শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬, ০৭:৪৯ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
এইচএসসি পরীক্ষার প্রতিটি কক্ষে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের নির্দেশ বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক সর্বোচ্চ ধাপে পৌঁছেছে: পররাষ্ট্রমন্ত্রী ‘সম্মিলিত উদ্যোগে টেকসই অঙ্গদান ও কিডনি প্রতিস্থাপন ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব’ করিডরে বাংলাদেশ যুক্ত হলে ২৪ ঘণ্টায় চীনে পণ্য পৌঁছানো যাবে : বাণিজ্যমন্ত্রী ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’, যা কিছু অর্জন তা দেশের মানুষের : সংসদে প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া-চীন সফর পররাষ্ট্রনীতির মানদণ্ড নিশ্চিত করেছে দেশে ফিরে বাবা-মায়ের কবর জিয়ারত প্রধানমন্ত্রীর রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে চীন ইতিবাচক ইঙ্গিত দিয়েছে : মির্জা ফখরুল চুক্তি হতে হবে সমতার ভিত্তিতে, সংসদকে পাশ কাটিয়ে কিছু নয় প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া এবং চীন সফরের জন্য সংসদে ধন্যবাদ প্রস্তাব

২৪ ঘণ্টায় ইরানের আশপাশে ৫০ যুদ্ধবিমান পাঠাল যুক্তরাষ্ট্র্র

বাংলা৭১নিউজ ডেস্ক:
  • আপডেট সময় বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ৬৩ বার পড়া হয়েছে

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রে উত্তেজনার মধ্যে ট্রাম্প প্রশাসনের নির্দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় অন্তত ৫০টি অত্যাধুনিক মার্কিন যুদ্ধবিমান মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন করা হয়েছে। এফ-৩৫, এফ-২২ এবং এফ-১৬ এর মতো শক্তিশালী স্টিলথ ফাইটার জেট রয়েছে এই বহরে। 

পেন্টাগনের বিশাল সমরপ্রস্তুতিকে অনেকেই তেহরানের ওপর বড় ধরনের সামরিক অভিযানের পূর্বভাস হিসেবে দেখছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলোর দাবি, ইরান যদি পরমাণু ইস্যুতে সমঝোতায় না আসে, তবে ট্রাম্প প্রশাসন দীর্ঘমেয়াদী সামরিক পদক্ষেপের পরিকল্পনা করে রেখেছে।

এদিকে মার্কিন সামরিক তৎপরতার পাল্টা জবাব হিসেবে ইরানও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীতে বড় ধরনের নৌ-মহড়া শুরু করেছে। সামরিক মহড়ার নামে তেহরান ইতিমধ্যে এই সমুদ্রপথের একটি অংশ কয়েক ঘণ্টার জন্য বন্ধ করে দিয়েছে। বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের প্রায় ২০ শতাংশ এই সরু জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে হরমুজ প্রণালী বন্ধ হওয়ার খবরে বিশ্ব বাজারে জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। 

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, যেকোনো মার্কিন রণতরী ডুবিয়ে দেওয়ার মতো বিধ্বংসী অস্ত্র ইরানের ভাণ্ডারে মজুত রয়েছে।

পারমাণবিক কর্মসূচির ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গত মঙ্গলবার জেনেভায় ওমানের মধ্যস্থতায় দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা হয়েছে। বৈঠকে মার্কিন প্রতিনিধি দলে ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার ও বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ অংশ নেন।

আলোচনার পর ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি একে ইতিবাচক ও গঠনমূলক বলে অভিহিত করেছেন। তবে হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কিছু ক্ষেত্রে অগ্রগতি হলেও চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছাতে এখনো অনেক পথ বাকি এবং ইরানের পরবর্তী প্রস্তাবের ওপরই নির্ভর করছে যুদ্ধের বদলে শান্তি আসবে কি না।

ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্যগুলো পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। তিনি একদিকে যেমন আলোচনার মাধ্যমে একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর আশাবাদ ব্যক্ত করছেন, অন্যদিকে ইরানের অভ্যন্তরীণ বিক্ষোভ দমন ও পারমাণবিক সক্ষমতা নিয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি দিচ্ছেন।

এমনকি ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সাথে এক বৈঠকে ট্রাম্প জানিয়েছেন, আলোচনা ব্যর্থ হলে ইরানের ব্যালিস্টিক মিসাইল কর্মসূচিতে ইসরায়েলি হামলাকে সমর্থন দেবে ওয়াশিংটন। ফলে এক হাতে শান্তির প্রস্তাব এবং অন্য হাতে যুদ্ধের প্রস্তুতি নিয়ে ট্রাম্পের এই দ্বিমুখী অবস্থান পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে এক চরম অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিয়েছে।

আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালী বন্ধের হুমকি এবং মার্কিন যুদ্ধবিমানের এই বিশাল সমাবেশ কেবল মনস্তাত্ত্বিক চাপ নয় বরং যেকোনো সময় বড় ধরনের সংঘর্ষের সূত্রপাত ঘটাতে পারে। আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে ইরান তাদের নতুন পরমাণু প্রস্তাব পেশ করবে বলে কথা দিয়েছে, আর এই সময়টুকুই নির্ধারণ করবে মধ্যপ্রাচ্যে বারুদের ধোঁয়া উড়বে নাকি কূটনৈতিক সমাধান আসবে। 

সূত্র: এনডিটিভি

বাংলা৭১নিউজ/এসএএইচ

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2015-2026
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com