ঢাকা ০৪:১৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

৪৬ লাখের বেশি মামলার জট, বিচার বিভাগের সক্ষমতা বাড়াতে হবে : আইনমন্ত্রী

দেশে বর্তমানে ৪৬ লাখের বেশি মামলা বিচারাধীন রয়েছে জানিয়ে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, মামলাজট নিরসন এবং ভুক্তভোগীদের আইনি সহায়তা দিতে বিচার বিভাগের সক্ষমতা আরো বাড়াতে হবে।

আজ বৃহস্পতিবার ঢাকায় আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং জাতিসংঘের মাদক ও অপরাধ বিষয়ক দপ্তরের (ইউএনওডিসি) আয়োজিত জাতীয় পরামর্শ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

আইনমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমানে আমাদের ৪৬ লাখের বেশি মামলার জট রয়েছে। এই মামলার জট নিরসন এবং ভুক্তভোগীদের আইনি সহায়তা দেওয়ার জন্য বিচার বিভাগের সক্ষমতা আরো বাড়ানো প্রয়োজন।’

মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান দমনে নতুন আইনের কার্যকর প্রয়োগে বিচারক, প্রসিকিউটর ও সংশ্লিষ্ট বিচারিক প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা বাড়ানো, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদার এবং ভুক্তভোগী ও সাক্ষীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার ওপর সভায় গুরুত্ব দেওয়া হয়।

সভায় ২০২৬ সালে প্রণীত ‘মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন এবং অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০২৬’ বাস্তবায়নের বিভিন্ন দিক নিয়ে বিচারক, প্রসিকিউটর ও বিচার বিভাগের সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা আলোচনা করেন।

এ বছরের এপ্রিলে প্রণীত নতুন আইনটি ২০১২ সালের মানব পাচারবিরোধী আইনকে প্রতিস্থাপন করেছে। নতুন আইনে মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান—দুই অপরাধকে একটি সমন্বিত আইনি কাঠামোর আওতায় আনা হয়েছে। এতে অপরাধের সংজ্ঞা ও বিধান, তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়া, বিশেষ ট্রাইব্যুনাল, ভুক্তভোগীদের সুরক্ষা এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার বিষয়গুলোকে আরও বিস্তৃত করা হয়েছে।

পরামর্শ সভায় নতুন আইনে যুক্ত হওয়া গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এবং সেগুলোর সঙ্গে তদন্তকারী কর্মকর্তা, প্রসিকিউটর ও বিচারকদের কাজের সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা হয়।

মানব পাচার, অভিবাসী চোরাচালান এবং অনিয়মিত অভিবাসনের মধ্যে পার্থক্য নিয়েও আলোচনা করেন অংশগ্রহণকারীরা।

এ ছাড়া প্রযুক্তির মাধ্যমে সংঘটিত অপরাধের নতুন ধরন, প্রমাণ সংগ্রহ ও উপস্থাপনের ক্ষেত্রে আইনি ও প্রক্রিয়াগত বিষয় এবং তদন্ত, মামলা পরিচালনা, ভুক্তভোগীকে সংশ্লিষ্ট সেবায় পাঠানো ও বিচারিক কার্যক্রমের প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থাপনা নিয়েও মতবিনিময় হয়।

পরামর্শ সভায় চারটি প্রধান ক্ষেত্রে সুপারিশ তৈরি করা হয়। এগুলো হলো—নতুন আইন বাস্তবায়নের জন্য আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো, বিচারক ও প্রসিকিউটরদের সক্ষমতা বৃদ্ধি, আন্তঃদেশীয় মামলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং ভুক্তভোগী ও সাক্ষীদের সুরক্ষা, সহায়তা ও ন্যায়বিচারে প্রবেশাধিকার।

আলোচনায় বলা হয়, নতুন আইন কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের জন্য ব্যবহারিক নির্দেশনা, বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ এবং আইনের বিভিন্ন বিধানের ধারাবাহিক ব্যাখ্যা প্রয়োজন।

একই সঙ্গে বিচার বিভাগের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো এবং পুরো বিচারিক প্রক্রিয়ায় ভুক্তভোগীর সুরক্ষার বিষয়টি নিশ্চিত করার প্রয়োজন রয়েছে। বিশেষ করে ডিজিটাল, আর্থিক ও আন্তঃসীমান্ত প্রমাণসংবলিত মামলাগুলো মোকাবিলায় যথাযথ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

আইন ও বিচার বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. খাদেম উল কায়েস জাতীয় পরামর্শ সভায় সভাপতিত্ব করেন। ইউএনওডিসির দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক প্রতিনিধি ক্রিস্টিয়ান হোলগে এবং ইউএনওডিসি দক্ষিণ এশিয়ার প্রোগ্রাম ম্যানেজমেন্ট কর্মকর্তা মাহদি হাসান স্বাগত ও উদ্বোধনী বক্তব্য দেন।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে পরিচালিত ‘দক্ষিণ এশিয়ায় মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও মোকাবিলা (২০২৪-২০২৭)’ আঞ্চলিক উদ্যোগের আওতায় এ পরামর্শ সভার আয়োজন করা হয়।

এ উদ্যোগের মাধ্যমে বাংলাদেশে মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান মোকাবিলায় আইনি, প্রাতিষ্ঠানিক ও ফৌজদারি বিচারব্যবস্থার সক্ষমতা বাড়াতে ইউএনওডিসি নীতিগত সহায়তা, সক্ষমতা উন্নয়ন, প্রমাণভিত্তিক কার্যক্রম এবং আঞ্চলিক সহযোগিতায় সহায়তা করছে।

পরামর্শ সভা থেকে পাওয়া সুপারিশগুলো বিচার বিভাগের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে পরবর্তী কার্যক্রম এবং ২০২৬ সালের নতুন আইন কার্যকরভাবে বাস্তবায়নে ভবিষ্যৎ কারিগরি সহায়তার ক্ষেত্রে বিবেচনায় নেওয়া হবে।

বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ

Tag :

৪৬ লাখের বেশি মামলার জট, বিচার বিভাগের সক্ষমতা বাড়াতে হবে : আইনমন্ত্রী

আপডেট সময় ০২:৪৭:৫৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দেশে বর্তমানে ৪৬ লাখের বেশি মামলা বিচারাধীন রয়েছে জানিয়ে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, মামলাজট নিরসন এবং ভুক্তভোগীদের আইনি সহায়তা দিতে বিচার বিভাগের সক্ষমতা আরো বাড়াতে হবে।

আজ বৃহস্পতিবার ঢাকায় আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং জাতিসংঘের মাদক ও অপরাধ বিষয়ক দপ্তরের (ইউএনওডিসি) আয়োজিত জাতীয় পরামর্শ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

আইনমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমানে আমাদের ৪৬ লাখের বেশি মামলার জট রয়েছে। এই মামলার জট নিরসন এবং ভুক্তভোগীদের আইনি সহায়তা দেওয়ার জন্য বিচার বিভাগের সক্ষমতা আরো বাড়ানো প্রয়োজন।’

মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান দমনে নতুন আইনের কার্যকর প্রয়োগে বিচারক, প্রসিকিউটর ও সংশ্লিষ্ট বিচারিক প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা বাড়ানো, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদার এবং ভুক্তভোগী ও সাক্ষীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার ওপর সভায় গুরুত্ব দেওয়া হয়।

সভায় ২০২৬ সালে প্রণীত ‘মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন এবং অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০২৬’ বাস্তবায়নের বিভিন্ন দিক নিয়ে বিচারক, প্রসিকিউটর ও বিচার বিভাগের সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা আলোচনা করেন।

এ বছরের এপ্রিলে প্রণীত নতুন আইনটি ২০১২ সালের মানব পাচারবিরোধী আইনকে প্রতিস্থাপন করেছে। নতুন আইনে মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান—দুই অপরাধকে একটি সমন্বিত আইনি কাঠামোর আওতায় আনা হয়েছে। এতে অপরাধের সংজ্ঞা ও বিধান, তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়া, বিশেষ ট্রাইব্যুনাল, ভুক্তভোগীদের সুরক্ষা এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার বিষয়গুলোকে আরও বিস্তৃত করা হয়েছে।

পরামর্শ সভায় নতুন আইনে যুক্ত হওয়া গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এবং সেগুলোর সঙ্গে তদন্তকারী কর্মকর্তা, প্রসিকিউটর ও বিচারকদের কাজের সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা হয়।

মানব পাচার, অভিবাসী চোরাচালান এবং অনিয়মিত অভিবাসনের মধ্যে পার্থক্য নিয়েও আলোচনা করেন অংশগ্রহণকারীরা।

এ ছাড়া প্রযুক্তির মাধ্যমে সংঘটিত অপরাধের নতুন ধরন, প্রমাণ সংগ্রহ ও উপস্থাপনের ক্ষেত্রে আইনি ও প্রক্রিয়াগত বিষয় এবং তদন্ত, মামলা পরিচালনা, ভুক্তভোগীকে সংশ্লিষ্ট সেবায় পাঠানো ও বিচারিক কার্যক্রমের প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থাপনা নিয়েও মতবিনিময় হয়।

পরামর্শ সভায় চারটি প্রধান ক্ষেত্রে সুপারিশ তৈরি করা হয়। এগুলো হলো—নতুন আইন বাস্তবায়নের জন্য আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো, বিচারক ও প্রসিকিউটরদের সক্ষমতা বৃদ্ধি, আন্তঃদেশীয় মামলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং ভুক্তভোগী ও সাক্ষীদের সুরক্ষা, সহায়তা ও ন্যায়বিচারে প্রবেশাধিকার।

আলোচনায় বলা হয়, নতুন আইন কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের জন্য ব্যবহারিক নির্দেশনা, বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ এবং আইনের বিভিন্ন বিধানের ধারাবাহিক ব্যাখ্যা প্রয়োজন।

একই সঙ্গে বিচার বিভাগের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো এবং পুরো বিচারিক প্রক্রিয়ায় ভুক্তভোগীর সুরক্ষার বিষয়টি নিশ্চিত করার প্রয়োজন রয়েছে। বিশেষ করে ডিজিটাল, আর্থিক ও আন্তঃসীমান্ত প্রমাণসংবলিত মামলাগুলো মোকাবিলায় যথাযথ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

আইন ও বিচার বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. খাদেম উল কায়েস জাতীয় পরামর্শ সভায় সভাপতিত্ব করেন। ইউএনওডিসির দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক প্রতিনিধি ক্রিস্টিয়ান হোলগে এবং ইউএনওডিসি দক্ষিণ এশিয়ার প্রোগ্রাম ম্যানেজমেন্ট কর্মকর্তা মাহদি হাসান স্বাগত ও উদ্বোধনী বক্তব্য দেন।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে পরিচালিত ‘দক্ষিণ এশিয়ায় মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও মোকাবিলা (২০২৪-২০২৭)’ আঞ্চলিক উদ্যোগের আওতায় এ পরামর্শ সভার আয়োজন করা হয়।

এ উদ্যোগের মাধ্যমে বাংলাদেশে মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান মোকাবিলায় আইনি, প্রাতিষ্ঠানিক ও ফৌজদারি বিচারব্যবস্থার সক্ষমতা বাড়াতে ইউএনওডিসি নীতিগত সহায়তা, সক্ষমতা উন্নয়ন, প্রমাণভিত্তিক কার্যক্রম এবং আঞ্চলিক সহযোগিতায় সহায়তা করছে।

পরামর্শ সভা থেকে পাওয়া সুপারিশগুলো বিচার বিভাগের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে পরবর্তী কার্যক্রম এবং ২০২৬ সালের নতুন আইন কার্যকরভাবে বাস্তবায়নে ভবিষ্যৎ কারিগরি সহায়তার ক্ষেত্রে বিবেচনায় নেওয়া হবে।

বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ