ঢাকা ১২:১২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬, ২৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
টেস্টের পর ওয়ানডেতেও হারের তেঁতো স্বাদ

জিম্বাবুয়েতে টাইগারদের ভরাডুবি

একমাত্র টেস্টের পর ওয়ানডে সিরিজেও জিম্বাবুয়ের সামনে দাঁড়াতে পারলো না বাংলাদেশ। প্রথম ম্যাচের হারের পর সিরিজ বাঁচানোর সমীকরণ নিয়ে মাঠে নেমেছিল লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। কিন্তু ব্যাটিং বিপর্যয়ের চেনা বৃত্ত থেকে বের হতে না পেরে দ্বিতীয় ওয়ানডেতেও ১৩ রানে হেরেছে মেহেদী হাসান মিরাজের দল। আর এই টানা দুই হারে এক ম্যাচ বাকি থাকতেই স্বাগতিকদের কাছে ওয়ানডে সিরিজ হাতছাড়া করলো বাংলাদেশ।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) হারারে স্পোর্টস ক্লাবে টস জিতে জিম্বাবুয়েকে প্রথমে ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ জানান টাইগার অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ। প্রথমে ব্যাট করতে নেমে স্বাগতিকদের ওপেনার বেন কুরানের দুর্দান্ত সেঞ্চুরিতে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে ২৪৭ রানের লড়াকু সংগ্রহ দাঁড় করায় জিম্বাবুয়ে।

১৩৫ বল খেলে ৯টি চারের সাহায্যে ১১১ রানের একটি ধৈর্যশীল ও কার্যকর ইনিংস খেলেন বেন কুরান। এছাড়া দলের অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার সিকান্দার রাজা ৫৩ বলে ৩৩ রান করেন। তবে শেষ দিকে বাংলাদেশের বোলারদের ওপর তাণ্ডব চালিয়ে মাত্র ৩৮ বলে ৫৮ রানের একটি অপরাজিত ঝড়ো ইনিংস খেলেন ব্রাড এভান্স, যা স্বাগতিকদের স্কোর আড়াইশর কাছাকাছি নিয়ে যায়। বাংলাদেশের পক্ষে পেসার তাসকিন আহমেদ ও অধিনায়ক মিরাজ ২টি করে উইকেট নেন।

প্রতিরোধের পর সেই চেনা ধস

২৪৮ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই বিপদে পড়ে বাংলাদেশ। দলীয় মাত্র ৩৮ রানের মধ্যে টপ অর্ডারের জোড়া উইকেট হারিয়ে ফেলে দল। ওপেনার সৌম্য সরকার ১০ বলে ৫ এবং নাজমুল হোসেন শান্ত ১৬ বলে মাত্র ৯ রান করে সাজঘরে ফিরে যান।

প্রাথমিক ধাক্কা সামাল দিতে ক্রিজে আসেন তাওহিদ হৃদয়। ওপেনার তানজিদ হাসান তামিমকে সঙ্গে নিয়ে তিনি ৮৪ রানের একটি দারুণ জুটি গড়েন। দুজনই তুলে নেন নিজ নিজ হাফসেঞ্চুরি। কিন্তু তানজিদ তামিম ৫৭ এবং তাওহিদ হৃদয় ৬০ রান করে আউট হতেই তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে বাংলাদেশের মিডল অর্ডার।

পারল না লজ্জা এড়াতে

টপ অর্ডারের বিদায়ের পর ধ্বংসস্তূপে দাঁড়িয়ে উইকেটকিপার ব্যাটার নুরুল হাসান সোহান ৩৮ ও অধিনায়ক মেহেদী মিরাজ ২৭ রান করে ম্যাচ জেতানোর আপ্রাণ লড়াই চালিয়ে যান। কিন্তু লোয়ার অর্ডারের বাকি ব্যাটারদের কাছ থেকে কোনো যোগ্য সংগত না পাওয়ায় তাদের সেই লড়াই কেবল হারের ব্যবধানই কমিয়েছে।

শেষ পর্যন্ত ৪৮ ওভার ১ বলে ২৩৪ রানে অলআউট হয় বাংলাদেশ। জিম্বাবুয়ের বাঁহাতি পেসার রিচার্ড এনগারাভা ৩টি উইকেট নিয়ে ধসিয়ে দেন বাংলাদেশের লেজ।

বাংলা৭১নিউজ/এসবি

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

টেস্টের পর ওয়ানডেতেও হারের তেঁতো স্বাদ

জিম্বাবুয়েতে টাইগারদের ভরাডুবি

আপডেট সময় ১১:০১:০১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬

একমাত্র টেস্টের পর ওয়ানডে সিরিজেও জিম্বাবুয়ের সামনে দাঁড়াতে পারলো না বাংলাদেশ। প্রথম ম্যাচের হারের পর সিরিজ বাঁচানোর সমীকরণ নিয়ে মাঠে নেমেছিল লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। কিন্তু ব্যাটিং বিপর্যয়ের চেনা বৃত্ত থেকে বের হতে না পেরে দ্বিতীয় ওয়ানডেতেও ১৩ রানে হেরেছে মেহেদী হাসান মিরাজের দল। আর এই টানা দুই হারে এক ম্যাচ বাকি থাকতেই স্বাগতিকদের কাছে ওয়ানডে সিরিজ হাতছাড়া করলো বাংলাদেশ।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) হারারে স্পোর্টস ক্লাবে টস জিতে জিম্বাবুয়েকে প্রথমে ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ জানান টাইগার অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ। প্রথমে ব্যাট করতে নেমে স্বাগতিকদের ওপেনার বেন কুরানের দুর্দান্ত সেঞ্চুরিতে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে ২৪৭ রানের লড়াকু সংগ্রহ দাঁড় করায় জিম্বাবুয়ে।

১৩৫ বল খেলে ৯টি চারের সাহায্যে ১১১ রানের একটি ধৈর্যশীল ও কার্যকর ইনিংস খেলেন বেন কুরান। এছাড়া দলের অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার সিকান্দার রাজা ৫৩ বলে ৩৩ রান করেন। তবে শেষ দিকে বাংলাদেশের বোলারদের ওপর তাণ্ডব চালিয়ে মাত্র ৩৮ বলে ৫৮ রানের একটি অপরাজিত ঝড়ো ইনিংস খেলেন ব্রাড এভান্স, যা স্বাগতিকদের স্কোর আড়াইশর কাছাকাছি নিয়ে যায়। বাংলাদেশের পক্ষে পেসার তাসকিন আহমেদ ও অধিনায়ক মিরাজ ২টি করে উইকেট নেন।

প্রতিরোধের পর সেই চেনা ধস

২৪৮ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই বিপদে পড়ে বাংলাদেশ। দলীয় মাত্র ৩৮ রানের মধ্যে টপ অর্ডারের জোড়া উইকেট হারিয়ে ফেলে দল। ওপেনার সৌম্য সরকার ১০ বলে ৫ এবং নাজমুল হোসেন শান্ত ১৬ বলে মাত্র ৯ রান করে সাজঘরে ফিরে যান।

প্রাথমিক ধাক্কা সামাল দিতে ক্রিজে আসেন তাওহিদ হৃদয়। ওপেনার তানজিদ হাসান তামিমকে সঙ্গে নিয়ে তিনি ৮৪ রানের একটি দারুণ জুটি গড়েন। দুজনই তুলে নেন নিজ নিজ হাফসেঞ্চুরি। কিন্তু তানজিদ তামিম ৫৭ এবং তাওহিদ হৃদয় ৬০ রান করে আউট হতেই তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে বাংলাদেশের মিডল অর্ডার।

পারল না লজ্জা এড়াতে

টপ অর্ডারের বিদায়ের পর ধ্বংসস্তূপে দাঁড়িয়ে উইকেটকিপার ব্যাটার নুরুল হাসান সোহান ৩৮ ও অধিনায়ক মেহেদী মিরাজ ২৭ রান করে ম্যাচ জেতানোর আপ্রাণ লড়াই চালিয়ে যান। কিন্তু লোয়ার অর্ডারের বাকি ব্যাটারদের কাছ থেকে কোনো যোগ্য সংগত না পাওয়ায় তাদের সেই লড়াই কেবল হারের ব্যবধানই কমিয়েছে।

শেষ পর্যন্ত ৪৮ ওভার ১ বলে ২৩৪ রানে অলআউট হয় বাংলাদেশ। জিম্বাবুয়ের বাঁহাতি পেসার রিচার্ড এনগারাভা ৩টি উইকেট নিয়ে ধসিয়ে দেন বাংলাদেশের লেজ।

বাংলা৭১নিউজ/এসবি