ঢাকা ০৩:৩৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬, ৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হালাল শিল্পের সম্প্রসারণে বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া একসঙ্গে কাজ করতে পারে

হালাল শিল্পকে বৈশ্বিক বাজারে আরো সম্প্রসারণে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়া একসঙ্গে কাজ করতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।

তিনি বলেছেন, হালাল এখন শুধু ধর্মীয় মূল্যবোধের বিষয় নয়; স্বাস্থ্য, পরিচ্ছন্নতা ও নিরাপদ খাদ্যের দিক থেকেও এর গুরুত্ব ক্রমেই বাড়ছে।

ফলে বিশ্বজুড়ে হালাল পণ্যের একটি বড় বাজার তৈরি হয়েছে।

বুধবার (১৯ আগস্ট) রাজধানীতে ‘থিংক হালাল, গ্রো গ্লোবাল: স্ট্রেংদেনিং মালয়েশিয়া-বাংলাদেশ মার্কেট লিংকেজেস অ্যান্ড লিভারেজিং বাংলাদেশ’স হালাল ইন্ডাস্ট্রি ফর গ্লোবাল গ্রোথ’ শীর্ষক সেমিনারে স্বাগত বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি, হালাল ডেভেলপমেন্ট করপোরেশন এবং ঢাকায় মালয়েশিয়ার হাইকমিশনের সহযোগিতায় এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন–ঢাকায় মালয়েশিয়ার হাইকমিশনার শুহাদা ওসমান, হালাল ডেভেলপমেন্ট করপোরেশন মালয়েশিয়া, বাংলাদেশ হালাল সার্টিফিকেশন বিভাগ, বিডা, বিজনেস ইনিশিয়েটিভ লিডিং ডেভেলপমেন্ট, বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি ও ব্যবসায়ী নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী বলেন, হালাল ধারণা শুধু ধর্মীয় মূল্যবোধের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়। বর্তমানে স্বাস্থ্য ও পরিচ্ছন্নতার বিষয়টিও এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। এ কারণে মালয়েশিয়া হালাল শিল্প ও পণ্যের জন্য একটি বড় বৈশ্বিক বাজারের সম্ভাবনা চিহ্নিত করতে পেরেছে, যা প্রশংসার দাবি রাখে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মানুষের ধর্মীয় মূল্যবোধের পাশাপাশি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক মূল্যবোধেও অনেক মিল রয়েছে।

এই অভিন্নতা দুই দেশের জন্য একটি বড় শক্তি। বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়া নিজেদের মূল্যবোধ, সংস্কৃতি ও নৈতিকতার জায়গাগুলো পারস্পরিকভাবে ভাগ করে নিয়ে হালাল শিল্পে সহযোগিতা বাড়াতে পারে।

হালাল খাদ্যসংস্কৃতিকে বৈশ্বিক বাজারের বড় একটি ক্ষেত্র হিসেবে উল্লেখ করে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার ধর্মীয় মূল্যবোধ ও খাদ্যসংস্কৃতির মধ্যে যে সাদৃশ্য রয়েছে, সেটিকে কাজে লাগিয়ে হালাল শিল্পের নতুন বাজার তৈরি করা সম্ভব। ঢাকায় এ ধরনের একটি সৃজনশীল উদ্যোগ নেওয়াকে তিনি গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, হালাল পণ্যের বিশাল বৈশ্বিক বাজার ধরতে বিনিয়োগকারীদের জন্য প্রয়োজনীয় জ্ঞান ও সুযোগ তৈরি করতে হবে।

বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির নেতৃত্বে বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি সমন্বিত ধারণা ও তথ্যভিত্তিক প্যাকেজ তৈরি করা গেলে তারা এ খাতে বিনিয়োগের সুযোগ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাবেন।

মন্ত্রী আরো বলেন, বিশ্বজুড়ে হালাল পণ্যের সম্ভাব্য ভোক্তারা আরো সংগঠিত ও সহজলভ্যভাবে এসব পণ্য পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন। একই সঙ্গে বিনিয়োগকারীরাও এ বাজারে প্রবেশের সুযোগ খুঁজছেন। সঠিক উদ্যোগ ও পরিকল্পনার মাধ্যমে এই দুই পক্ষকে একটি কার্যকর বাজার ব্যবস্থার মধ্যে নিয়ে আসা সম্ভব।

সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মালয়েশিয়া সফরের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম যেভাবে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানিয়েছেন এবং মালয়েশিয়া সরকার সফরকে ঘিরে যেসব আয়োজন করেছে, তা দুই দেশের সম্পর্কের গভীরতার প্রতিফলন। এ জন্য মালয়েশিয়া সরকার ও প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে, হালাল শিল্পে সহযোগিতা সেই সম্পর্ককে আরো শক্তিশালী করতে পারে। এ উদ্যোগের মাধ্যমে দুই দেশের ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের পাশাপাশি বৈশ্বিক বাজারেও নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে।

জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, হালাল খাদ্য, হালাল সংস্কৃতি এবং ক্রমবর্ধমান হালাল মূল্যবোধ শুধু মুসলিম সম্প্রদায়ের জন্য নয়, বরং সমগ্র মানবসভ্যতার জন্য শক্তির উৎস হতে পারে।

অনুষ্ঠানের আয়োজকদের ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি, হালাল ডেভেলপমেন্ট করপোরেশন এবং ঢাকায় মালয়েশিয়ার হাইকমিশনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ

Tag :

হালাল শিল্পের সম্প্রসারণে বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া একসঙ্গে কাজ করতে পারে

আপডেট সময় ০১:৫৬:৪৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬

হালাল শিল্পকে বৈশ্বিক বাজারে আরো সম্প্রসারণে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়া একসঙ্গে কাজ করতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।

তিনি বলেছেন, হালাল এখন শুধু ধর্মীয় মূল্যবোধের বিষয় নয়; স্বাস্থ্য, পরিচ্ছন্নতা ও নিরাপদ খাদ্যের দিক থেকেও এর গুরুত্ব ক্রমেই বাড়ছে।

ফলে বিশ্বজুড়ে হালাল পণ্যের একটি বড় বাজার তৈরি হয়েছে।

বুধবার (১৯ আগস্ট) রাজধানীতে ‘থিংক হালাল, গ্রো গ্লোবাল: স্ট্রেংদেনিং মালয়েশিয়া-বাংলাদেশ মার্কেট লিংকেজেস অ্যান্ড লিভারেজিং বাংলাদেশ’স হালাল ইন্ডাস্ট্রি ফর গ্লোবাল গ্রোথ’ শীর্ষক সেমিনারে স্বাগত বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি, হালাল ডেভেলপমেন্ট করপোরেশন এবং ঢাকায় মালয়েশিয়ার হাইকমিশনের সহযোগিতায় এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন–ঢাকায় মালয়েশিয়ার হাইকমিশনার শুহাদা ওসমান, হালাল ডেভেলপমেন্ট করপোরেশন মালয়েশিয়া, বাংলাদেশ হালাল সার্টিফিকেশন বিভাগ, বিডা, বিজনেস ইনিশিয়েটিভ লিডিং ডেভেলপমেন্ট, বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি ও ব্যবসায়ী নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী বলেন, হালাল ধারণা শুধু ধর্মীয় মূল্যবোধের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়। বর্তমানে স্বাস্থ্য ও পরিচ্ছন্নতার বিষয়টিও এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। এ কারণে মালয়েশিয়া হালাল শিল্প ও পণ্যের জন্য একটি বড় বৈশ্বিক বাজারের সম্ভাবনা চিহ্নিত করতে পেরেছে, যা প্রশংসার দাবি রাখে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মানুষের ধর্মীয় মূল্যবোধের পাশাপাশি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক মূল্যবোধেও অনেক মিল রয়েছে।

এই অভিন্নতা দুই দেশের জন্য একটি বড় শক্তি। বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়া নিজেদের মূল্যবোধ, সংস্কৃতি ও নৈতিকতার জায়গাগুলো পারস্পরিকভাবে ভাগ করে নিয়ে হালাল শিল্পে সহযোগিতা বাড়াতে পারে।

হালাল খাদ্যসংস্কৃতিকে বৈশ্বিক বাজারের বড় একটি ক্ষেত্র হিসেবে উল্লেখ করে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার ধর্মীয় মূল্যবোধ ও খাদ্যসংস্কৃতির মধ্যে যে সাদৃশ্য রয়েছে, সেটিকে কাজে লাগিয়ে হালাল শিল্পের নতুন বাজার তৈরি করা সম্ভব। ঢাকায় এ ধরনের একটি সৃজনশীল উদ্যোগ নেওয়াকে তিনি গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, হালাল পণ্যের বিশাল বৈশ্বিক বাজার ধরতে বিনিয়োগকারীদের জন্য প্রয়োজনীয় জ্ঞান ও সুযোগ তৈরি করতে হবে।

বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির নেতৃত্বে বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি সমন্বিত ধারণা ও তথ্যভিত্তিক প্যাকেজ তৈরি করা গেলে তারা এ খাতে বিনিয়োগের সুযোগ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাবেন।

মন্ত্রী আরো বলেন, বিশ্বজুড়ে হালাল পণ্যের সম্ভাব্য ভোক্তারা আরো সংগঠিত ও সহজলভ্যভাবে এসব পণ্য পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন। একই সঙ্গে বিনিয়োগকারীরাও এ বাজারে প্রবেশের সুযোগ খুঁজছেন। সঠিক উদ্যোগ ও পরিকল্পনার মাধ্যমে এই দুই পক্ষকে একটি কার্যকর বাজার ব্যবস্থার মধ্যে নিয়ে আসা সম্ভব।

সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মালয়েশিয়া সফরের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম যেভাবে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানিয়েছেন এবং মালয়েশিয়া সরকার সফরকে ঘিরে যেসব আয়োজন করেছে, তা দুই দেশের সম্পর্কের গভীরতার প্রতিফলন। এ জন্য মালয়েশিয়া সরকার ও প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে, হালাল শিল্পে সহযোগিতা সেই সম্পর্ককে আরো শক্তিশালী করতে পারে। এ উদ্যোগের মাধ্যমে দুই দেশের ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের পাশাপাশি বৈশ্বিক বাজারেও নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে।

জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, হালাল খাদ্য, হালাল সংস্কৃতি এবং ক্রমবর্ধমান হালাল মূল্যবোধ শুধু মুসলিম সম্প্রদায়ের জন্য নয়, বরং সমগ্র মানবসভ্যতার জন্য শক্তির উৎস হতে পারে।

অনুষ্ঠানের আয়োজকদের ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি, হালাল ডেভেলপমেন্ট করপোরেশন এবং ঢাকায় মালয়েশিয়ার হাইকমিশনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ