ঢাকা ০৮:৪৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo গুলশানে মিছিল : আওয়ামী লীগের ২৪ নেতাকর্মী ১০ দিনের রিমান্ডে Logo মধ্যপ্রাচ্যে ‘সর্বোচ্চ সংযমের’ আহ্বান জানিয়ে ঘোষণাপত্র গ্রহণ করল ব্রিকস Logo দুর্গাপূজা উপলক্ষে ইলিশ চায় ভারত, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের আহ্বান Logo হজের টাকা এজেন্সিকে দিলে সেই টাকার যাকাত দিতে হবে? Logo ‘আমার চেয়ে ভালো কেউ নেই’, ব্যালন জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী এমবাপ্পে Logo ট্রাম্পের সরাসরি সাহায্য মিলছে না, সন্ত্রাসী গোষ্ঠী মোকাবিলায় সংকটে সৌদি যুবরাজ Logo শেখ হাসিনা বিশ্বের সেরা অভিনেত্রী: স্পিকার Logo একসময় বল পায়ে লড়াই, এখন তারা সবাই চ্যাম্পিয়নস লিগের কোচ Logo চট্টগ্রামে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা গ্রেপ্তার Logo ফেনীতে নিহত যুবদল নেতা ও অসহায় এক পরিবারকে প্রধানমন্ত্রীর বাড়ি উপহার

বরফের নিচের চাঞ্চল্যকর তথ্য দেওয়ার পরই নিখোঁজ সাবমেরিন

শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে অ্যাডভেঞ্চার প্রিয় মানুষ আর বিজ্ঞানীদের কাছে অ্যান্টার্কটিকা এক পরম রহস্যের নাম। জলবায়ু পরিবর্তন আর বিশ্ব উষ্ণায়নের ফলে দক্ষিণ মেরুর বরফ যেভাবে গলছে, তা বুঝতে প্রতিবছরই সেখানে পাড়ি জমান গবেষকরা। কিন্তু এই বরফ সাম্রাজ্যের গভীরে লুকিয়ে আছে মারাত্মক বিপদ। সম্প্রতি গোটেনবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আনা ওয়াহলিন তার এক গবেষণায় এমন এক রহস্যময় অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছেন, যা বিশ্বজুড়ে বিজ্ঞানীদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। খবর দ্য মিররের।

পশ্চিম অ্যান্টার্কটিকার ডটসন আইস শেল্ফ মানচিত্রায়নের জন্য ‘রান’  নামের একটি চালকবিহীন সাবমেরিন পাঠিয়েছিলেন অধ্যাপক ওয়াহলিন। সমুদ্রের তলদেশের উষ্ণ স্রোত কীভাবে বরফকে নিচ থেকে গলিয়ে দিচ্ছে, তা খুঁজে বের করাই ছিল এর কাজ। ২০২২ সালের এক মিশনে টানা ২৭ দিন বরফের নিচে কাটিয়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহ করেছিল এই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন যানটি। রান-এর পাঠানো তথ্যে দেখা যায়, বরফের নিচে তৈরি হয়েছে বিশাল মালভূমি আর গভীর সব গর্ত, যা মূলত সমুদ্রের নিচের বরফ গলার এক স্পষ্ট সংকেত।

টানা ১৪টি সফল মিশনের পর আবারও যখন রান-কে বরফের নিচের গহীন অন্ধকারে পাঠানো হয়, তখনই ঘটে সেই রহস্যময় বিপত্তি। নির্ধারিত সময়ের ২৪ ঘণ্টা পার হয়ে গেলেও সাবমেরিনটি আর পানির উপরে ভেসে ওঠেনি। এমনকি কোনো ইলেকট্রনিক সিগন্যাল বা ধ্বংসাবশেষের চিহ্নও খুঁজে পায়নি অনুসন্ধানকারী দল। যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় ১০ মাইল গভীর বরফের নিচে রান-এর এই চিরতরে হারিয়ে যাওয়াকে ‘ভয়াবহ এক শূন্যতা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন অধ্যাপক ওয়াহলিন। যান্ত্রিক ত্রুটি নাকি কোনো বিশাল হিমশৈলের সাথে ধাক্কা লেগে এটি হারিয়ে গেছে, তা আজও এক রহস্য।

রানের আকস্মিক অদৃশ্য হয়ে যাওয়া কেবল একটি সাবমেরিন হারানো নয়, এটি বড় এক বিপদের সংকেত দিচ্ছে। ইউনিভার্সিটি অব বনের সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে, অ্যান্টার্কটিকার চারপাশের সমুদ্রস্রোতের গতি ও শক্তি ক্রমশ কমে আসছে। যেটি মূলত বিশ্বের আবহাওয়া নিয়ন্ত্রণ করে। 

ইউনিভার্সিটি অব মেলবোর্নের গবেষক ড. বিশাখদত্ত গায়েন সতর্ক করে বলেছেন, পৃথিবীর এই ‘জলবায়ু ইঞ্জিন’ যদি ভেঙে পড়ে, তবে বিশ্বজুড়ে চরম আবহাওয়া এবং ভয়াবহ উষ্ণায়ন শুরু হবে। মহাসাগরগুলোর কার্বন শুষে নেওয়ার ক্ষমতা কমে গেলে বৈশ্বিক উষ্ণায়ন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে, যার ফল হবে ভয়াবহ।

বাংলা৭১নিউজ/এএস

Tag :

গুলশানে মিছিল : আওয়ামী লীগের ২৪ নেতাকর্মী ১০ দিনের রিমান্ডে

বরফের নিচের চাঞ্চল্যকর তথ্য দেওয়ার পরই নিখোঁজ সাবমেরিন

আপডেট সময় ১১:৪৭:৪২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ ডিসেম্বর ২০২৫

শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে অ্যাডভেঞ্চার প্রিয় মানুষ আর বিজ্ঞানীদের কাছে অ্যান্টার্কটিকা এক পরম রহস্যের নাম। জলবায়ু পরিবর্তন আর বিশ্ব উষ্ণায়নের ফলে দক্ষিণ মেরুর বরফ যেভাবে গলছে, তা বুঝতে প্রতিবছরই সেখানে পাড়ি জমান গবেষকরা। কিন্তু এই বরফ সাম্রাজ্যের গভীরে লুকিয়ে আছে মারাত্মক বিপদ। সম্প্রতি গোটেনবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আনা ওয়াহলিন তার এক গবেষণায় এমন এক রহস্যময় অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছেন, যা বিশ্বজুড়ে বিজ্ঞানীদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। খবর দ্য মিররের।

পশ্চিম অ্যান্টার্কটিকার ডটসন আইস শেল্ফ মানচিত্রায়নের জন্য ‘রান’  নামের একটি চালকবিহীন সাবমেরিন পাঠিয়েছিলেন অধ্যাপক ওয়াহলিন। সমুদ্রের তলদেশের উষ্ণ স্রোত কীভাবে বরফকে নিচ থেকে গলিয়ে দিচ্ছে, তা খুঁজে বের করাই ছিল এর কাজ। ২০২২ সালের এক মিশনে টানা ২৭ দিন বরফের নিচে কাটিয়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহ করেছিল এই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন যানটি। রান-এর পাঠানো তথ্যে দেখা যায়, বরফের নিচে তৈরি হয়েছে বিশাল মালভূমি আর গভীর সব গর্ত, যা মূলত সমুদ্রের নিচের বরফ গলার এক স্পষ্ট সংকেত।

টানা ১৪টি সফল মিশনের পর আবারও যখন রান-কে বরফের নিচের গহীন অন্ধকারে পাঠানো হয়, তখনই ঘটে সেই রহস্যময় বিপত্তি। নির্ধারিত সময়ের ২৪ ঘণ্টা পার হয়ে গেলেও সাবমেরিনটি আর পানির উপরে ভেসে ওঠেনি। এমনকি কোনো ইলেকট্রনিক সিগন্যাল বা ধ্বংসাবশেষের চিহ্নও খুঁজে পায়নি অনুসন্ধানকারী দল। যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় ১০ মাইল গভীর বরফের নিচে রান-এর এই চিরতরে হারিয়ে যাওয়াকে ‘ভয়াবহ এক শূন্যতা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন অধ্যাপক ওয়াহলিন। যান্ত্রিক ত্রুটি নাকি কোনো বিশাল হিমশৈলের সাথে ধাক্কা লেগে এটি হারিয়ে গেছে, তা আজও এক রহস্য।

রানের আকস্মিক অদৃশ্য হয়ে যাওয়া কেবল একটি সাবমেরিন হারানো নয়, এটি বড় এক বিপদের সংকেত দিচ্ছে। ইউনিভার্সিটি অব বনের সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে, অ্যান্টার্কটিকার চারপাশের সমুদ্রস্রোতের গতি ও শক্তি ক্রমশ কমে আসছে। যেটি মূলত বিশ্বের আবহাওয়া নিয়ন্ত্রণ করে। 

ইউনিভার্সিটি অব মেলবোর্নের গবেষক ড. বিশাখদত্ত গায়েন সতর্ক করে বলেছেন, পৃথিবীর এই ‘জলবায়ু ইঞ্জিন’ যদি ভেঙে পড়ে, তবে বিশ্বজুড়ে চরম আবহাওয়া এবং ভয়াবহ উষ্ণায়ন শুরু হবে। মহাসাগরগুলোর কার্বন শুষে নেওয়ার ক্ষমতা কমে গেলে বৈশ্বিক উষ্ণায়ন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে, যার ফল হবে ভয়াবহ।

বাংলা৭১নিউজ/এএস