যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সঙ্গে চলতি শরতেই একটি বৈঠকের জন্য তার উপদেষ্টাদের তাগিদ দিচ্ছেন। মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে মঙ্গলবার ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প তার পরবর্তী এশিয়া সফরের সময় কিমের সঙ্গে সশরীরে বৈঠকের ব্যাপারে গোপনে আলোচনা করেছেন। আগামী নভেম্বরে চীনের শেনঝেনে অনুষ্ঠিতব্য এশিয়া-প্যাসিফিক ইকোনমিক কো-অপারেশন শীর্ষ সম্মেলনের সময় এই সফর ও বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হতে পারে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং উত্তর কোরিয়ার শীর্ষ নেতা কিম জং উনের সম্পর্ক অম্লমধুর। প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে এ দুই নেতার মধ্যে তিনবার বৈঠক হয়েছিল।
ট্রাম্পই প্রথম কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্ট যিনি উত্তর কোরিয়ার কোনো শীর্ষ নেতার সঙ্গে সরাসরি বৈঠক করেছেন। তবে এ দুই নেতার সম্পর্কের শুরুটা ছিল তিক্ততায়। ২০১৭ সালে উত্তর কোরিয়া একের পর এক পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালালে ট্রাম্প ও কিমের সম্পর্ক চরম শত্রুতায় পৌঁছায়। ট্রাম্প কিমকে ‘লিটল রকেটম্যান’ বলে উপহাস করেন এবং উত্তর কোরিয়াকে সম্পূর্ণ ধ্বংসের হুমকি দেন।
জবাবে কিম ট্রাম্পকে ‘মানসিকভাবে অপ্রকৃতিস্থ মার্কিন বুড়ো’ বলে আখ্যা দেন।২০১৮ সালে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ বদলে যায়। দুই নেতার মধ্যে চিঠি আদান-প্রদান শুরু হয়, যা ট্রাম্প পরবর্তী সময়ে রসিকতা করে প্রেমপত্র হিসেবে অভিহিত করেন।
ট্রাম্প দাবি করেন, এর মাধ্যমে তাদের মধ্যে একটি গভীর ব্যক্তিগত বন্ধন তৈরি হয়েছে। ২০১৮ সালের জুনে সিঙ্গাপুরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ও উত্তর কোরিয়ার নেতার মধ্যে প্রথম ঐতিহাসিক বৈঠক হয়।
২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে ভিয়েতনামের হ্যানয়ে ট্রাম্প-কিমের দ্বিতীয় বৈঠক হয়। ২০১৯ সালের জুনে দুই কোরিয়ার মধ্যবর্তী সামরিক মুক্ত অঞ্চলে ট্রাম্প ও কিম আকস্মিক সাক্ষাৎ করেন।
সেখানে ট্রাম্প প্রথম দায়িত্বরত মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে উত্তর কোরিয়ার সীমানায় পা রেখে ইতিহাস গড়েন।২০২৫ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্প পুনরায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর কিমের সাথে তার সম্পর্ক নতুন করে আলোচনায় এসেছে। ট্রাম্প এখনো দাবি করেন যে কিম জং উনের সাথে তার ‘দারুণ ব্যক্তিগত সম্পর্ক’ রয়েছে।
সম্প্রতি তিনি ট্রুথ সোশ্যালে কিমের সঙ্গে ছবি পোস্ট করে লিখেছেন, ‘আমরা একে অপরকে বুঝি এবং কিম আমাকে সব সময় সম্মান করেন।
কিমের সঙ্গে এই ‘ভালো সম্পর্ক’-এর অজুহাতে ট্রাম্প সম্প্রতি দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সামরিক মহড়া উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি মনে করেন, এই মহড়াগুলো উত্তর কোরিয়ার প্রতি উসকানিমূলক।
বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ


























