ঢাকা ১২:২৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo ইতিহাসে সর্বোচ্চ আয়ের রেকর্ড গড়ল বার্সেলোনা Logo মান্যতাকে সিঁদুর পরিয়ে আলোচনায় সঞ্জয় দত্ত Logo রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে পাঁচ প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর Logo জাতিসংঘকে ‘অকার্যকর সংস্থা’ বললেন আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট Logo কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে প্রতিযোগী নয়, বরং হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের তাগিদ এ কে এম ওয়াহিদুজ্জামানের Logo ঘন ঘন মাথাব্যথা কি জটিল রোগের ইঙ্গিত? Logo গবেষণার পর গর্ভাবস্থায় ‘ভুলে যাওয়ার’ কারণ খুঁজে পেলেন বিজ্ঞানীরা Logo বারিধারায় নির্মাণ শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনায় কিশোর গ্রেপ্তার Logo আমরা সন্ত্রাসী নই, সন্ত্রাসবাদের শিকার: ইরানের প্রেসিডেন্ট Logo আগামী শুক্র ও শনিবার ব্যাংক খোলা থাকবে

গবেষণার পর গর্ভাবস্থায় ‘ভুলে যাওয়ার’ কারণ খুঁজে পেলেন বিজ্ঞানীরা

গর্ভাবস্থায় অনেক নারী হঠাৎ করে ছোটখাটো বিষয় ভুলে যাওয়ার অভিজ্ঞতার কথা জানান। রান্নাঘরে গিয়ে কেন গিয়েছিলেন তা মনে না থাকা, ফোন হাতে নিয়েও কাকে কল করবেন ভুলে যাওয়া কিংবা কোনো জিনিস খুঁজতে গিয়ে কী খুঁজছিলেন তা মনে করতে না পারা এসবকে সাধারণভাবে ‘প্রেগন্যান্সি ব্রেইন’, ‘বেবি ব্রেইন’ বা ‘মমোনেশিয়া’ বলা হয়। এবার এই ধরনের স্মৃতিভ্রংশের সম্ভাব্য জৈবিক কারণের ব্যাখ্যা দিয়েছেন বিজ্ঞানীরা।

‘সায়েন্স বুলেটিন’-এ প্রকাশিত এক গবেষণায় বলা হয়েছে, গর্ভাবস্থায় দীর্ঘ সময় ধরে ইস্ট্রোজেনের মাত্রা বেশি থাকার কারণে মস্তিষ্কের নির্দিষ্ট একটি স্নায়ুপথের কার্যক্রমে পরিবর্তন আসতে পারে। এর ফলে সাময়িকভাবে কিছু ধরনের স্মৃতিশক্তি দুর্বল হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের বেইলর কলেজ অব মেডিসিনের এন্ডোক্রাইনোলজি ও মলিকিউলার বায়োলজির অধ্যাপক ডা. ঝেং সান গবেষণায় অংশ নিয়েছিলেন । তিনি জানান, মমোনেশিয়া গর্ভাবস্থার শেষ দিকে সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। সন্তান জন্মের পরও কিছু সময় এটি থাকতে পারে। তবে সাধারণত সন্তান জন্মের পর ধীরে ধীরে তা কমে যায়।

গবেষণাটিতে ইঁদুরের ওপর পরীক্ষা চালানো হয়। গর্ভাবস্থার মতো দীর্ঘস্থায়ী উচ্চ ইস্ট্রোজেনের পরিস্থিতি তৈরি করলে প্রাণীগুলোর স্বল্পমেয়াদি স্মৃতিশক্তিতে দুর্বলতা দেখা যায়। তবে তাদের মেজাজে উল্লেখযোগ্য কোনো পরিবর্তন হয়নি। গবেষকেরা জানান, এর সঙ্গে হাইপোথ্যালামাস ও হিপোক্যাম্পাসের মধ্যকার একটি স্নায়ুপথের সম্পর্ক রয়েছে। হাইপোথ্যালামাস শরীরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে, আর হিপোক্যাম্পাস স্মৃতি তৈরি ও সংরক্ষণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।

ইস্ট্রোজেনের মাত্রা বেড়ে গেলে হাইপোথ্যালামাসের কিছু নিউরনের কার্যক্রম অতিরিক্ত সক্রিয় হয়ে ওঠে। এর ফলে হিপোক্যাম্পাসের কার্যক্রম কমে গিয়ে স্মৃতির ওপর প্রভাব পড়ে বলে গবেষকেরা মনে করছেন। গবেষণার সহলেখক অধ্যাপক ইয়ানলিন হে বলেন, গর্ভাবস্থা একজন নারীকে কম বুদ্ধিমান করে না। বরং কিছু নির্দিষ্ট ধরনের স্মৃতি ও চিন্তাসংক্রান্ত কাজে সূক্ষ্ম পরিবর্তন দেখা দিতে পারে।

গবেষকেরা আরও জানান, প্রায় ৮০ শতাংশ গর্ভবতী নারী এ ধরনের পরিবর্তন অনুভব করার কথা জানান। তবে এই পরিসংখ্যান মূলত নারীদের নিজস্ব অভিজ্ঞতার ওপর ভিত্তি করে তৈরি, বস্তুনিষ্ঠ পরীক্ষার ফল নয়। মানুষের ক্ষেত্রেও একই প্রক্রিয়া কাজ করে কি না, তা যাচাই করতে গবেষকেরা ৭০ জন নারীর স্মৃতিশক্তি পরীক্ষা করেন। তাদের মধ্যে গর্ভবতী ও গর্ভবতী নন উভয় ধরনের নারী ছিলেন। পরীক্ষায় দেখা যায়, গর্ভাবস্থার শেষ দিকে কিছু নারীর স্মৃতিশক্তিতে সামান্য দুর্বলতা দেখা দেয়। একই সময়ে তাদের রক্তে ইস্ট্রোজেনের মাত্রাও বেশি ছিল।

তবে গবেষকেরা সতর্ক করে বলেছেন, মানুষের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট স্নায়ুপথটি সরাসরি পরিমাপ বা পরিবর্তন করা হয়নি। তাই ইঁদুরের পরীক্ষার মতো মানুষের ক্ষেত্রে এখনো সরাসরি কারণ-ফল সম্পর্ক প্রমাণিত হয়নি। সন্তান জন্মের পর সাধারণত এসব স্মৃতিসংক্রান্ত পরিবর্তন ধীরে ধীরে কমে আসে।

সূত্র: রয়টার্স

বাংলা৭১নিউজ/জেএস

Tag :

ইতিহাসে সর্বোচ্চ আয়ের রেকর্ড গড়ল বার্সেলোনা

গবেষণার পর গর্ভাবস্থায় ‘ভুলে যাওয়ার’ কারণ খুঁজে পেলেন বিজ্ঞানীরা

আপডেট সময় ১০:২৬:০০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

গর্ভাবস্থায় অনেক নারী হঠাৎ করে ছোটখাটো বিষয় ভুলে যাওয়ার অভিজ্ঞতার কথা জানান। রান্নাঘরে গিয়ে কেন গিয়েছিলেন তা মনে না থাকা, ফোন হাতে নিয়েও কাকে কল করবেন ভুলে যাওয়া কিংবা কোনো জিনিস খুঁজতে গিয়ে কী খুঁজছিলেন তা মনে করতে না পারা এসবকে সাধারণভাবে ‘প্রেগন্যান্সি ব্রেইন’, ‘বেবি ব্রেইন’ বা ‘মমোনেশিয়া’ বলা হয়। এবার এই ধরনের স্মৃতিভ্রংশের সম্ভাব্য জৈবিক কারণের ব্যাখ্যা দিয়েছেন বিজ্ঞানীরা।

‘সায়েন্স বুলেটিন’-এ প্রকাশিত এক গবেষণায় বলা হয়েছে, গর্ভাবস্থায় দীর্ঘ সময় ধরে ইস্ট্রোজেনের মাত্রা বেশি থাকার কারণে মস্তিষ্কের নির্দিষ্ট একটি স্নায়ুপথের কার্যক্রমে পরিবর্তন আসতে পারে। এর ফলে সাময়িকভাবে কিছু ধরনের স্মৃতিশক্তি দুর্বল হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের বেইলর কলেজ অব মেডিসিনের এন্ডোক্রাইনোলজি ও মলিকিউলার বায়োলজির অধ্যাপক ডা. ঝেং সান গবেষণায় অংশ নিয়েছিলেন । তিনি জানান, মমোনেশিয়া গর্ভাবস্থার শেষ দিকে সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। সন্তান জন্মের পরও কিছু সময় এটি থাকতে পারে। তবে সাধারণত সন্তান জন্মের পর ধীরে ধীরে তা কমে যায়।

গবেষণাটিতে ইঁদুরের ওপর পরীক্ষা চালানো হয়। গর্ভাবস্থার মতো দীর্ঘস্থায়ী উচ্চ ইস্ট্রোজেনের পরিস্থিতি তৈরি করলে প্রাণীগুলোর স্বল্পমেয়াদি স্মৃতিশক্তিতে দুর্বলতা দেখা যায়। তবে তাদের মেজাজে উল্লেখযোগ্য কোনো পরিবর্তন হয়নি। গবেষকেরা জানান, এর সঙ্গে হাইপোথ্যালামাস ও হিপোক্যাম্পাসের মধ্যকার একটি স্নায়ুপথের সম্পর্ক রয়েছে। হাইপোথ্যালামাস শরীরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে, আর হিপোক্যাম্পাস স্মৃতি তৈরি ও সংরক্ষণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।

ইস্ট্রোজেনের মাত্রা বেড়ে গেলে হাইপোথ্যালামাসের কিছু নিউরনের কার্যক্রম অতিরিক্ত সক্রিয় হয়ে ওঠে। এর ফলে হিপোক্যাম্পাসের কার্যক্রম কমে গিয়ে স্মৃতির ওপর প্রভাব পড়ে বলে গবেষকেরা মনে করছেন। গবেষণার সহলেখক অধ্যাপক ইয়ানলিন হে বলেন, গর্ভাবস্থা একজন নারীকে কম বুদ্ধিমান করে না। বরং কিছু নির্দিষ্ট ধরনের স্মৃতি ও চিন্তাসংক্রান্ত কাজে সূক্ষ্ম পরিবর্তন দেখা দিতে পারে।

গবেষকেরা আরও জানান, প্রায় ৮০ শতাংশ গর্ভবতী নারী এ ধরনের পরিবর্তন অনুভব করার কথা জানান। তবে এই পরিসংখ্যান মূলত নারীদের নিজস্ব অভিজ্ঞতার ওপর ভিত্তি করে তৈরি, বস্তুনিষ্ঠ পরীক্ষার ফল নয়। মানুষের ক্ষেত্রেও একই প্রক্রিয়া কাজ করে কি না, তা যাচাই করতে গবেষকেরা ৭০ জন নারীর স্মৃতিশক্তি পরীক্ষা করেন। তাদের মধ্যে গর্ভবতী ও গর্ভবতী নন উভয় ধরনের নারী ছিলেন। পরীক্ষায় দেখা যায়, গর্ভাবস্থার শেষ দিকে কিছু নারীর স্মৃতিশক্তিতে সামান্য দুর্বলতা দেখা দেয়। একই সময়ে তাদের রক্তে ইস্ট্রোজেনের মাত্রাও বেশি ছিল।

তবে গবেষকেরা সতর্ক করে বলেছেন, মানুষের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট স্নায়ুপথটি সরাসরি পরিমাপ বা পরিবর্তন করা হয়নি। তাই ইঁদুরের পরীক্ষার মতো মানুষের ক্ষেত্রে এখনো সরাসরি কারণ-ফল সম্পর্ক প্রমাণিত হয়নি। সন্তান জন্মের পর সাধারণত এসব স্মৃতিসংক্রান্ত পরিবর্তন ধীরে ধীরে কমে আসে।

সূত্র: রয়টার্স

বাংলা৭১নিউজ/জেএস