চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) রেজিস্ট্রারের অতিরিক্ত দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন যন্ত্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক শেখ হুমায়ুন কবীর। তার পদত্যাগপত্র গ্রহণ করে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম।
অধ্যাপক শেখ হুমায়ুন কবীর ২০২২ সালের ২৮ আগস্ট থেকে নিজ দাপ্তরিক দায়িত্বের পাশাপাশি রেজিস্ট্রারের অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। চলতি বছরের ১ সেপ্টেম্বর তিনি ওই অতিরিক্ত দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি চেয়ে পদত্যাগপত্র জমা দেন।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম বলেন, ‘গত ২৪ সেপ্টেম্বর রেজিস্ট্রার আমাকে জানান, তিনি পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। তার লিখিত আবেদনের প্রেক্ষিতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তবে পদত্যাগপত্র গ্রহণের প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অধ্যাপক শেখ হুমায়ুন কবীর। তিনি বলেন, ‘আমি আগের উপাচার্যের কাছে ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে পদত্যাগপত্র দিয়েছিলাম। অধ্যাপক শরীফুল আলমের কাছে জমা দিইনি। তাই পদত্যাগপত্রটি আগের উপাচার্য গ্রহণ করলেই ভালো হতো।
তিনি আরো বলেন, ‘গতানুগতিক উপায়ে আমাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়নি। পদত্যাগপত্র জমা দিলে সেটি একটি নথি হিসেবে আসে। সেই নথিতে উপাচার্য অনুমোদন দেন। এরপর অন্য একজনের মাধ্যমে অফিস আদেশ জারি করেন। কিন্তু এ রকম কিছু হয়নি।
আমাকে শুধু একটি ই-মেইল দিয়েছেন, যেখানে কোনো স্মারক নম্বর নেই। ই-মেইলে ‘আপনাকে’ অব্যাহতি দেওয়া হলো বলা হয়েছে, আমার নামও উল্লেখ করা হয়নি। এগুলোর কোনোটিই নিয়ম মেনে হয়নি। তবে আমি ১ সেপ্টেম্বর ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে পদত্যাগপত্র দিয়েছিলাম।’
এদিকে, গত ২১ সেপ্টেম্বর চুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে সরিয়ে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে নতুন উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া হয়। এর প্রতিবাদে ২২ সেপ্টেম্বর থেকে সর্বাত্মক শাটডাউন শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। একই দাবিতে কর্মবিরতি ও অসহযোগ কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। এতে সাতটি বিভাগের ৩৪টি পরীক্ষাসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকাংশ একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়।
৩৬ দিন শাটডাউনের পর একাডেমিক কার্যক্রমের স্বার্থে ক্লাসে ফিরেছেন শিক্ষার্থীরা। তবে ক্লাসে ফিরলেও আন্দোলন অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন তারা।
বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ


























