আধাপাকা টিনশেডের আবাসিক ভবন। একসময় বসবাস ছিল স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ কেন্দ্রের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের।
তবে জরাজীর্ণ হয়ে পড়ায় দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে। এই সুযোগে ভবনটি এখন মাদকসেবীদের আখড়া। চলে অন্যান্য অসামাজিক কর্মকাণ্ডও।
কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার জাঙ্গালিয়া ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণকেন্দ্রের পরিত্যক্ত আবাসিক ভবনটির চিত্র এটি।
সোমবার (১৭ আগস্ট) সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, পরিত্যক্ত ভবনটির চারদিকে সুনসান নীরবতায়। চারপাশে বেড়ে উঠেছে আগাছা। দরজা-জানালা ভাঙা, দেয়ালের বিভিন্ন অংশ জরাজীর্ণ, পলেস্তরা খসে পড়েছে, দেওয়ালজুড়ে শেওলা। প্রতিটি কক্ষে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে ময়লা-আবর্জনা, সিগারেটের প্যাকেট, ইয়াবাসহ মাদকের নানা আলামত।
অন্যান্য অসামাজিক কর্মকাণ্ডের আলামতও রয়েছে।
জাঙ্গালিয়া বাজারের ব্যবসায়ী আলমগীর হোসেন বলেন, প্রতিদিন সন্ধ্যার পর পরিত্যক্ত ভবনটিতে অপরিচিত মানুষের আনাগোনা শুরু হয়, চলে গভীর রাত পর্যন্ত। কিছুদিন আগে রাতের বেলায় বাজারের পাহারাদারদের সঙ্গে নিয়ে কয়েকজন স্থানীয় ব্যক্তি ওই ভবন থেকে এক নারীকে আটক করেন। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের পর স্থানীয় কয়েকজনের নাম বলেন ওই নারী। পরে এখানে আর কোনোদিন আসবেন না- এমন শর্তে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
জাঙ্গালিয়া বাজার বণিক সমিতির সাবেক সভাপতি আশরাফুল আলম রিপন বলেন, ‘ভবনটিতে দীর্ঘদিন ধরে মাদক ও অসামাজিক কার্যকলাপ চলে আসছে। বিষয়টি হাসপতাল কর্তৃপক্ষকে জানানোর পরও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আমাদের দাবি, ভবনটি ভেঙে নতুন ভবন নির্মাণ করে সেখান থেকে মাদক ও অনৈতিক কর্মকাণ্ড বন্ধ করা হোক।
এ ব্যাপারে উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা শামীমা আক্তার খাতুন বলেন, আবাসিক ভবনটি ইতোমধ্যে পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। ভবনটি দ্রুত নিলামের মাধ্যমে ভেঙে সেখানে একটি নতুন ভবন নির্মাণের জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রূপম দাস বলেন, ‘একটি সরকারি প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের কার্যক্রম কোনোভাবেই কাম্য নয়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে অতি দ্রুত এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা নেওয়া হবে।
বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ























