ফেনীর ছাগলনাইয়া উপজেলার ঐতিহাসিক কৈয়ারা দিঘির চিরচেনা সৌন্দর্য ক্রমেই হারিয়ে যাচ্ছে। নেতিবাচক পরিবর্তন এসেছে দিঘিটির আশপাশের জীববৈচিত্র্যেও। স্থানীয় ইতিহাস ও ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ এ দিঘি এখন অব্যবস্থাপনা ও অপরিকল্পিত উন্নয়নের চাপে অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে।
জানা গেছে, কৈয়ারা দিঘির আয়তন প্রায় ২৩ একর। জমিদার শমসের গাজী তাঁর মায়ের স্মৃতি ধরে রাখতে দিঘিটি খনন করেছিলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন জানান, দিঘিটি স্থানীয় ইতিহাস ও ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। শৈশবে তিনি দিঘির পাড়ে দেশীয় নানান বৃক্ষ এবং পানিতে অসংখ্য জলচর ও অতিথি পাখির বিচরণ দেখেছেন। কিন্তু বর্তমানে সেই দৃশ্য অনেকটাই বিলুপ্ত। আশপাশে জনসংখ্যা বৃদ্ধি প্রাকৃতিক পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যে মারাত্মক চাপ তৈরি করেছে। জসীম উদ্দিন আরও বলেন, দিঘির পাশের মধুগ্রাম চার দশক আগেও ধনধান্যে, ফুলফল ও প্রাকৃতিক সম্পদে ভরপুর এক সুজলাসুফলা জনপদ ছিল। বর্তমানে সেখানে গড়ে উঠেছে ইটভাটাসহ বিভিন্ন কংক্রিটের স্থাপনা। ভুতি জাম, মেন্দা, কদম, করজ, মান্দার, বরুণসহ বিভিন্ন দেশীয় বুনো উদ্ভিদের বদলে এখন দেখা মেলে বিদেশি প্রজাতির গাছের। এসব বিদেশি গাছ গ্রামীণ জীববৈচিত্র্যের জন্য মারাত্মক হুমকি। পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের মতে, কৈয়ারা দিঘি ও এর আশপাশের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় এখনই কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। তা না হলে ঐতিহ্য, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও পরিবেশের ভারসাম্য আরও গভীর সংকটে পড়বে।
বাংলা৭১নিউজ/জেএস


























