ঢাকা ০২:৩৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo ব্রাজিলের পরবর্তী আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট নভেম্বরে, কবে কাদের বিপক্ষে ম্যাচ Logo ইস্টার্ন রিফাইনারি আধুনিকায়নে ১ বিলিয়ন ডলারের সহায়তা চুক্তি সই Logo ২০২৭ সালের বিশ্ব ইজতেমার তারিখ ঘোষণা Logo ‘সর্বকালের সেরা বিতর্কের অবসান’—ইনস্টাগ্রামে কেন এমন পোস্ট মেসির? Logo মানবতাবিরোধী অপরাধ : কাদেরসহ ৭ আসামির রায় আগামী সপ্তাহে Logo ইরানের সরকার উৎখাতে কাজ করছে ইসরায়েল: নেতানিয়াহু Logo জামানত ছাড়াই তরুণদের ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ ও অনুদান দেবে বাংলাদেশ ব্যাংক Logo দেশীয় প্রসাধনীর বাজার এক বিলিয়ন ডলারের বেশি : পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী Logo ইউনূস সরকারের সব উপদেষ্টার দুর্নীতির তদন্ত এখন জনতার দাবি Logo মধ্যপ্রাচ্য ইস্যুতে ট্রাম্প-আমিরাত প্রেসিডেন্টের জরুরি ফোনালাপ

আসিফ মাহমুদের অপরাধের এক ভাগও উদ্ঘাটন হয়নি : রাশেদ খান

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র ও সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে যেসব অপরাধের অভিযোগ রয়েছে তার ১০০ ভাগের এক ভাগ তথ্যও এখনো দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) উদ্ঘাটন করতে পারেনি বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী মো. রাশেদ খান।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর পল্টনে এক অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন।

রাশেদ খান বলেন, আসিফ মাহমুদ একসময় তাদের সঙ্গে রাজনীতি করেছেন। গণঅভ্যুত্থানের সময় তার সঙ্গে সমন্বয় করে কাজও করেছেন। তাই আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগের খবর তাকে ব্যক্তিগতভাবে কষ্ট দেয়।

তিনি বলেন, আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে যেসব অভিযোগ শোনা গেছে তার কিছুটা সত্যতা দুদকের তদন্তে পাওয়া গেছে।

১৮৮ জন কর্মকর্তার বদলি ও পদায়নসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ডে অর্থ লেনদেনের প্রাথমিক প্রমাণ পেয়েছে দুদক। এ ঘটনায় ৪ কোটি ২৬ লাখ টাকা অবৈধভাবে আয়ের অভিযোগও রয়েছে।

রাশেদ খান দাবি করেন, এসব তথ্য তার নিজের বক্তব্য নয়; দুদক সংবাদ সম্মেলন করে বিষয়গুলো জানিয়েছে।

আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে তার কাছে আরো কিছু তথ্য রয়েছে দাবি করে রাশেদ খান বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় এ কারণেই তিনি বিভিন্ন বিষয়ে সোচ্চার ছিলেন।

তার দাবি, আসিফ মাহমুদ একজনকে ২০ লাখ টাকা দিয়েছিলেন—এমন তথ্যও তিনি পেয়েছেন।

আসিফ মাহমুদের তৎকালীন সহকারী একান্ত সচিব (এপিএস) ও সমন্বয়ক মোয়াজ্জেমকে নিয়েও বিভিন্ন তথ্য-প্রমাণ ও নথি পাওয়ার দাবি করেন রাশেদ খান। তার ভাষ্য, মোয়াজ্জেম একসময় ছাত্র অধিকার পরিষদের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মাধ্যমে ওই এলাকায় বিভিন্ন ব্যবসা করার চেষ্টা করেছিলেন।

গণঅভ্যুত্থানে আসিফ মাহমুদের ভূমিকার প্রশংসা করে রাশেদ খান বলেন, আন্দোলনে তিনি সাহসী ভূমিকা রেখেছেন। তবে ছাত্র উপদেষ্টা হওয়ার পর তার বিতর্কিত ভূমিকার জন্য ধিক্কার জানাতেও হয়।

নাহিদ ইসলাম, আসিফ মাহমুদ ও মাহফুজ আলমের ছাত্র উপদেষ্টা হওয়াকে ‘সবচেয়ে বড় ভুল’ হিসেবে উল্লেখ করেন রাশেদ খান। তার মতে, তারা ছাত্র উপদেষ্টা না হয়ে জনগণের প্রতিনিধি হলে এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকার রাষ্ট্রীয় পরিবর্তনে মনোযোগ দিলে অনেক বিতর্ক এড়ানো সম্ভব হতো। তাদের ‘ওয়াচডগ’-এর ভূমিকায় থাকা উচিত ছিল বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ঢাকা-১০ আসনে নির্বাচন প্রসঙ্গে রাশেদ খান দাবি করেন, পদত্যাগের আগে আসিফ মাহমুদ ও মাহফুজ আলম ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করতে বিএনপির সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। তবে আসিফ মাহমুদকে ঘিরে বিতর্কের কারণে বিএনপি সাড়া দেয়নি বলে তার দাবি। পরে আসিফ মাহমুদ জামায়াতের হয়ে ঢাকা-১০ আসনে নির্বাচন করতে চেয়েছিলেন বলেও দাবি করেন তিনি। তবে জামায়াতের আমির তাকে ওই আসনে মনোনয়ন দেননি।

রাশেদ খান বলেন, আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে অভিযোগগুলো অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়কার। এখন তিনি জামায়াতের সঙ্গে জোটে যাওয়ায় তার বিরুদ্ধে প্রতিহিংসামূলক আচরণ করা হচ্ছে এমন দাবি উঠলেও অভিযোগগুলোর বিষয়ে তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।

সবশেষে তিনি বলেন, আসিফ মাহমুদ যে ধরনের অপরাধ করেছেন বলে তিনি দাবি করছেন, তার ১০০ ভাগের এক ভাগ তথ্যও এখনো দুদক উদ্ঘাটন করতে পারেনি।

বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ

Tag :

ব্রাজিলের পরবর্তী আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট নভেম্বরে, কবে কাদের বিপক্ষে ম্যাচ

আসিফ মাহমুদের অপরাধের এক ভাগও উদ্ঘাটন হয়নি : রাশেদ খান

আপডেট সময় ১২:৪৬:০৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র ও সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে যেসব অপরাধের অভিযোগ রয়েছে তার ১০০ ভাগের এক ভাগ তথ্যও এখনো দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) উদ্ঘাটন করতে পারেনি বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী মো. রাশেদ খান।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর পল্টনে এক অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন।

রাশেদ খান বলেন, আসিফ মাহমুদ একসময় তাদের সঙ্গে রাজনীতি করেছেন। গণঅভ্যুত্থানের সময় তার সঙ্গে সমন্বয় করে কাজও করেছেন। তাই আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগের খবর তাকে ব্যক্তিগতভাবে কষ্ট দেয়।

তিনি বলেন, আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে যেসব অভিযোগ শোনা গেছে তার কিছুটা সত্যতা দুদকের তদন্তে পাওয়া গেছে।

১৮৮ জন কর্মকর্তার বদলি ও পদায়নসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ডে অর্থ লেনদেনের প্রাথমিক প্রমাণ পেয়েছে দুদক। এ ঘটনায় ৪ কোটি ২৬ লাখ টাকা অবৈধভাবে আয়ের অভিযোগও রয়েছে।

রাশেদ খান দাবি করেন, এসব তথ্য তার নিজের বক্তব্য নয়; দুদক সংবাদ সম্মেলন করে বিষয়গুলো জানিয়েছে।

আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে তার কাছে আরো কিছু তথ্য রয়েছে দাবি করে রাশেদ খান বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় এ কারণেই তিনি বিভিন্ন বিষয়ে সোচ্চার ছিলেন।

তার দাবি, আসিফ মাহমুদ একজনকে ২০ লাখ টাকা দিয়েছিলেন—এমন তথ্যও তিনি পেয়েছেন।

আসিফ মাহমুদের তৎকালীন সহকারী একান্ত সচিব (এপিএস) ও সমন্বয়ক মোয়াজ্জেমকে নিয়েও বিভিন্ন তথ্য-প্রমাণ ও নথি পাওয়ার দাবি করেন রাশেদ খান। তার ভাষ্য, মোয়াজ্জেম একসময় ছাত্র অধিকার পরিষদের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মাধ্যমে ওই এলাকায় বিভিন্ন ব্যবসা করার চেষ্টা করেছিলেন।

গণঅভ্যুত্থানে আসিফ মাহমুদের ভূমিকার প্রশংসা করে রাশেদ খান বলেন, আন্দোলনে তিনি সাহসী ভূমিকা রেখেছেন। তবে ছাত্র উপদেষ্টা হওয়ার পর তার বিতর্কিত ভূমিকার জন্য ধিক্কার জানাতেও হয়।

নাহিদ ইসলাম, আসিফ মাহমুদ ও মাহফুজ আলমের ছাত্র উপদেষ্টা হওয়াকে ‘সবচেয়ে বড় ভুল’ হিসেবে উল্লেখ করেন রাশেদ খান। তার মতে, তারা ছাত্র উপদেষ্টা না হয়ে জনগণের প্রতিনিধি হলে এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকার রাষ্ট্রীয় পরিবর্তনে মনোযোগ দিলে অনেক বিতর্ক এড়ানো সম্ভব হতো। তাদের ‘ওয়াচডগ’-এর ভূমিকায় থাকা উচিত ছিল বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ঢাকা-১০ আসনে নির্বাচন প্রসঙ্গে রাশেদ খান দাবি করেন, পদত্যাগের আগে আসিফ মাহমুদ ও মাহফুজ আলম ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করতে বিএনপির সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। তবে আসিফ মাহমুদকে ঘিরে বিতর্কের কারণে বিএনপি সাড়া দেয়নি বলে তার দাবি। পরে আসিফ মাহমুদ জামায়াতের হয়ে ঢাকা-১০ আসনে নির্বাচন করতে চেয়েছিলেন বলেও দাবি করেন তিনি। তবে জামায়াতের আমির তাকে ওই আসনে মনোনয়ন দেননি।

রাশেদ খান বলেন, আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে অভিযোগগুলো অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়কার। এখন তিনি জামায়াতের সঙ্গে জোটে যাওয়ায় তার বিরুদ্ধে প্রতিহিংসামূলক আচরণ করা হচ্ছে এমন দাবি উঠলেও অভিযোগগুলোর বিষয়ে তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।

সবশেষে তিনি বলেন, আসিফ মাহমুদ যে ধরনের অপরাধ করেছেন বলে তিনি দাবি করছেন, তার ১০০ ভাগের এক ভাগ তথ্যও এখনো দুদক উদ্ঘাটন করতে পারেনি।

বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ