অধিকৃত পশ্চিম তীরের কুসরায় তিন ফিলিস্তিনি পরিবারের বাড়ি টানা পাঁচ দিন অবরুদ্ধ রাখার প্রতিবাদে রাস্তায় নেমেছেন ফিলিস্তিনি, বিদেশি এবং বামপন্থি ইসরায়েলি কর্মীরা। তারা এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন। এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা আনাদোলু।
শুক্রবার (১৪ আগস্ট) নাবলুসের দক্ষিণে কুসরার রাস আল-আইন এলাকায় বিক্ষোভকারীরা জড়ো হন। পরে তারা অবরুদ্ধ তিন ফিলিস্তিনি পরিবারের বাড়ির দিকে যান। সেখানে অবস্থানরত বাসিন্দাদের খোঁজ নেওয়ার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় খাবার ও অন্যান্য সামগ্রী পৌঁছে দেওয়াই ছিল তাদের উদ্দেশ্য।
তবে ইসরায়েলি সেনারা বিক্ষোভকারীদের বাড়িগুলোতে ঢুকতে বাধা দেয়। সেনাদের দাবি, এলাকাটি ‘বন্ধ সামরিক অঞ্চল’। পরে বিক্ষোভকারীরা কোনোভাবে বাসিন্দাদের কাছে খাবার, পানি ও অন্যান্য জরুরি সামগ্রী পৌঁছে দিতে সক্ষম হন।
এর আগে রাস আল-আইন এলাকায় তিন ফিলিস্তিনি পরিবারের বাড়ির বাইরে ইসরায়েলি দখলদাররা একটি তাঁবু পুনরায় স্থাপন করে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ইসরায়েলি সেনারা সেখানে পৌঁছানোর পর তাঁবুটি সরিয়ে ফেলে দখলদাররা। তবে বাড়িগুলো ঘিরে অবরোধ অব্যাহত থাকে এবং বাসিন্দাদের চলাচল সীমিত করা হয়।
এলাকায় ইসরায়েলি সেনাদের উপস্থিতিও অব্যাহত ছিল। সামরিক যান ও সেনাদের নিয়মিত কুসরায় প্রবেশ ও বের হতে দেখা যায়। এর আগে, শত শত ইসরায়েলি সেনা কুসরা শহরে অভিযান চালায়। শহর পরিষদের প্রধান আব্দুল আজিম ওয়াদি জানান, অভিযানের সময় ইসরায়েলি সেনারা ১৬টি ফিলিস্তিনি বাড়ি দখল করে সেগুলোকে সামরিক ব্যারাক হিসেবে ব্যবহার শুরু করে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বৃহস্পতিবার দখল করা ফিলিস্তিনি বাড়িগুলো থেকে ইসরায়েলি সেনারা শুক্রবার সকালে সরে যায়। রাস আল-আইনের তিন পরিবার গত রোববার থেকে কয়েক ডজন ইসরায়েলি দখলদারের অবরোধের মধ্যে রয়েছে। দখলদাররা বাড়িগুলোর বাইরে তাঁবু ও অন্যান্য অস্থায়ী স্থাপনা তৈরি করে এবং বাড়িগুলোর দিকে যাওয়া সড়কগুলো বন্ধ করে দেয়। একই সঙ্গে খাদ্য, পানি ও ওষুধ পৌঁছাতে বাধা দেয়ার পাশাপাশি পানি ও বিদ্যুৎ সংযোগও বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে বলে অভিযোগ ফিলিস্তিনিদের।
স্থানীয় সূত্রের বরাত দিয়ে আনাদোলু জানায়, অবরুদ্ধ এসব বাড়ি দখলের চেষ্টা প্রায় চার মাস আগে থেকেই শুরু করেছে ইসরায়েলি দখলদাররা। পরিবারগুলোর আশঙ্কা, তাদের বাড়িঘর ছাড়তে বাধ্য করতেই এই অবরোধ দেওয়া হয়েছে। পরে এসব সম্পত্তি দখলে নেওয়া হতে পারে বলেও আশঙ্কা করছেন তারা।
২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজায় ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরুর পর অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনি ও তাদের সম্পত্তির ওপর ইসরায়েলি দখলদারদের হামলা আরও বেড়েছে। এতে পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের জমি ও বাড়ি দখল এবং তাদের বাস্তুচ্যুত করার প্রবণতা নিয়ে ফিলিস্তিনি ও আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়ছে।
বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ



























