নেত্রকোনার বারহাট্টায় গ্যাসের সিলিন্ডার বিস্ফোরণে অগ্নিদগ্ধ শিউলী রানী দাস (২৬) নামের এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
এর আগে সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) রাতে নিজ বাড়িতে অগ্নিদগ্ধ হন তিনি।
বারহাট্টা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) চম্পক দাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
নিহত শিউলী রানী দাস উপজেলার বৃ-কালিকা গ্রামের মিন্টু চন্দ্র দাসের স্ত্রী।
পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার রাত ৮টার দিকে বৃ-কালিকা গ্রামের মিন্টু চন্দ্র দাসের বাড়িতে বিস্ফোরণের শব্দ শুনতে পান স্থানীয়রা।
পরে ঘরের ভেতরে আগুন জ্বলতে দেখে তাঁরা এগিয়ে আসেন। এ সময় শিউলী রানী দাস গ্যাসের চুলায় রাতের রান্না করছিলেন। রান্না শুরুর পরপরই গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হলে ঘরে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় ভাতের চাল চারদিকে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে।
বিস্ফোরণের সময় ঘরে শিউলী রানী দাসের দুই শিশু সন্তানও ছিল। স্থানীয়দের ভাষ্য, শিউলী প্রথমে দুই সন্তানকে ঘর থেকে বের করে দেন। পরে আগুন নেভানোর চেষ্টা করতে গিয়ে তিনি দগ্ধ হন। স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহে পাঠানো হয়।
সেখান থেকে তাঁকে ঢাকার একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়।
প্রতিবেশী কাজল চন্দ্র দাস বলেন, আগুনে মিন্টু চন্দ্র দাসের ঘরের সব কিছু পুড়ে গেছে। শিউলী রানী দাসের শরীরের প্রায় সম্পূর্ণ অংশ পুড়ে যায়। স্থানীয়রা আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। পরে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা এসে আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
অপর প্রতিবেশী নারায়ণ চন্দ্র দাস বলেন, শিউলী রানী দাসের অবস্থা আশঙ্কাজনক ছিল। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছিল।
বারহাট্টা ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন লিডার বিপুল কুমার ঘোষ বলেন, গ্যাসের সিলিন্ডার বিস্ফোরণ থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছিল। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় শিউলী রানী দাসকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছিল।
বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ























