ঢাকা ০৯:০২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo চট্টগ্রামের স্যানিটেশন ব্যবস্থার উন্নয়নে বিশ্বব্যাংকের ১৪ মিলিয়ন ডলার ঋণ Logo ভারতীয় ভিসা আবেদনে নতুন নির্দেশনা Logo কপ-৩১ সম্মেলনে যোগ দিতে ১০ নভেম্বর তুরস্ক যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী Logo হত্যা মামলায় সাংবাদিক ইকবাল সোবহান চৌধুরী কারাগারে Logo নতুন কুঁড়ির সেরা ৪০ জনকে স্থায়ীভাবে বিকেএসপিতে ভর্তির আমন্ত্রণপত্র দিলেন প্রধানমন্ত্রী Logo শিশুদের হাত ধরেই গড়ে উঠবে শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ: প্রধানমন্ত্রী Logo বন্যা ও ভূমিধসে আক্রান্ত সাড়ে ৭৬ কোটি মানুষ, ৯৯ শতাংশই নিম্ন আয়ের দেশে Logo এনসিপি থেকে পদত্যাগ করলেন সামান্তা শারমিন Logo এবার সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় দিলীপ আগরওয়ালার ২ দিনের রিমান্ড Logo হাসিনার রেখে যাওয়া সন্ত্রাসীরা গার্মেন্টসে আগুন দিচ্ছেন : রিজভী

আদালত প্রাঙ্গণে মামলার বাদীকে মারধর করায় কারাগারে নারী

জামালপুরে নাশকতার মামলার বাদীকে আদালত প্রাঙ্গণে মারধরের অভিযোগ উঠেছে মামলার আসামিদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে জান্নাতুল হুমায়রা ওরফে জেমি নামের এক নারীকে আটক করে পুলিশ। পরে আদালতে হাজির করা হলে তিনি মারধরের বিষয়টি স্বীকার করেন। এ সময় আদালত তার জামিন বাতিল করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

বুধবার (৪ নভেম্বর) ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন জামালপুর কোর্ট ইন্সপেক্টর (ওসি) মো. খান আব্দুল হালিম সিদ্দিকী। এর আগে মঙ্গলবার বিকেলে জামালপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালত প্রাঙ্গণে এ ঘটনা ঘটে।

মারধরের শিকার মো. রাসেল হোসেন জামালপুর সদর উপজেলার লাঙ্গলজোড়া এলাকার বাসিন্দা। তিনি মাথায় গুরুতর পেয়ে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।

কোর্ট পুলিশ ও আহত ব্যক্তির পরিবার জানিয়েছে, ২০২৫ সালের ২৫ নভেম্বর জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলার মুন্সীনাংলা এলাকায় একটি শিল্প কারখানায় চাঁদা দাবিকে কেন্দ্র করে হামলার ঘটনা ঘটে। অভিযোগ রয়েছে, জান্নাতুল হুমায়রা, মাসুদ, সামিউল ইসলাম ওরফে জাম্বুর, আমিনুর ইসলাম ওরফে ফকির ও আক্তার হোসেনের নেতৃত্বে একদল ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্র নিয়ে কারখানাটিতে হামলা চালান। এ সময় ফাঁকা গুলি ছোড়া ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনাও ঘটে। এ ঘটনায় ওই দিনই মেলান্দহ থানায় বাদী হয়ে নাশকতার মামলা করেন রাসেল হোসেন।

গত মঙ্গলবার ওই মামলার শুনানির দিন ধার্য ছিল। শুনানি শেষে রাসেল আদালতের প্রাঙ্গণে তার আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলছিলেন। এ সময় জান্নাতুল হুমায়রা ও মাসুদের নেতৃত্বে আসামিরা তার ওপর হামলা চালান বলে অভিযোগ উঠেছে। তারা রাসেলের গেঞ্জির কলার ধরে শরীরের বিভিন্ন স্থানে কিল-ঘুষি ও লাথি মারেন। এতে তিনি আহত হন। এ সময় আদালত প্রাঙ্গণে দায়িত্ব পালনরত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা জান্নাতুল হুমায়রাকে আটক করেন। এ ঘটনায় আদালত প্রাঙ্গণে নিরাপত্তা ও বিচারপ্রার্থীদের সুরক্ষা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

রাসেল হোসেন বলেন, মামলাটি প্রত্যাহার করার জন্য আসামিরা দীর্ঘদিন ধরে আমাকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে আসছিলেন। গতকাল মামলার শুনানি শেষে আদালত প্রাঙ্গণে আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলছিলাম। এ সময় পরিকল্পিতভাবে জান্নাতুল হুমায়রা ও মাসুদের নেতৃত্বে আসামিরা আমার ওপর হামলা চালান। তারা আমাকে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি ও লাথি মারেন। মাথায়ও আঘাত করেন। মারধরের সময় মামলা তুলে না নিলে হত্যার হুমকি দেন তারা।

এর আগে ২০২৫ সালের ১৫ জানুয়ারি জামালপুর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত জান্নাতুল হুমায়রা ওরফে জেমির এক আত্মীয়ের জামিন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে জান্নাতুল হুমায়রার নেতৃত্বে অর্ধশতাধিক নারী-পুরুষ আদালত প্রাঙ্গণে হট্টগোল করেন। এ সময় তারা পুলিশের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কিতেও জড়ান। বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদও প্রকাশিত হয়।

জামালপুর জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. রিশাদ রেজওয়ান বাবু বলেন, ‘আদালত প্রাঙ্গণ বিচারপ্রার্থী মানুষের জন্য সবচেয়ে নিরাপদ ও সুরক্ষিত জায়গা হওয়ার কথা। সেখানে একজন মামলার বাদীকে মারধরের ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক ও নিন্দনীয়। আদালত প্রাঙ্গণে এ ধরনের ঘটনা শুধু বিচার প্রার্থীদের নিরাপত্তাকেই বিঘ্নিত করে না, বরং বিচার ব্যবস্থার পরিবেশ ও আদালতের মর্যাদাকেও প্রশ্নবিদ্ধ করে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা প্রয়োজন। পাশাপাশি আদালত প্রাঙ্গণে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করতে হবে, যাতে কোনো বিচার প্রার্থী, আইনজীবী কিংবা সাধারণ মানুষ এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার শিকার না হন।’

জামালপুর কোর্ট ইন্সপেক্টর (ওসি) মো. খান আব্দুল হালিম সিদ্দিকী বলেন, ওই মামলার শুনানির দিন ধার্য ছিল মঙ্গলবার। শুনানি শেষে ওই নারীসহ কয়েকজন আসামি মামলার বাদীকে মারধর করেন। বিষয়টি আদালতের নজরে আনা হলে আদালতের নির্দেশে ওই নারীকে আটক করে বিচারকের সামনে হাজির করা হয়। এ সময় তিনি নিজেই আদালতে মারধরের বিষয়টি স্বীকার করেন। পরে আদালত তাৎক্ষণিকভাবে তাঁর জামিন বাতিল করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। পরে আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ

 

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

চট্টগ্রামের স্যানিটেশন ব্যবস্থার উন্নয়নে বিশ্বব্যাংকের ১৪ মিলিয়ন ডলার ঋণ

আদালত প্রাঙ্গণে মামলার বাদীকে মারধর করায় কারাগারে নারী

আপডেট সময় ০৪:২০:৩৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬

জামালপুরে নাশকতার মামলার বাদীকে আদালত প্রাঙ্গণে মারধরের অভিযোগ উঠেছে মামলার আসামিদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে জান্নাতুল হুমায়রা ওরফে জেমি নামের এক নারীকে আটক করে পুলিশ। পরে আদালতে হাজির করা হলে তিনি মারধরের বিষয়টি স্বীকার করেন। এ সময় আদালত তার জামিন বাতিল করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

বুধবার (৪ নভেম্বর) ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন জামালপুর কোর্ট ইন্সপেক্টর (ওসি) মো. খান আব্দুল হালিম সিদ্দিকী। এর আগে মঙ্গলবার বিকেলে জামালপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালত প্রাঙ্গণে এ ঘটনা ঘটে।

মারধরের শিকার মো. রাসেল হোসেন জামালপুর সদর উপজেলার লাঙ্গলজোড়া এলাকার বাসিন্দা। তিনি মাথায় গুরুতর পেয়ে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।

কোর্ট পুলিশ ও আহত ব্যক্তির পরিবার জানিয়েছে, ২০২৫ সালের ২৫ নভেম্বর জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলার মুন্সীনাংলা এলাকায় একটি শিল্প কারখানায় চাঁদা দাবিকে কেন্দ্র করে হামলার ঘটনা ঘটে। অভিযোগ রয়েছে, জান্নাতুল হুমায়রা, মাসুদ, সামিউল ইসলাম ওরফে জাম্বুর, আমিনুর ইসলাম ওরফে ফকির ও আক্তার হোসেনের নেতৃত্বে একদল ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্র নিয়ে কারখানাটিতে হামলা চালান। এ সময় ফাঁকা গুলি ছোড়া ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনাও ঘটে। এ ঘটনায় ওই দিনই মেলান্দহ থানায় বাদী হয়ে নাশকতার মামলা করেন রাসেল হোসেন।

গত মঙ্গলবার ওই মামলার শুনানির দিন ধার্য ছিল। শুনানি শেষে রাসেল আদালতের প্রাঙ্গণে তার আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলছিলেন। এ সময় জান্নাতুল হুমায়রা ও মাসুদের নেতৃত্বে আসামিরা তার ওপর হামলা চালান বলে অভিযোগ উঠেছে। তারা রাসেলের গেঞ্জির কলার ধরে শরীরের বিভিন্ন স্থানে কিল-ঘুষি ও লাথি মারেন। এতে তিনি আহত হন। এ সময় আদালত প্রাঙ্গণে দায়িত্ব পালনরত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা জান্নাতুল হুমায়রাকে আটক করেন। এ ঘটনায় আদালত প্রাঙ্গণে নিরাপত্তা ও বিচারপ্রার্থীদের সুরক্ষা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

রাসেল হোসেন বলেন, মামলাটি প্রত্যাহার করার জন্য আসামিরা দীর্ঘদিন ধরে আমাকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে আসছিলেন। গতকাল মামলার শুনানি শেষে আদালত প্রাঙ্গণে আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলছিলাম। এ সময় পরিকল্পিতভাবে জান্নাতুল হুমায়রা ও মাসুদের নেতৃত্বে আসামিরা আমার ওপর হামলা চালান। তারা আমাকে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি ও লাথি মারেন। মাথায়ও আঘাত করেন। মারধরের সময় মামলা তুলে না নিলে হত্যার হুমকি দেন তারা।

এর আগে ২০২৫ সালের ১৫ জানুয়ারি জামালপুর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত জান্নাতুল হুমায়রা ওরফে জেমির এক আত্মীয়ের জামিন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে জান্নাতুল হুমায়রার নেতৃত্বে অর্ধশতাধিক নারী-পুরুষ আদালত প্রাঙ্গণে হট্টগোল করেন। এ সময় তারা পুলিশের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কিতেও জড়ান। বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদও প্রকাশিত হয়।

জামালপুর জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. রিশাদ রেজওয়ান বাবু বলেন, ‘আদালত প্রাঙ্গণ বিচারপ্রার্থী মানুষের জন্য সবচেয়ে নিরাপদ ও সুরক্ষিত জায়গা হওয়ার কথা। সেখানে একজন মামলার বাদীকে মারধরের ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক ও নিন্দনীয়। আদালত প্রাঙ্গণে এ ধরনের ঘটনা শুধু বিচার প্রার্থীদের নিরাপত্তাকেই বিঘ্নিত করে না, বরং বিচার ব্যবস্থার পরিবেশ ও আদালতের মর্যাদাকেও প্রশ্নবিদ্ধ করে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা প্রয়োজন। পাশাপাশি আদালত প্রাঙ্গণে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করতে হবে, যাতে কোনো বিচার প্রার্থী, আইনজীবী কিংবা সাধারণ মানুষ এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার শিকার না হন।’

জামালপুর কোর্ট ইন্সপেক্টর (ওসি) মো. খান আব্দুল হালিম সিদ্দিকী বলেন, ওই মামলার শুনানির দিন ধার্য ছিল মঙ্গলবার। শুনানি শেষে ওই নারীসহ কয়েকজন আসামি মামলার বাদীকে মারধর করেন। বিষয়টি আদালতের নজরে আনা হলে আদালতের নির্দেশে ওই নারীকে আটক করে বিচারকের সামনে হাজির করা হয়। এ সময় তিনি নিজেই আদালতে মারধরের বিষয়টি স্বীকার করেন। পরে আদালত তাৎক্ষণিকভাবে তাঁর জামিন বাতিল করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। পরে আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ