মিশরের গিজায় দাঁড়িয়ে থাকা সাড়ে চার হাজার বছরের পুরোনো মহা পিরামিড নিয়ে রহস্যের শেষ নেই। এবার এক গবেষকের দাবি, শুধু ফারাওদের সমাধিসৌধ নয়, এই স্থাপত্যের পরিমাপের ভেতরে লুকিয়ে থাকতে পারে চাঁদ, নক্ষত্র ও গ্রহের গতিপথ সম্পর্কিত এক গোপন গাণিতিক সংকেত।
সম্প্রতি বিজ্ঞান সাময়িকী ‘এসএসআরএন’ ও যুক্তরাজ্যের সংবাদমাধ্যম ‘দ্য মেট্রো’তে প্রকাশ পেয়েছে এই নতুন তথ্য।
গবেষক সেফি লেভি পিরামিডের পরিমাপগুলো বিশ্লেষণ করতে প্রাচীন মিশরীয়দের ব্যবহৃত ভগ্নাংশের পদ্ধতি প্রয়োগ করেছেন। তার দাবি, এই হিসাব থেকে পাওয়া সংখ্যাগুলোর সঙ্গে মহাজাগতিক বিভিন্ন চক্রের মিল রয়েছে। গণনায় প্রাপ্ত ‘২৭.৫’ সংখ্যাটিকে তিনি চাঁদের পৃথিবীর নিকটতম অবস্থানের চক্রের (২৭.৫৫ দিন) সঙ্গে তুলনা করেছেন।
এছাড়া ‘৭০’ সংখ্যাটিকে সিরিয়াস নক্ষত্র অদৃশ্য থাকার আনুমানিক ৭০ দিনের সময়কালের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। গবেষণায় দাবি করা হয়, পরিমাপের ফলাফলগুলোর সঙ্গে বৃহস্পতি, শনি, শুক্র ও মঙ্গলের গতিবিধির মিল আছে। পাশাপাশি এতে পাই (π) এবং গোল্ডেন রেশিও বা সোনালী অনুপাতের উপস্থিতির ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
সংখ্যাতাত্ত্বিক এই মিলগুলো কেবলই কাকতালীয় কি না, তা পরীক্ষা করতে ১ লাখ কম্পিউটার-নির্মিত পিরামিডের মডেল ব্যবহার করা হয়।
বিশ্লেষণে দেখা যায়, মাত্র ২.৪ শতাংশ মডেলে এ ধরনের মিল পাওয়া সম্ভব। এর ওপর ভিত্তি করে গবেষক দাবি করেন, পিরামিড তৈরির সময় এসব পরিমাপ হয়তো ইচ্ছাকৃতভাবেই ব্যবহার করা হয়েছিল। ফারাও খুফুর তৈরি ৪৫০০ বছরের পুরোনো এই স্থাপত্যকে সাধারণত সমাধিসৌধ মনে করা হলেও, লেভির মতে এটি প্রাচীন জ্ঞানের কোনো স্থায়ী দলিল অথবা পৌরাণিক ‘বেনবেন’ ঢিবির প্রতীক হতে পারে।
গবেষণাপত্রটি এখনো পিয়ার-রিভিউ বা স্বাধীন বিশেষজ্ঞদের দ্বারা যাচাই করা হয়নি। মূলধারার মিশরবিদ ও প্রত্নতাত্ত্বিকদের মতে, পিরামিডে এমন মহাজাগতিক কোড ইচ্ছাকৃতভাবে বসানোর কোনো প্রত্নতাত্ত্বিক প্রমাণ নেই।
ফলে সম্পূর্ণ তথ্যটিই আপাতত একটি অপ্রমাণিত অনুমান হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ























