
সুন্দরবন উপকূলসংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে পৃথক দুটি স্থান থেকে ২০ জন জেলেকে অপহরণ করেছে বনদস্যুরা।
সোমবার রাতে দুবলার উপকূলের নারিকেলবাড়ীয়া ও আমবাড়ীয়ার সাগরের খাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। মুক্তিপণের দাবিতে তাঁদের তুলে নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
পূর্ব সুন্দরবনের দুবলা ফরেস্ট টহল ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, ফরেস্ট রেঞ্জার মিল্টন রায় বলেন, সোমবার গভীর রাতে অজ্ঞাত পরিচয়ের একটি বনদস্যু দল প্রথমে নারিকেলবাড়ীয়া এলাকায় মাছ ধরারত জেলেদের ওপর হামলা চালায়। এ সময় আটটি ট্রলার থেকে আট জেলেকে অপহরণ করা হয়।
অপহৃতরা হলেন—হরিদাস বিশ্বাস, গোপাল বিশ্বাস, রমেশ বিশ্বাস, প্রশান্ত বিশ্বাস, শংকর বিশ্বাস, তুষার বিশ্বাস, মনিরুল ও উজ্জ্বল কুমার বিশ্বাস। তাদের বাড়ি খুলনার পাইকগাছা উপজেলায়।
এরপর একই রাতে আমবাড়ীয়ার খাড়ি এলাকায় আরেকটি জেলে বহরে হামলা চালানো হয়। বনদস্যু সুমন–জাহাঙ্গীর বাহিনীর সদস্যরা অস্ত্রের মুখে ১২টি ট্রলার থেকে আরও ১২ জেলেকে তুলে নিয়ে যায়।
অপহৃতরা হলেন—কালিদাস বিশ্বাস, কাশেম মোড়ল, সাধন বিশ্বাস, শিবপদ বিশ্বাস, রশিদ সরদার, প্রকাশ বিশ্বাস, ইয়াসিন মোড়ল, শিমুল, রূপ কুমার বিশ্বাস, গণেশ বিশ্বাস, উত্তম বিশ্বাস ও বাটু বিশ্বাস। তাঁদের বাড়ি খুলনার পাইকগাছা, কয়রা ও আশাশুনি উপজেলায়।
সুন্দরবনের দুবলা ফিশারম্যান গ্রুপের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. কামাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, বর্তমানে চারটি বনদস্যু চক্র সুন্দরবন ও সাগর এলাকায় সক্রিয় রয়েছে। তারা নিয়মিত জেলেদের অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবি করছে। এতে জেলেদের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। দ্রুত দস্যু দমনের দাবি জানান তিনি।
সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জ কর্মকর্তা (এসিএফ) মো. শরীফুল ইসলাম বলেন, ২০ জেলে অপহরণের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। জেলেদের নিরাপত্তায় কোস্টগার্ড ও র্যাবের সহায়তা চাওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বনরক্ষীদের টহল আরও জোরদারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বাংলা৭১নিউজ/এসএএইচ