ঢাকা ১২:৪৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo ওবায়দুল কাদেরসহ আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের ৭ শীর্ষ নেতার মৃত্যুদণ্ড Logo কুমিল্লায় বোন ও ভাতিজাকে কুপিয়ে হত্যা Logo ইসি ঘোষিত ইউপি নির্বাচনের সময়সূচি নিয়ে সরকার জানে না : প্রতিমন্ত্রী Logo দুই গোলে পিছিয়ে থেকেও ইন্টারের মহাকাব্যিক প্রত্যাবর্তন Logo দুর্নীতির মামলায় এস কে সুরের স্ত্রী সুপর্ণার ২ বছরের কারাদণ্ড Logo বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের সঙ্গে চীনা রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ Logo সঙ্গীর খোঁজে ৪ হাজার কিলোমিটার : আফ্রিকান বন্য কুকুর দলের অবিশ্বাস্য যাত্রা Logo টেস্ট থেকে অবসরের ইঙ্গিত স্মিথের Logo নাট্য নির্মাতা মারুফ হোসেন সজীব আর নেই Logo নাসিরনগরে স্পিডবোট-বাল্কহেড মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ২

বন্ধ কারখানা চালু করতে ২০ হাজার কোটি টাকার ঋণ তহবিল, ছাড় হয়নি এক টাকাও

বন্ধ কারখানা চালু করতে বাংলাদেশ ব্যাংকের ২০ হাজার কোটি টাকার ঋণ তহবিল চালুর সাড়ে তিন মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো এক টাকাও ছাড় হয়নি। স্বল্পসুদের এ ঋণ পেতে হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে আগের খেলাপি ঋণ নিয়মিত করতে হবে।

কিন্তু বন্ধ কারখানাগুলোর বেশির ভাগই বর্তমানে ঋণখেলাপি হওয়ায় তহবিল থেকে ঋণ বিতরণে জটিলতা তৈরি হয়েছে।

এক প্রতিবেদনে ডেইলিস্টার জানায়, এ ছাড়া বন্ধ কারখানাগুলো পুনরায় চালু হলে আর্থিকভাবে ঘুরে দাঁড়াতে পারবে কি না, প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও গ্যাস-বিদ্যুৎসহ জ্বালানি সুবিধা পাবে কি না এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে টিকে থাকতে পারবে কি না সংশয় রয়েছে।

ব্যাংক খাতের বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সম্ভাবনাময় প্রতিষ্ঠানগুলোকে অর্থায়নে নীতিতে কিছুটা নমনীয়তা আনা যেতে পারে। তবে ঋণ দেওয়ার আগে প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা ও সম্ভাবনা ভালোভাবে যাচাই করতে হবে।

বন্ধ শিল্প ও সেবা খাত পুনরুজ্জীবিত করতে গত ২৩ মে বাংলাদেশ ব্যাংক ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করে। এর মধ্যে বন্ধ কারখানার জন্য রাখা হয় ২০ হাজার কোটি টাকা। ৪ জুন এ তহবিলের নীতিমালা জারি করা হয়।

নীতিমালা অনুযায়ী, বন্ধ কারখানাগুলো প্রথমে বাণিজ্যিক ব্যাংকে আবেদন করবে।

ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ যাচাই-বাছাই করে অনুমোদন দিলে আবেদন বাংলাদেশ ব্যাংকে পাঠাবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের চূড়ান্ত অনুমোদনের পর ঋণের অর্থ ছাড় হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, এ পর্যন্ত ৪১টি ব্যাংক এ কর্মসূচিতে যুক্ত হয়েছে। এসব ব্যাংকে আবেদনও জমা পড়ছে। তবে তহবিলের ঋণ পেতে হলে আগের ঋণ নিয়মিত করার শর্ত থাকায় কার্যক্রম এগোচ্ছে ধীরগতিতে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ১০০ কোটি টাকার বেশি বকেয়া ঋণ রয়েছে এমন এক হাজারের বেশি আংশিক বা পুরোপুরি বন্ধ কারখানার তালিকা বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো কেন্দ্রীয় ব্যাংকে দিয়েছে।

চট্টগ্রামের রতনপুর স্টিল রি-রোলিং মিলস (আরএসআরএম) এর একটি উদাহরণ। ২০১৯ সালে কারখানাটি বন্ধ হওয়ার পর ঋণখেলাপি হয়ে পড়ে। ফলে নতুন তহবিলের ঋণের জন্য আবেদন করতে পারেনি প্রতিষ্ঠানটি।

আরএসআরএমের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মিজানুর রহমান জানান, ঋণ পুনঃতফসিলের আবেদন করা হয়েছে। মূল ঋণ এক হাজার কোটি টাকার কম হলেও সুদসহ এখন ব্যাংকগুলোর দাবি প্রায় এক হাজার কোটি টাকা।

সোনালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান বলেন, পুরোনো ঋণ নিয়মিত করার পরই প্রণোদনার ঋণ পাওয়া যাবে। এ কারণেই প্রক্রিয়াটি ধীরগতির।

এ বিষয়ে মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেন, কোভিডের সময়ের ঋণের বড় অংশ এখনো আদায় হয়নি। তাই নতুন তহবিলের অর্থ দিয়ে পুরোনো ঋণ পরিশোধ বা সমন্বয়ের সুযোগ না থাকায় ব্যাংকগুলো সতর্ক।

অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের (এবিবি) সাবেক চেয়ারম্যান আনিস এ খান বলেন, কিছু কারখানা গ্যাস ও অন্যান্য ইউটিলিটি সংকটে বন্ধ হয়েছে। প্রকৃত উদ্যোক্তারা ব্যবসা পুনরায় চালু করতে চাইলে এবং তাদের সক্ষমতা থাকলে তাদের সহায়তা দেওয়া যেতে পারে। সম্ভাবনাময় প্রতিষ্ঠান যাচাই করে অর্থায়ন করা হলে কর্মসংস্থান ও কর আয় বাড়বে, জিডিপিতেও অবদান রাখবে।

তিনি বলেন, যৌক্তিক ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংক আরও নমনীয় হতে পারে। প্রয়োজন হলে ব্যাংকগুলো কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে আলোচনা করে বিশেষ ছাড় চাইতে পারে।

বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ

Tag :

ওবায়দুল কাদেরসহ আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের ৭ শীর্ষ নেতার মৃত্যুদণ্ড

বন্ধ কারখানা চালু করতে ২০ হাজার কোটি টাকার ঋণ তহবিল, ছাড় হয়নি এক টাকাও

আপডেট সময় ১১:১৭:০৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বন্ধ কারখানা চালু করতে বাংলাদেশ ব্যাংকের ২০ হাজার কোটি টাকার ঋণ তহবিল চালুর সাড়ে তিন মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো এক টাকাও ছাড় হয়নি। স্বল্পসুদের এ ঋণ পেতে হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে আগের খেলাপি ঋণ নিয়মিত করতে হবে।

কিন্তু বন্ধ কারখানাগুলোর বেশির ভাগই বর্তমানে ঋণখেলাপি হওয়ায় তহবিল থেকে ঋণ বিতরণে জটিলতা তৈরি হয়েছে।

এক প্রতিবেদনে ডেইলিস্টার জানায়, এ ছাড়া বন্ধ কারখানাগুলো পুনরায় চালু হলে আর্থিকভাবে ঘুরে দাঁড়াতে পারবে কি না, প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও গ্যাস-বিদ্যুৎসহ জ্বালানি সুবিধা পাবে কি না এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে টিকে থাকতে পারবে কি না সংশয় রয়েছে।

ব্যাংক খাতের বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সম্ভাবনাময় প্রতিষ্ঠানগুলোকে অর্থায়নে নীতিতে কিছুটা নমনীয়তা আনা যেতে পারে। তবে ঋণ দেওয়ার আগে প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা ও সম্ভাবনা ভালোভাবে যাচাই করতে হবে।

বন্ধ শিল্প ও সেবা খাত পুনরুজ্জীবিত করতে গত ২৩ মে বাংলাদেশ ব্যাংক ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করে। এর মধ্যে বন্ধ কারখানার জন্য রাখা হয় ২০ হাজার কোটি টাকা। ৪ জুন এ তহবিলের নীতিমালা জারি করা হয়।

নীতিমালা অনুযায়ী, বন্ধ কারখানাগুলো প্রথমে বাণিজ্যিক ব্যাংকে আবেদন করবে।

ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ যাচাই-বাছাই করে অনুমোদন দিলে আবেদন বাংলাদেশ ব্যাংকে পাঠাবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের চূড়ান্ত অনুমোদনের পর ঋণের অর্থ ছাড় হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, এ পর্যন্ত ৪১টি ব্যাংক এ কর্মসূচিতে যুক্ত হয়েছে। এসব ব্যাংকে আবেদনও জমা পড়ছে। তবে তহবিলের ঋণ পেতে হলে আগের ঋণ নিয়মিত করার শর্ত থাকায় কার্যক্রম এগোচ্ছে ধীরগতিতে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ১০০ কোটি টাকার বেশি বকেয়া ঋণ রয়েছে এমন এক হাজারের বেশি আংশিক বা পুরোপুরি বন্ধ কারখানার তালিকা বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো কেন্দ্রীয় ব্যাংকে দিয়েছে।

চট্টগ্রামের রতনপুর স্টিল রি-রোলিং মিলস (আরএসআরএম) এর একটি উদাহরণ। ২০১৯ সালে কারখানাটি বন্ধ হওয়ার পর ঋণখেলাপি হয়ে পড়ে। ফলে নতুন তহবিলের ঋণের জন্য আবেদন করতে পারেনি প্রতিষ্ঠানটি।

আরএসআরএমের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মিজানুর রহমান জানান, ঋণ পুনঃতফসিলের আবেদন করা হয়েছে। মূল ঋণ এক হাজার কোটি টাকার কম হলেও সুদসহ এখন ব্যাংকগুলোর দাবি প্রায় এক হাজার কোটি টাকা।

সোনালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান বলেন, পুরোনো ঋণ নিয়মিত করার পরই প্রণোদনার ঋণ পাওয়া যাবে। এ কারণেই প্রক্রিয়াটি ধীরগতির।

এ বিষয়ে মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেন, কোভিডের সময়ের ঋণের বড় অংশ এখনো আদায় হয়নি। তাই নতুন তহবিলের অর্থ দিয়ে পুরোনো ঋণ পরিশোধ বা সমন্বয়ের সুযোগ না থাকায় ব্যাংকগুলো সতর্ক।

অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের (এবিবি) সাবেক চেয়ারম্যান আনিস এ খান বলেন, কিছু কারখানা গ্যাস ও অন্যান্য ইউটিলিটি সংকটে বন্ধ হয়েছে। প্রকৃত উদ্যোক্তারা ব্যবসা পুনরায় চালু করতে চাইলে এবং তাদের সক্ষমতা থাকলে তাদের সহায়তা দেওয়া যেতে পারে। সম্ভাবনাময় প্রতিষ্ঠান যাচাই করে অর্থায়ন করা হলে কর্মসংস্থান ও কর আয় বাড়বে, জিডিপিতেও অবদান রাখবে।

তিনি বলেন, যৌক্তিক ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংক আরও নমনীয় হতে পারে। প্রয়োজন হলে ব্যাংকগুলো কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে আলোচনা করে বিশেষ ছাড় চাইতে পারে।

বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ