ঢাকা ০১:৫৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo জামায়াতের ওপর বিএনপির লোকেরা আক্রমণ করা শুরু করেছে: আখতারুজ্জামান Logo আশুলিয়ায় ফের শ্রমিকদের বিক্ষোভের চেষ্টা, শতাধিক কারখানায় ছুটি Logo মিরপুরে শ্রমিক বিক্ষোভে গ্রেপ্তার অর্ধশতাধিক, ৩০ জনই কার্যক্রম নিষিদ্ধ দলের নেতাকর্মী: পুলিশ Logo বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম আরো কমল Logo এআই যেন দেশে বেকারত্ব বাড়াতে না পারে : রাষ্ট্রপতি Logo জয়পুরহাটে বাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে মোটরসাইকেল আরোহী নিহত Logo মোংলা থেকে উত্তরাঞ্চল পর্যন্ত জ্বালানি অবকাঠামো গড়ে তোলার ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর Logo নাহিদ ইসলামকে আইনি নোটিশ Logo গাজীপুরে কাজে ফিরছেন শ্রমিকরা, কারখানায় কর্মচাঞ্চল্য Logo জামায়াত-এনসিপি হাদীর আওয়ামী ফ্যাসিবাদবিরোধী চেতনা থেকে যোজন যোজন দূরে

ট্রাম্পের মিত্রকে হারিয়ে জর্জিয়ায় জয় পেলেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জন অসফ

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ সিনেট আসনে জয় পেয়েছেন ক্ষমতাসীন ডেমোক্র্যাট দলের সিনেটর জন অসফ। রিপাবলিকান প্রার্থী ও কংগ্রেসম্যান মাইক কলিন্সকে হারিয়ে দ্বিতীয় মেয়াদে সিনেটর নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। মধ্যবর্তী নির্বাচনের আলোচিত প্রতিদ্বন্দ্বিতাগুলোর একটি ছিল এই আসন।

বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) অনুষ্ঠিতব্য মধ্যবর্তী নির্বাচনের অংশ হিসেবে ঘোষিত প্রথম বড় প্রতিযোগিতাগুলোর মধ্যে এটি অন্যতম ছিল , যা ডোনাল্ড ট্রাম্পের বাকি রাষ্ট্রপতি পদের গতিপথ নির্ধারণ করবে। এর ফলাফলের ওপর নির্ভর করবে কোন দল—ট্রাম্পের রিপাবলিকান নাকি বিরোধী ডেমোক্র্যাটরা—কংগ্রেস নিয়ন্ত্রণ করবে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত কলিন্সের বিরুদ্ধে প্রচার চলাকালে শ্বেতাঙ্গ শ্রেষ্ঠত্ববাদী মতাদর্শে বিশ্বাসী ব্যক্তিদের সঙ্গে কথিত সম্পর্ক নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হয়।

অন্যদিকে, অসফের নির্বাচনী প্রচারের মূল বিষয় ছিল জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো, স্বাস্থ্যসেবা এবং সরকারি কর্মকাণ্ডে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা।

কলিন্স তার প্রচারে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের রাজনৈতিক কর্মসূচি বাস্তবায়ন, অভিবাসন আইন কঠোরভাবে প্রয়োগের ওপর গুরুত্ব দেন।

২০২১ সাল থেকে সিনেটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন জন অসফ। জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের প্রথম ইহুদি সিনেটর তিনি।

২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অঙ্গরাজ্যটি সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে সমর্থন করলেও চার বছর পর ২০২৪ সালের নির্বাচনে অল্প ব্যবধানে ট্রাম্পের পক্ষে রায় দেয়। এমন একটি অঙ্গরাজ্যে অসফকে হারানো রিপাবলিকানদের অন্যতম লক্ষ্য ছিল।

২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট দলের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে অসফের নাম আলোচনায় রয়েছে। তার পুনর্নির্বাচনের ফলে জর্জিয়ার আরেক ডেমোক্র্যাট সিনেটর রাফায়েল ওয়ার্নকের সঙ্গে আবারও সিনেটে কাজ করবেন তিনি। জর্জিয়ার প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ সিনেটর ওয়ার্নকও প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার কথা বিবেচনা করছেন বলে গুঞ্জন রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে এবং দক্ষিণাঞ্চলে ডেমোক্র্যাটদের রাজনৈতিক অবস্থান শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে জর্জিয়ার সিনেট আসনগুলো গুরুত্বপূর্ণ। দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের বেশির ভাগ অঙ্গরাজ্যই ঐতিহাসিকভাবে রিপাবলিকানদের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত।

অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের তথ্য অনুযায়ী, ৫৬ শতাংশ ভোট গণনা শেষে অসফ ৬৩ শতাংশ ভোট পেয়ে এগিয়ে ছিলেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী মাইক কলিন্স পেয়েছিলেন ২৯ শতাংশ ভোট।

২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জর্জিয়ায় অল্প ব্যবধানে জয় পান ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর আগে, ২০২০ সালে, অঙ্গরাজ্যটিতে জো বাইডেনের কাছে হেরে যান তিনি।

২০২০ সালের নির্বাচনে পরাজয়ের পর জর্জিয়ার ফল পাল্টে দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগে ২০২৩ সালে ট্রাম্পসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়। অভিযোগ ছিল, ট্রাম্পের পক্ষে ফল পুনর্গণনার জন্য অঙ্গরাজ্যের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার ওপর চাপ প্রয়োগ করা হয়েছিল। তবে ২০২৫ সালে ট্রাম্প আবার প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেওয়ার পর মামলাটি খারিজ হয়ে যায়।

বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

জামায়াতের ওপর বিএনপির লোকেরা আক্রমণ করা শুরু করেছে: আখতারুজ্জামান

ট্রাম্পের মিত্রকে হারিয়ে জর্জিয়ায় জয় পেলেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জন অসফ

আপডেট সময় ০৯:৫৭:০৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ সিনেট আসনে জয় পেয়েছেন ক্ষমতাসীন ডেমোক্র্যাট দলের সিনেটর জন অসফ। রিপাবলিকান প্রার্থী ও কংগ্রেসম্যান মাইক কলিন্সকে হারিয়ে দ্বিতীয় মেয়াদে সিনেটর নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। মধ্যবর্তী নির্বাচনের আলোচিত প্রতিদ্বন্দ্বিতাগুলোর একটি ছিল এই আসন।

বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) অনুষ্ঠিতব্য মধ্যবর্তী নির্বাচনের অংশ হিসেবে ঘোষিত প্রথম বড় প্রতিযোগিতাগুলোর মধ্যে এটি অন্যতম ছিল , যা ডোনাল্ড ট্রাম্পের বাকি রাষ্ট্রপতি পদের গতিপথ নির্ধারণ করবে। এর ফলাফলের ওপর নির্ভর করবে কোন দল—ট্রাম্পের রিপাবলিকান নাকি বিরোধী ডেমোক্র্যাটরা—কংগ্রেস নিয়ন্ত্রণ করবে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত কলিন্সের বিরুদ্ধে প্রচার চলাকালে শ্বেতাঙ্গ শ্রেষ্ঠত্ববাদী মতাদর্শে বিশ্বাসী ব্যক্তিদের সঙ্গে কথিত সম্পর্ক নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হয়।

অন্যদিকে, অসফের নির্বাচনী প্রচারের মূল বিষয় ছিল জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো, স্বাস্থ্যসেবা এবং সরকারি কর্মকাণ্ডে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা।

কলিন্স তার প্রচারে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের রাজনৈতিক কর্মসূচি বাস্তবায়ন, অভিবাসন আইন কঠোরভাবে প্রয়োগের ওপর গুরুত্ব দেন।

২০২১ সাল থেকে সিনেটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন জন অসফ। জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের প্রথম ইহুদি সিনেটর তিনি।

২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অঙ্গরাজ্যটি সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে সমর্থন করলেও চার বছর পর ২০২৪ সালের নির্বাচনে অল্প ব্যবধানে ট্রাম্পের পক্ষে রায় দেয়। এমন একটি অঙ্গরাজ্যে অসফকে হারানো রিপাবলিকানদের অন্যতম লক্ষ্য ছিল।

২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট দলের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে অসফের নাম আলোচনায় রয়েছে। তার পুনর্নির্বাচনের ফলে জর্জিয়ার আরেক ডেমোক্র্যাট সিনেটর রাফায়েল ওয়ার্নকের সঙ্গে আবারও সিনেটে কাজ করবেন তিনি। জর্জিয়ার প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ সিনেটর ওয়ার্নকও প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার কথা বিবেচনা করছেন বলে গুঞ্জন রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে এবং দক্ষিণাঞ্চলে ডেমোক্র্যাটদের রাজনৈতিক অবস্থান শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে জর্জিয়ার সিনেট আসনগুলো গুরুত্বপূর্ণ। দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের বেশির ভাগ অঙ্গরাজ্যই ঐতিহাসিকভাবে রিপাবলিকানদের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত।

অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের তথ্য অনুযায়ী, ৫৬ শতাংশ ভোট গণনা শেষে অসফ ৬৩ শতাংশ ভোট পেয়ে এগিয়ে ছিলেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী মাইক কলিন্স পেয়েছিলেন ২৯ শতাংশ ভোট।

২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জর্জিয়ায় অল্প ব্যবধানে জয় পান ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর আগে, ২০২০ সালে, অঙ্গরাজ্যটিতে জো বাইডেনের কাছে হেরে যান তিনি।

২০২০ সালের নির্বাচনে পরাজয়ের পর জর্জিয়ার ফল পাল্টে দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগে ২০২৩ সালে ট্রাম্পসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়। অভিযোগ ছিল, ট্রাম্পের পক্ষে ফল পুনর্গণনার জন্য অঙ্গরাজ্যের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার ওপর চাপ প্রয়োগ করা হয়েছিল। তবে ২০২৫ সালে ট্রাম্প আবার প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেওয়ার পর মামলাটি খারিজ হয়ে যায়।

বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ