বুকে বাঁশের বাঁধে নিধন হচ্ছে শতশত মণ জাটকা

আপডেট সময় ১২:৩৯:৩৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ফরিদপুরের সদরপুরে পদ্মা নদীর বুকে বাঁশের বাঁধ দিয়ে চলছে অবাধে জাটকা নিধন। নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে আড়া-আড়ি বাঁশের বাধ নির্মাণ করে প্রতিদিন শতশত মণ জাটকা ধরা হচ্ছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ওই এলাকায় অন্তত ২৫টি স্থানে এ ধরনের বাঁশের বাঁধ দিয়ে জাটকা শিকার করা হচ্ছে। উপজেলার আকোটের চর ইউনিয়নের শয়তানখালী, দিয়ারা নারিকেলবাড়িয়ার সোনপচা ও চর নাছিরপুর ইউনিয়ন পদ্মা নদীর বিস্তীর্ণ অংশজুড়ে বাঁশ পুঁতে তৈরি করা হয়েছে অস্থায়ী বাঁধ।

বাঁধের সঙ্গে বসানো হয়েছে সূক্ষ্ম ফাঁসের জাল। কোথাও ব্যবহার করা হচ্ছে নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল, কোথাও আবার টানা জাল দিয়ে অবাধে জাটকা ধরা হচ্ছে। নদীতে মাছের স্বাভাবিক চলাচল বাধাগ্রস্ত হওয়ায় বিপুল পরিমাণ জাটকা এসব ফাঁদে আটকা পড়ছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক জেলে জানান, এক একটি বাঁধে ৫-৬ জন করে জেলে ২৪ ঘণ্টা জাটকা শিকার করেন। জাটকা স্থানীয় বাজারে বিক্রির পাশাপাশি পাইকারদের মাধ্যমে নদী পথে দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠানো হচ্ছে। ফলে প্রশাসনের নজরদারি এড়িয়ে সহজেই বাজারজাত হচ্ছে বিপুল পরিমাণ জাটকা।

পদ্মাপাড়ে বাসিন্দাদের অভিযোগ, জাটকা নিধন অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে ইলিশের উৎপাদন মারাত্মকভাবে হ্রাস পেতে পারে। সরকার প্রতিবছর নির্দিষ্ট সময়ে জাটকা রক্ষায় অভিযান পরিচালনা করলেও বছরের অন্যান্য সময়ে নজরদারির নেই বললেও চলে। আবার অভিযানে এলেও বাঁধ পুরোপুরি অপসারণ না করে কয়েকটি বাঁশ কেটে চলে যায়।

নজরুল ইসলাম নামে স্থানীয় এক ব্যক্তি জানান, জাটকা রক্ষায় শুধু অভিযান নয়, জেলেদের বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থাও নিশ্চিত করতে হবে। তা না হলে নদীতে এ ধরনের অবৈধ শিকার বন্ধ করা কঠিন হবে। পদ্মার ইলিশ রক্ষায় এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে চড়া মূল্য দিতে হবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সদরপুর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মেহেদী হাসান বলেন, অবৈধ বাধ ও নিষিদ্ধ জালের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। তবে নদী এলাকার বিস্তৃতি ও জনবল সংকটের কারণে সব স্থান একযোগে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হচ্ছে না। তারপরও এ বিষয়ে আমরা সচেষ্ট রয়েছি।

বাংলা৭১নিউজ/এআরকে