ঢাকা ০৮:০৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo ২২৩ টাকা বাড়িয়ে ১২ কেজি এলপিজির দাম ২০৬০ টাকা নির্ধারণ Logo মিয়ানমারে চার শহরে সামরিক বাহিনীর বিমান হামলা, শিশুসহ নিহত ১৫ Logo যুক্তরাষ্ট্র থেকে আরও ৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ আনার লক্ষ্য অ্যামচ্যামের Logo মক্কায় ২ বাংলাদেশির শিরশ্ছেদ: তিন সপ্তাহেও সৌদির জবাব পায়নি ঢাকা Logo স্পিকারকে প্রধান করে ১০ সদস্যের সংসদীয় ককাস গঠন Logo মিরপুরে শ্রমিক আন্দোলনে গ্রেপ্তার ২৬ জন কারাগারে Logo অধ্যাপক ডা. এম এ হাদী চিকিৎসাক্ষেত্রের অনন্য দূরদর্শী: নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী Logo পঞ্চগড়ে তরুণীকে ধর্ষণের পর হত্যা, আসামির মৃত্যুদণ্ড Logo তুর্কি বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান বাণিজ্যমন্ত্রীর, গুরুত্ব শুল্ক বাধা নিরসনে Logo জুলাই হত্যাচেষ্টা মামলায় সাবেক এমপি ফয়জুর রহমান গ্রেপ্তার

এলাকা ছাড়তে হলো মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর বোনকে

বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রয়াত মানিক পশারীর মরদেহ দাফনে বাধা দেওয়ার ঘটনায় জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীদের নাম উল্লেখ করে কথা বলেছিলেন তার বোন হেনা বেগম। এর জেরে তাকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

পরে আতঙ্কে এলাকা ছেড়েছেন তিনি। গত বুধবার স্বজনদের সঙ্গে এলাকা ছাড়েন হেনা। এর আগে তার নিকটাত্মীয়রাও এলাকা ছেড়েছেন। এ ঘটনায় প্রশাসনের কাছে নিরাপত্তা চাইবেন বলে জানিয়েছেন হেনা।

পিরোজপুরের সদর উপজেলার শংকরপাশা ইউনিয়নের চিতলিয়া গ্রামে মানিক পশারীর বাড়ি। তার বাড়ির পাশেই বসবাস করতেন হেনা বেগম। মানিক পশারী একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জামায়াতে ইসলামীর সাবেক নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দিয়েছিলেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জামাতার বাড়িতে ছিলেন মানিক।

দুই মাস ধরে অসুস্থ থাকার পর ২৪ অক্টোবর সকালে সেখানেই তার মৃত্যু হয়।

মানিক পশারীকে পিরোজপুরে গার্ড অব অনার দেওয়াকে কেন্দ্র করে সেদিন উত্তেজনা দেখা দেয়। স্থানীয় কিছু লোক তাকে এখানে দাফন না করার দাবি জানান। এ সময় পিরোজপুর শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে জামায়াতের নেতাকর্মীদের অবস্থান নিতে ও সমবেত হতে দেখা যায়। গভীর রাতে ভয় ও আতঙ্কের মধ্যে বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করেন স্বজন।

তখন পুলিশ পাহারায় ছিল। এর পর থেকে স্বজনরা আতঙ্কে রয়েছেন বলে অভিযোগ করছেন।

হেনা বেগম মোবাইল ফোনে বলেন, রাতে ঝুপড়িঘরে থাকতে ভয় পাই। বিভিন্ন গণমাধ্যমে আমার ভাইয়ের দাফনে যারা বাধা দিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে কথা বলায় আমার ওপর নানা ধরনের হুমকি আসছে। আমি প্রশাসনের কাছে নিরাপত্তা চাইব। তাই এলাকা ছেড়ে দূরে আসছি। আমি প্রশাসনের কাছে নিরাপত্তা চাই।

মানিক পশারীর ভাই পান্না পশারী খুলনার বটিয়াঘাটায় থাকেন। ভাইয়ের মৃত্যুর খবর শুনে ২৪ অক্টোবর দুপুরে পিরোজপুরের পুরান বাসস্ট্যান্ডে গেলে তাকে হুমকি দিয়ে ফেরত পাঠানো হয় বলে তিনি অভিযোগ করেন। পান্না বলেন, ভাইয়ের জানাজা ও দাফনে অংশ নিতে গিয়েও হুমকির কারণে পিরোজপুর থেকে তাদের চলে আসতে হয়েছে।

চিতলিয়া গ্রামটি পিরোজপুরের জিয়ানগর উপজেলার সীমান্তঘেঁষা। এই উপজেলার জামায়াতে ইসলামীর আমির আলী হোসেন বলেন, ‘আমাদের দলের পক্ষে থেকে মানিকের কোনো স্বজনকে কেউ হুমকি দেয়নি, কিংবা হয়রানিও করেনি। এ ধরনের অভিযোগ সত্য নয়।’

পিরোজপুর সদর থানার ওসি শরিফুল ইসলাম বলেন, মানিক পশারীর মরদেহ দাফনের পর এলাকায় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। তারপরও আমরা নজর রাখছি। গ্রাম পুলিশ খোঁজ রাখছে। এলাকার পরিস্থিতি শান্ত।

বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

২২৩ টাকা বাড়িয়ে ১২ কেজি এলপিজির দাম ২০৬০ টাকা নির্ধারণ

এলাকা ছাড়তে হলো মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর বোনকে

আপডেট সময় ০১:৫৯:২১ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬

বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রয়াত মানিক পশারীর মরদেহ দাফনে বাধা দেওয়ার ঘটনায় জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীদের নাম উল্লেখ করে কথা বলেছিলেন তার বোন হেনা বেগম। এর জেরে তাকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

পরে আতঙ্কে এলাকা ছেড়েছেন তিনি। গত বুধবার স্বজনদের সঙ্গে এলাকা ছাড়েন হেনা। এর আগে তার নিকটাত্মীয়রাও এলাকা ছেড়েছেন। এ ঘটনায় প্রশাসনের কাছে নিরাপত্তা চাইবেন বলে জানিয়েছেন হেনা।

পিরোজপুরের সদর উপজেলার শংকরপাশা ইউনিয়নের চিতলিয়া গ্রামে মানিক পশারীর বাড়ি। তার বাড়ির পাশেই বসবাস করতেন হেনা বেগম। মানিক পশারী একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জামায়াতে ইসলামীর সাবেক নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দিয়েছিলেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জামাতার বাড়িতে ছিলেন মানিক।

দুই মাস ধরে অসুস্থ থাকার পর ২৪ অক্টোবর সকালে সেখানেই তার মৃত্যু হয়।

মানিক পশারীকে পিরোজপুরে গার্ড অব অনার দেওয়াকে কেন্দ্র করে সেদিন উত্তেজনা দেখা দেয়। স্থানীয় কিছু লোক তাকে এখানে দাফন না করার দাবি জানান। এ সময় পিরোজপুর শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে জামায়াতের নেতাকর্মীদের অবস্থান নিতে ও সমবেত হতে দেখা যায়। গভীর রাতে ভয় ও আতঙ্কের মধ্যে বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করেন স্বজন।

তখন পুলিশ পাহারায় ছিল। এর পর থেকে স্বজনরা আতঙ্কে রয়েছেন বলে অভিযোগ করছেন।

হেনা বেগম মোবাইল ফোনে বলেন, রাতে ঝুপড়িঘরে থাকতে ভয় পাই। বিভিন্ন গণমাধ্যমে আমার ভাইয়ের দাফনে যারা বাধা দিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে কথা বলায় আমার ওপর নানা ধরনের হুমকি আসছে। আমি প্রশাসনের কাছে নিরাপত্তা চাইব। তাই এলাকা ছেড়ে দূরে আসছি। আমি প্রশাসনের কাছে নিরাপত্তা চাই।

মানিক পশারীর ভাই পান্না পশারী খুলনার বটিয়াঘাটায় থাকেন। ভাইয়ের মৃত্যুর খবর শুনে ২৪ অক্টোবর দুপুরে পিরোজপুরের পুরান বাসস্ট্যান্ডে গেলে তাকে হুমকি দিয়ে ফেরত পাঠানো হয় বলে তিনি অভিযোগ করেন। পান্না বলেন, ভাইয়ের জানাজা ও দাফনে অংশ নিতে গিয়েও হুমকির কারণে পিরোজপুর থেকে তাদের চলে আসতে হয়েছে।

চিতলিয়া গ্রামটি পিরোজপুরের জিয়ানগর উপজেলার সীমান্তঘেঁষা। এই উপজেলার জামায়াতে ইসলামীর আমির আলী হোসেন বলেন, ‘আমাদের দলের পক্ষে থেকে মানিকের কোনো স্বজনকে কেউ হুমকি দেয়নি, কিংবা হয়রানিও করেনি। এ ধরনের অভিযোগ সত্য নয়।’

পিরোজপুর সদর থানার ওসি শরিফুল ইসলাম বলেন, মানিক পশারীর মরদেহ দাফনের পর এলাকায় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। তারপরও আমরা নজর রাখছি। গ্রাম পুলিশ খোঁজ রাখছে। এলাকার পরিস্থিতি শান্ত।

বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ