ঢাকা ১০:০৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo চট্টগ্রামের স্যানিটেশন ব্যবস্থার উন্নয়নে বিশ্বব্যাংকের ১৪ মিলিয়ন ডলার ঋণ Logo ভারতীয় ভিসা আবেদনে নতুন নির্দেশনা Logo কপ-৩১ সম্মেলনে যোগ দিতে ১০ নভেম্বর তুরস্ক যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী Logo হত্যা মামলায় সাংবাদিক ইকবাল সোবহান চৌধুরী কারাগারে Logo নতুন কুঁড়ির সেরা ৪০ জনকে স্থায়ীভাবে বিকেএসপিতে ভর্তির আমন্ত্রণপত্র দিলেন প্রধানমন্ত্রী Logo শিশুদের হাত ধরেই গড়ে উঠবে শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ: প্রধানমন্ত্রী Logo বন্যা ও ভূমিধসে আক্রান্ত সাড়ে ৭৬ কোটি মানুষ, ৯৯ শতাংশই নিম্ন আয়ের দেশে Logo এনসিপি থেকে পদত্যাগ করলেন সামান্তা শারমিন Logo এবার সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় দিলীপ আগরওয়ালার ২ দিনের রিমান্ড Logo হাসিনার রেখে যাওয়া সন্ত্রাসীরা গার্মেন্টসে আগুন দিচ্ছেন : রিজভী

তথ্য খোঁজায় গুগলকে টক্কর দিচ্ছে চ্যাটজিপিটি, দাবি প্রতিবেদনে

ইন্টারনেটে তথ্য খোঁজার ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরেই ব্যবহারকারীদের প্রথম পছন্দ গুগল। তবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) প্রসারের সঙ্গে বদলাচ্ছে সেই অভ্যাস।

সার্চ ইঞ্জিনে একের পর এক ওয়েবসাইট ঘেঁটে তথ্য বের করার পরিবর্তে সরাসরি উত্তর পেতে অনেকে এখন ব্যবহার করছেন চ্যাটজিপিটি। ওপেনএআইয়ের তথ্য অনুযায়ী, চ্যাটজিপিটির সার্চধর্মী প্রশ্নের পরিমাণ গুগলের মোট অনুসন্ধানের প্রায় ২০ শতাংশে পৌঁছেছে।

ভারতের সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চ্যাটজিপিটির ভোক্তা পণ্য বিভাগের প্রধান অ্যাডাম ফ্রাই এ তথ্য জানিয়েছেন। ‘বিগ টেকনোলজি’ নিউজলেটারের জন্য অ্যালেক্স কান্ট্রোভিটজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, গুগলের তুলনায় চ্যাটজিপিটিতে সার্চধর্মী প্রশ্নের পরিমাণ এখন প্রায় এক-পঞ্চমাংশ।

ফ্রাই আরো জানান, মাত্র দুই মাসে চ্যাটজিপিটির সাপ্তাহিক সক্রিয় ব্যবহারকারীর সংখ্যা ১০০ কোটি থেকে বেড়ে ১২০ কোটিতে পৌঁছেছে। অর্থাৎ এই সময়ে ব্যবহারকারী বেড়েছে প্রায় ২০ কোটি।

তথ্য খোঁজার নতুন ঠিকানা চ্যাটজিপিটি

চ্যাটজিপিটিতে তথ্য অনুসন্ধানের প্রবণতা বাড়ার পেছনে ব্যবহারকারীদের অভ্যাসের পরিবর্তনকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রচলিত সার্চ ইঞ্জিনে কোনো বিষয় লিখে একাধিক ওয়েবসাইটের লিংক পাওয়া যায়।

এরপর ব্যবহারকারীকে সেসব ওয়েবসাইট ঘেঁটে প্রয়োজনীয় তথ্য বের করতে হয়। অন্যদিকে চ্যাটজিপিটি বিভিন্ন তথ্য একত্র করে সরাসরি উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করে।

যুক্তরাষ্ট্রের গবেষণা সংস্থা পিউ রিসার্চ সেন্টারের এক জরিপেও এআই চ্যাটবট ব্যবহারের ক্ষেত্রে তথ্য অনুসন্ধানের প্রবণতা উঠে এসেছে। জরিপে অংশ নেওয়া মার্কিন প্রাপ্তবয়স্কদের প্রায় ৪২ শতাংশ জানিয়েছেন, তাঁরা তথ্য খুঁজতে এআই চ্যাটবট ব্যবহার করেছেন। কর্মজীবীদের মধ্যে ৩৮ শতাংশ কাজের প্রয়োজনে এআই ব্যবহারের কথা জানিয়েছেন।

জরিপ অনুযায়ী, মার্কিন প্রাপ্তবয়স্কদের ৪৪ শতাংশ চ্যাটজিপিটি ব্যবহার করেছেন। অন্যদিকে গুগলের এআই চ্যাটবট জেমিনি ব্যবহার করেছেন ২৪ শতাংশ।

অ্যাডাম ফ্রাইয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, মানুষ এখন ব্যক্তি, স্থান ও বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে হালনাগাদ তথ্য জানতে চ্যাটজিপিটিকে প্রশ্ন করছেন। অর্থনীতি ও স্বাস্থ্যসংক্রান্ত বিষয়েও এআই চ্যাটবটের ব্যবহার বাড়ছে, যেখানে সাম্প্রতিক তথ্য গুরুত্বপূর্ণ।

এখনো এগিয়ে গুগল

তবে এসব পরিসংখ্যানের অর্থ এই নয় যে, সার্চের বাজারে গুগলের অবস্থান হুমকির মুখে পড়ে গেছে। গুগলের মূল প্রতিষ্ঠান অ্যালফাবেটের দাবি, তাদের সার্চ ইঞ্জিনে বছরে প্রায় ৫ লাখ কোটি অনুসন্ধান হয়।

অ্যালফাবেটের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সুন্দর পিচাইও আগে বলেছেন, এআই চ্যাটবটের প্রসার মানেই গুগলের সার্চ ব্যবসার ক্ষতি নয়। তাঁর মতে, বিষয়টি এমন নয় যে একটি সেবার ব্যবহার বাড়লে অন্যটির ব্যবহার কমতেই হবে। উদাহরণ হিসেবে তিনি টিকটকের জনপ্রিয়তা বাড়ার পরও ইউটিউবের প্রবৃদ্ধি অব্যাহত থাকার কথা উল্লেখ করেছেন।

এদিকে গুগল সার্চের ফলাফল নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই ব্যবহারকারীদের একাংশের অসন্তোষ রয়েছে। বিশেষ করে সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন বা এসইওনির্ভর অনেক ওয়েবসাইটের ভিড়ে নির্ভরযোগ্য ও প্রয়োজনীয় তথ্য খুঁজে পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এ কারণে অনেক ব্যবহারকারী গুগলে অনুসন্ধানের সময় নির্দিষ্ট আলোচনার জন্য ‘রেডিট’ শব্দটিও যুক্ত করেন।

চ্যাটজিপিটি সরাসরি উত্তর দেওয়ার সুবিধা দিলেও এর দেওয়া তথ্য সব সময় নির্ভুল নয়। ভুল তথ্য বা বিভ্রান্তিকর উত্তর দেওয়ার ঝুঁকিও রয়েছে। তা সত্ত্বেও দ্রুত তথ্য পাওয়ার সুবিধা ব্যবহারকারীদের কাছে এআই চ্যাটবটকে আকর্ষণীয় করে তুলছে।

তবে চ্যাটজিপিটির সার্চধর্মী প্রশ্নের পরিমাণ গুগলের মোট অনুসন্ধানের ২০ শতাংশে পৌঁছানোর অর্থ এই নয় যে, গুগল থেকে ঠিক ওই পরিমাণ ব্যবহারকারী চ্যাটজিপিটিতে চলে গেছেন। পরিসংখ্যানটি মূলত দুই প্ল্যাটফর্মের অনুসন্ধানের পরিমাণের তুলনা তুলে ধরে। তা সত্ত্বেও তথ্য খোঁজার অভ্যাসে এআই চ্যাটবটের ক্রমবর্ধমান প্রভাব স্পষ্ট।

বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

চট্টগ্রামের স্যানিটেশন ব্যবস্থার উন্নয়নে বিশ্বব্যাংকের ১৪ মিলিয়ন ডলার ঋণ

তথ্য খোঁজায় গুগলকে টক্কর দিচ্ছে চ্যাটজিপিটি, দাবি প্রতিবেদনে

আপডেট সময় ০৫:২১:৫৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬

ইন্টারনেটে তথ্য খোঁজার ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরেই ব্যবহারকারীদের প্রথম পছন্দ গুগল। তবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) প্রসারের সঙ্গে বদলাচ্ছে সেই অভ্যাস।

সার্চ ইঞ্জিনে একের পর এক ওয়েবসাইট ঘেঁটে তথ্য বের করার পরিবর্তে সরাসরি উত্তর পেতে অনেকে এখন ব্যবহার করছেন চ্যাটজিপিটি। ওপেনএআইয়ের তথ্য অনুযায়ী, চ্যাটজিপিটির সার্চধর্মী প্রশ্নের পরিমাণ গুগলের মোট অনুসন্ধানের প্রায় ২০ শতাংশে পৌঁছেছে।

ভারতের সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চ্যাটজিপিটির ভোক্তা পণ্য বিভাগের প্রধান অ্যাডাম ফ্রাই এ তথ্য জানিয়েছেন। ‘বিগ টেকনোলজি’ নিউজলেটারের জন্য অ্যালেক্স কান্ট্রোভিটজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, গুগলের তুলনায় চ্যাটজিপিটিতে সার্চধর্মী প্রশ্নের পরিমাণ এখন প্রায় এক-পঞ্চমাংশ।

ফ্রাই আরো জানান, মাত্র দুই মাসে চ্যাটজিপিটির সাপ্তাহিক সক্রিয় ব্যবহারকারীর সংখ্যা ১০০ কোটি থেকে বেড়ে ১২০ কোটিতে পৌঁছেছে। অর্থাৎ এই সময়ে ব্যবহারকারী বেড়েছে প্রায় ২০ কোটি।

তথ্য খোঁজার নতুন ঠিকানা চ্যাটজিপিটি

চ্যাটজিপিটিতে তথ্য অনুসন্ধানের প্রবণতা বাড়ার পেছনে ব্যবহারকারীদের অভ্যাসের পরিবর্তনকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রচলিত সার্চ ইঞ্জিনে কোনো বিষয় লিখে একাধিক ওয়েবসাইটের লিংক পাওয়া যায়।

এরপর ব্যবহারকারীকে সেসব ওয়েবসাইট ঘেঁটে প্রয়োজনীয় তথ্য বের করতে হয়। অন্যদিকে চ্যাটজিপিটি বিভিন্ন তথ্য একত্র করে সরাসরি উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করে।

যুক্তরাষ্ট্রের গবেষণা সংস্থা পিউ রিসার্চ সেন্টারের এক জরিপেও এআই চ্যাটবট ব্যবহারের ক্ষেত্রে তথ্য অনুসন্ধানের প্রবণতা উঠে এসেছে। জরিপে অংশ নেওয়া মার্কিন প্রাপ্তবয়স্কদের প্রায় ৪২ শতাংশ জানিয়েছেন, তাঁরা তথ্য খুঁজতে এআই চ্যাটবট ব্যবহার করেছেন। কর্মজীবীদের মধ্যে ৩৮ শতাংশ কাজের প্রয়োজনে এআই ব্যবহারের কথা জানিয়েছেন।

জরিপ অনুযায়ী, মার্কিন প্রাপ্তবয়স্কদের ৪৪ শতাংশ চ্যাটজিপিটি ব্যবহার করেছেন। অন্যদিকে গুগলের এআই চ্যাটবট জেমিনি ব্যবহার করেছেন ২৪ শতাংশ।

অ্যাডাম ফ্রাইয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, মানুষ এখন ব্যক্তি, স্থান ও বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে হালনাগাদ তথ্য জানতে চ্যাটজিপিটিকে প্রশ্ন করছেন। অর্থনীতি ও স্বাস্থ্যসংক্রান্ত বিষয়েও এআই চ্যাটবটের ব্যবহার বাড়ছে, যেখানে সাম্প্রতিক তথ্য গুরুত্বপূর্ণ।

এখনো এগিয়ে গুগল

তবে এসব পরিসংখ্যানের অর্থ এই নয় যে, সার্চের বাজারে গুগলের অবস্থান হুমকির মুখে পড়ে গেছে। গুগলের মূল প্রতিষ্ঠান অ্যালফাবেটের দাবি, তাদের সার্চ ইঞ্জিনে বছরে প্রায় ৫ লাখ কোটি অনুসন্ধান হয়।

অ্যালফাবেটের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সুন্দর পিচাইও আগে বলেছেন, এআই চ্যাটবটের প্রসার মানেই গুগলের সার্চ ব্যবসার ক্ষতি নয়। তাঁর মতে, বিষয়টি এমন নয় যে একটি সেবার ব্যবহার বাড়লে অন্যটির ব্যবহার কমতেই হবে। উদাহরণ হিসেবে তিনি টিকটকের জনপ্রিয়তা বাড়ার পরও ইউটিউবের প্রবৃদ্ধি অব্যাহত থাকার কথা উল্লেখ করেছেন।

এদিকে গুগল সার্চের ফলাফল নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই ব্যবহারকারীদের একাংশের অসন্তোষ রয়েছে। বিশেষ করে সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন বা এসইওনির্ভর অনেক ওয়েবসাইটের ভিড়ে নির্ভরযোগ্য ও প্রয়োজনীয় তথ্য খুঁজে পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এ কারণে অনেক ব্যবহারকারী গুগলে অনুসন্ধানের সময় নির্দিষ্ট আলোচনার জন্য ‘রেডিট’ শব্দটিও যুক্ত করেন।

চ্যাটজিপিটি সরাসরি উত্তর দেওয়ার সুবিধা দিলেও এর দেওয়া তথ্য সব সময় নির্ভুল নয়। ভুল তথ্য বা বিভ্রান্তিকর উত্তর দেওয়ার ঝুঁকিও রয়েছে। তা সত্ত্বেও দ্রুত তথ্য পাওয়ার সুবিধা ব্যবহারকারীদের কাছে এআই চ্যাটবটকে আকর্ষণীয় করে তুলছে।

তবে চ্যাটজিপিটির সার্চধর্মী প্রশ্নের পরিমাণ গুগলের মোট অনুসন্ধানের ২০ শতাংশে পৌঁছানোর অর্থ এই নয় যে, গুগল থেকে ঠিক ওই পরিমাণ ব্যবহারকারী চ্যাটজিপিটিতে চলে গেছেন। পরিসংখ্যানটি মূলত দুই প্ল্যাটফর্মের অনুসন্ধানের পরিমাণের তুলনা তুলে ধরে। তা সত্ত্বেও তথ্য খোঁজার অভ্যাসে এআই চ্যাটবটের ক্রমবর্ধমান প্রভাব স্পষ্ট।

বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ