ঢাকা ০৯:০৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo সেন্টমার্টিনে পর্যটনের সময়সীমা ও পর্যটক সংখ্যা পুনর্বিবেচনা করা হবে: পরিবেশমন্ত্রী Logo সৌদি আরবে হামলায় নিহত নাসরুল্লাহর মরদেহ দেশে ফেরাতে পরিবারের আকুতি Logo সৌদি আরবে বাংলাদেশি নাগরিকদের সতর্ক থাকতে বললো দূতাবাস Logo মোহাম্মদপুরে ভ্যানিটি ব্যাগ থেকে ৯টি ককটেল উদ্ধার Logo সাবেক শিক্ষামন্ত্রী নাহিদ ও তার স্ত্রীর সম্পদের হিসাব নেবে দুদক Logo বিদেশি বিনিয়োগ টানতে বেসরকারি পুঁজিতে জোর বিশ্বব্যাংকের Logo ইসরায়েলে ভয়াবহ বিস্ফোরণ, হতাহত ২০ Logo ফটিকছড়িতে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর শিক্ষার্থী ও অসচ্ছলদের আর্থিক সহায়তা Logo দেশের সিনেমা হলের উন্নয়নে পদক্ষেপ নেবে সরকার: তথ্য প্রতিমন্ত্রী Logo চাকরি পেতে এআই জানা জরুরি, নিয়োগে বড় পরিবর্তন আনছে টিসিএস

নারায়ণগঞ্জে এক রাতেই তিন স্থানে বিস্ফোরণ, দগ্ধ ৯

নারায়ণগঞ্জে এক রাতের ব্যবধানে পৃথক তিনটি স্থানে গ্যাস ও রাসায়নিক পদার্থের কারণে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এতে নারী-পুরুষসহ অন্তত ৯ জন দগ্ধ হয়েছেন। তাদের মধ্যে কয়েকজনের শরীরের বড় অংশ পুড়ে গেছে। গুরুতর দগ্ধ চারজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা।

শনিবার (১০ অক্টোবর) গভীর রাত থেকে রোববার (১১ অক্টোবর) ভোর পর্যন্ত জেলার কাঁচপুর, ফতুল্লা ও নারায়ণগঞ্জ শহরের দেওভোগ এলাকায় এসব দুর্ঘটনা ঘটে। দগ্ধ ব্যক্তিদের রাজধানীর জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে।

ফায়ার সার্ভিস ও হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, তিনটি ঘটনার মধ্যে কাঁচপুরে গ্যাস সিলিন্ডার লিকেজ, ফতুল্লায় রাসায়নিক গুদামে গ্যাস জমে এবং দেওভোগে বাসার রান্নাঘরে গ্যাস জমে বিস্ফোরণ ঘটে।

শনিবার রাত দেড়টার দিকে সোনারগাঁয়ের কাঁচপুর এলাকায় তাজুল ইসলামের ছয়তলা ভাড়াবাড়ির দ্বিতীয় তলায় গ্যাস সিলিন্ডার লিকেজ থেকে বিস্ফোরণ ঘটে। এতে একই পরিবারের চারজন দগ্ধ হন।

দগ্ধ ব্যক্তিরা হলেন পোশাকশ্রমিক রোজিনা, তার স্বামী শরিফ, ভাই রিয়াজ ও রনি। তাদের মধ্যে রোজিনার শরীরের ৬০ শতাংশ, শরিফ ও রিয়াজের ৪০ শতাংশ করে এবং রনির শরীরের ৭০ শতাংশ পুড়ে গেছে বলে জানা গেছে।

একই রাতে ফতুল্লার একটি রাসায়নিক গুদামে বিস্ফোরণে দুই শ্রমিক দগ্ধ হন। তাদের মধ্যে আনোয়ারের শরীরের ৫৪ শতাংশ এবং শামসুলের ৫৫ শতাংশ পুড়ে গেছে। ফায়ার সার্ভিসের প্রাথমিক ধারণা, গুদামে রাসায়নিক গ্যাস জমে বিস্ফোরণটি ঘটে থাকতে পারে।

এরপর রোববার ভোরে নারায়ণগঞ্জ শহরের দেওভোগ আখড়া এলাকার একটি তিনতলা ভবনের নিচতলার রান্নাঘরে জমে থাকা গ্যাস থেকে বিস্ফোরণ ঘটে। এতে গৃহবধূ শিখা রানী, তার স্বামী মনা আচার্য ও তার বৃদ্ধা শাশুড়ি দগ্ধ হন। এ ঘটনায় পাশের একটি টিনশেড ঘরে থাকা আরও একজন আহত হন।

খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের মণ্ডলপাড়া ইউনিটের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। পরে দগ্ধ ও আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়।

নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক আবদুল্লাহ আল আরেফিন জানান, কাঁচপুরে গ্যাস সিলিন্ডার এবং দেওভোগে তিতাসের পাইপলাইনের লিকেজ থেকে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। আর ফতুল্লার রাসায়নিক গুদামে গ্যাস জমে বিস্ফোরণ হয়ে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের চিকিৎসক সুলতান মাহমুদ শিকদার জানান, দগ্ধদের মধ্যে কয়েকজনের শ্বাসনালি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাদের কয়েকজনকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ

Tag :

সেন্টমার্টিনে পর্যটনের সময়সীমা ও পর্যটক সংখ্যা পুনর্বিবেচনা করা হবে: পরিবেশমন্ত্রী

নারায়ণগঞ্জে এক রাতেই তিন স্থানে বিস্ফোরণ, দগ্ধ ৯

আপডেট সময় ০৩:৫৫:২৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬

নারায়ণগঞ্জে এক রাতের ব্যবধানে পৃথক তিনটি স্থানে গ্যাস ও রাসায়নিক পদার্থের কারণে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এতে নারী-পুরুষসহ অন্তত ৯ জন দগ্ধ হয়েছেন। তাদের মধ্যে কয়েকজনের শরীরের বড় অংশ পুড়ে গেছে। গুরুতর দগ্ধ চারজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা।

শনিবার (১০ অক্টোবর) গভীর রাত থেকে রোববার (১১ অক্টোবর) ভোর পর্যন্ত জেলার কাঁচপুর, ফতুল্লা ও নারায়ণগঞ্জ শহরের দেওভোগ এলাকায় এসব দুর্ঘটনা ঘটে। দগ্ধ ব্যক্তিদের রাজধানীর জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে।

ফায়ার সার্ভিস ও হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, তিনটি ঘটনার মধ্যে কাঁচপুরে গ্যাস সিলিন্ডার লিকেজ, ফতুল্লায় রাসায়নিক গুদামে গ্যাস জমে এবং দেওভোগে বাসার রান্নাঘরে গ্যাস জমে বিস্ফোরণ ঘটে।

শনিবার রাত দেড়টার দিকে সোনারগাঁয়ের কাঁচপুর এলাকায় তাজুল ইসলামের ছয়তলা ভাড়াবাড়ির দ্বিতীয় তলায় গ্যাস সিলিন্ডার লিকেজ থেকে বিস্ফোরণ ঘটে। এতে একই পরিবারের চারজন দগ্ধ হন।

দগ্ধ ব্যক্তিরা হলেন পোশাকশ্রমিক রোজিনা, তার স্বামী শরিফ, ভাই রিয়াজ ও রনি। তাদের মধ্যে রোজিনার শরীরের ৬০ শতাংশ, শরিফ ও রিয়াজের ৪০ শতাংশ করে এবং রনির শরীরের ৭০ শতাংশ পুড়ে গেছে বলে জানা গেছে।

একই রাতে ফতুল্লার একটি রাসায়নিক গুদামে বিস্ফোরণে দুই শ্রমিক দগ্ধ হন। তাদের মধ্যে আনোয়ারের শরীরের ৫৪ শতাংশ এবং শামসুলের ৫৫ শতাংশ পুড়ে গেছে। ফায়ার সার্ভিসের প্রাথমিক ধারণা, গুদামে রাসায়নিক গ্যাস জমে বিস্ফোরণটি ঘটে থাকতে পারে।

এরপর রোববার ভোরে নারায়ণগঞ্জ শহরের দেওভোগ আখড়া এলাকার একটি তিনতলা ভবনের নিচতলার রান্নাঘরে জমে থাকা গ্যাস থেকে বিস্ফোরণ ঘটে। এতে গৃহবধূ শিখা রানী, তার স্বামী মনা আচার্য ও তার বৃদ্ধা শাশুড়ি দগ্ধ হন। এ ঘটনায় পাশের একটি টিনশেড ঘরে থাকা আরও একজন আহত হন।

খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের মণ্ডলপাড়া ইউনিটের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। পরে দগ্ধ ও আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়।

নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক আবদুল্লাহ আল আরেফিন জানান, কাঁচপুরে গ্যাস সিলিন্ডার এবং দেওভোগে তিতাসের পাইপলাইনের লিকেজ থেকে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। আর ফতুল্লার রাসায়নিক গুদামে গ্যাস জমে বিস্ফোরণ হয়ে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের চিকিৎসক সুলতান মাহমুদ শিকদার জানান, দগ্ধদের মধ্যে কয়েকজনের শ্বাসনালি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাদের কয়েকজনকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ