ঢাকা ০৬:১২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ৫ মৃত্যু, প্রাণহানি বেড়ে ১০২ Logo ফ্ল্যাট প্রতারণার নতুন মামলায় ফের গ্রেপ্তার দেখানো হলো হরিদাসকে Logo বিদ্যালয়ের টয়লেটে ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ, শিক্ষক গ্রেপ্তার Logo গ্রিসকে ৩.৫ বিলিয়ন ডলারের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দেবে ইসরায়েল Logo সরকারিভাবে বিদেশে চাকরির সুযোগ, আবেদনের সময় আছে মাত্র ২ দিন Logo শেখ সেলিমের পরিবারের নামে ৩৬ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের তথ্য Logo নেপালে বন্যা-ভূমিধসে বাংলাদেশ সরকারের সমবেদনা Logo ফিল্ম আমার কাছে সবচেয়ে পবিত্র জায়গা: চিত্রনায়িকা পপি Logo দলবদলের শেষ দিনে চমক নিয়ে আসছে ম্যানসিটি Logo বাবা-মায়ের দেওয়া নাম বদলে চলচ্চিত্রে তারকা পরিচিতি পেয়েছেন যেসব অভিনেত্রী

ড. ইউনূসসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে হাইকোর্টের ক্ষতিপূরণ রুল

টিকার সংকট ও সরবরাহে গাফিলতির অভিযোগে হামে আক্রান্ত হয়ে এক শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় তার পরিবারকে ১ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে না কেন, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। রুলে আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ ছয় বিবাদীকে জবাব দিতে বলা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) রিটের প্রাথমিক শুনানি শেষে বিচারপতি রাজিক-আল-জলিল ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট জুয়েল আজাদ। তাকে সহযোগিতা করেন অ্যাডভোকেট আবিদা আসমা প্রমি।

রিটে টিকার সংকট ও সরবরাহ ব্যবস্থাপনায় অবহেলার অভিযোগ তুলে শিশুটির মৃত্যুর কারণ অনুসন্ধানে একটি স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠনের আবেদন করা হয়। একই সঙ্গে অন্তর্বর্তীকালীনভাবে ৫ লাখ টাকা এবং চূড়ান্তভাবে ১ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশনা চাওয়া হয়।

এর আগে গত ৬ জুলাই এ বিষয়ে হাইকোর্টে রিট আবেদনটি করা হয়। এতে অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসসহ ছয়জনকে বিবাদী করা হয়। অন্য বিবাদীরা হলেন—স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং ঢাকার জেলা প্রশাসক (ডিসি)।

রিটের বিবরণ অনুযায়ী, গত ২৬ মে রাজধানীর শ্যামলীর বেবি কেয়ার অ্যান্ড জেনারেল হাসপাতালে হামে আক্রান্ত হয়ে সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের ক্লার্ক মো. শাকিলের সাত মাস বয়সী ছেলে সাফওয়ান ইসলাম জাহিনের মৃত্যু হয়। শিশুটির মৃত্যুর ঘটনায় অবহেলার অভিযোগ তুলে তার বাবা শাকিলের পক্ষে রিটটি করেন আইনজীবী মো. জুয়েল আজাদ।

রিটে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে একটি স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠনের পাশাপাশি ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে টিকা সংগ্রহ, সরবরাহ ও মজুত-সংক্রান্ত যাবতীয় নথি আদালতে দাখিলের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।

আইনজীবী জুয়েল আজাদ বলেন, যথাযথ চিকিৎসা ও সেবা নিশ্চিত করা গেলে শিশুটি হামে আক্রান্ত নাও হতে পারত বলে তার বাবা মনে করেন। টিকা সরবরাহ ও ব্যবস্থাপনায় কোথায় অবহেলা বা গাফিলতি হয়েছে, তা তদন্তের মাধ্যমে বের করে আদালতে প্রতিবেদন দেওয়ার আবেদন করা হয়েছে।

রিটে আরও বলা হয়, ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট থেকে ২০২৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে টিকা সংগ্রহের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়। এ সময়ে টিকার মজুত ব্যবস্থাপনা ও সরবরাহে কোনো ধরনের অবহেলা বা গাফিলতি হয়েছিল কি না, তা মূল্যায়নের দাবিও জানানো হয়েছে।

আইনজীবীর দাবি, ওই সময়ের টিকা সংগ্রহ ও সরবরাহ ব্যবস্থাপনায় দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের ভূমিকা তদন্তের আওতায় আনা প্রয়োজন। সেই সঙ্গে শিশুটির পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।

বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ

Tag :

২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ৫ মৃত্যু, প্রাণহানি বেড়ে ১০২

ড. ইউনূসসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে হাইকোর্টের ক্ষতিপূরণ রুল

আপডেট সময় ০৪:৩৮:২০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

টিকার সংকট ও সরবরাহে গাফিলতির অভিযোগে হামে আক্রান্ত হয়ে এক শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় তার পরিবারকে ১ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে না কেন, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। রুলে আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ ছয় বিবাদীকে জবাব দিতে বলা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) রিটের প্রাথমিক শুনানি শেষে বিচারপতি রাজিক-আল-জলিল ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট জুয়েল আজাদ। তাকে সহযোগিতা করেন অ্যাডভোকেট আবিদা আসমা প্রমি।

রিটে টিকার সংকট ও সরবরাহ ব্যবস্থাপনায় অবহেলার অভিযোগ তুলে শিশুটির মৃত্যুর কারণ অনুসন্ধানে একটি স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠনের আবেদন করা হয়। একই সঙ্গে অন্তর্বর্তীকালীনভাবে ৫ লাখ টাকা এবং চূড়ান্তভাবে ১ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশনা চাওয়া হয়।

এর আগে গত ৬ জুলাই এ বিষয়ে হাইকোর্টে রিট আবেদনটি করা হয়। এতে অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসসহ ছয়জনকে বিবাদী করা হয়। অন্য বিবাদীরা হলেন—স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং ঢাকার জেলা প্রশাসক (ডিসি)।

রিটের বিবরণ অনুযায়ী, গত ২৬ মে রাজধানীর শ্যামলীর বেবি কেয়ার অ্যান্ড জেনারেল হাসপাতালে হামে আক্রান্ত হয়ে সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের ক্লার্ক মো. শাকিলের সাত মাস বয়সী ছেলে সাফওয়ান ইসলাম জাহিনের মৃত্যু হয়। শিশুটির মৃত্যুর ঘটনায় অবহেলার অভিযোগ তুলে তার বাবা শাকিলের পক্ষে রিটটি করেন আইনজীবী মো. জুয়েল আজাদ।

রিটে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে একটি স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠনের পাশাপাশি ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে টিকা সংগ্রহ, সরবরাহ ও মজুত-সংক্রান্ত যাবতীয় নথি আদালতে দাখিলের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।

আইনজীবী জুয়েল আজাদ বলেন, যথাযথ চিকিৎসা ও সেবা নিশ্চিত করা গেলে শিশুটি হামে আক্রান্ত নাও হতে পারত বলে তার বাবা মনে করেন। টিকা সরবরাহ ও ব্যবস্থাপনায় কোথায় অবহেলা বা গাফিলতি হয়েছে, তা তদন্তের মাধ্যমে বের করে আদালতে প্রতিবেদন দেওয়ার আবেদন করা হয়েছে।

রিটে আরও বলা হয়, ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট থেকে ২০২৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে টিকা সংগ্রহের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়। এ সময়ে টিকার মজুত ব্যবস্থাপনা ও সরবরাহে কোনো ধরনের অবহেলা বা গাফিলতি হয়েছিল কি না, তা মূল্যায়নের দাবিও জানানো হয়েছে।

আইনজীবীর দাবি, ওই সময়ের টিকা সংগ্রহ ও সরবরাহ ব্যবস্থাপনায় দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের ভূমিকা তদন্তের আওতায় আনা প্রয়োজন। সেই সঙ্গে শিশুটির পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।

বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ