ঢাকা ০৩:২৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬, ২৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘জাতীয় বৃক্ষরোপণ পুরস্কার’-এ প্রথম স্থান অর্জন করল কোরিয়ান ইপিজেড

পরিবেশগত স্থায়িত্ব নিশ্চিতকরণ এবং বনায়নে দৃষ্টান্তমূলক অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ কোরিয়ান ইপিজেড (কেইপিজেড) ‘জাতীয় বৃক্ষরোপণ পুরস্কার-২০২৫’-এ প্রথম স্থান অর্জন করেছে।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এর কাছ থেকে পুরস্কারটি গ্রহণ করেন ইয়াংওয়ান করপোরেশন ও কেইপিজেডের চেয়ারম্যান এবং সিইও কিহাক সাং।

কর্ণফুলী নদীর তীরবর্তী একসময়ের অনুর্বর ভূমিকে বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ পরিবেশবান্ধব বেসরকারি শিল্পাঞ্চলে রূপান্তরের ক্ষেত্রে দূরদর্শী নেতৃত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ কেইপিজেডকে এ সম্মাননা দেওয়া হয়েছে। কয়েক দশক ধরে ধারাবাহিক বনায়ন, বাস্তুতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং পরিবেশবান্ধব শিল্প উন্নয়নের মাধ্যমে কেইপিজেড এমন একটি মডেল গড়ে তুলেছে, যেখানে অর্থনৈতিক অগ্রগতি ও পরিবেশ সংরক্ষণ সমানতালে এগিয়ে চলে। টেকসই শিল্পায়নের ক্ষেত্রে জাতীয় মানদণ্ড স্থাপনের পাশাপাশি সবুজ ভবিষ্যৎ বিনির্মাণে প্রতিষ্ঠানটির দীর্ঘমেয়াদি অঙ্গীকার এই পুরস্কারের মাধ্যমে স্বীকৃতি পেয়েছে।

চট্টগ্রামের কর্ণফুলীতে ২ হাজার ৪৯২ একর অনুর্বর ভূমির ওপর গড়ে ওঠা কেইপিজেড তার মোট জমির ৫২ শতাংশ বনভূমি, বোটানিক্যাল গার্ডেন, লেক, ছোট-বড় দিঘি এবং উন্মুক্ত সবুজ এলাকা হিসেবে সংরক্ষণ করে। বাকি ৪৮ শতাংশ জমি শিল্প ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়।
১৯৯৯ সালে জমির মালিকানা গ্রহণের পর থেকে কেইপিজেড এলাকায় প্রায় ৩০ লাখের বেশি গাছ রোপণ করা হয়েছে। প্রতিবছর আরও প্রায় ২ লাখ গাছ রোপণের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা এ এলাকায় ৪০০টিরও বেশি উদ্ভিদ প্রজাতি শনাক্ত ও নথিভুক্ত করেছেন। এই বোটানিক্যাল গার্ডেনের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বনবিদ্যা ও পরিবেশ বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের সুপারনিউমারি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামাল হোসেন।

তিনি বলেন, বর্তমানে এখানে বিরল ও বিপন্ন দেশীয় প্রজাতিসহ প্রায় ১ হাজার ৪০০ প্রজাতির উদ্ভিদ রয়েছে। ২০২৭ সালের মধ্যে এ সংখ্যা ১ হাজার ৮৫০-এ উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। বাস্তবায়িত হলে এটি দেশের বৃহত্তম সংরক্ষিত বোটানিক্যাল গার্ডেনে পরিণত হবে এবং গবেষক, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও বৃক্ষপ্রেমীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ গবেষণাকেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে।

পানি সংরক্ষণ কর্মসূচির আওতায় কেইপিজেডে ৩৭টি জলাধার নির্মাণ করা হয়েছে, যেখানে ৬০০ মিলিয়ন গ্যালনেরও বেশি বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ করা সম্ভব। ভবিষ্যতে এ ধারণক্ষমতা ১ বিলিয়ন গ্যালনে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। পুনরুদ্ধার করা এই বাস্তুতন্ত্র বর্তমানে ২৯২ প্রজাতির প্রাণীর আবাসস্থলে পরিণত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ১১ প্রজাতির স্তন্যপায়ী, ১৫৯ প্রজাতির পাখি, ৯ প্রজাতির সরীসৃপ, ৭ প্রজাতির উভচর প্রাণী, ৮৬ প্রজাতির প্রজাপতি এবং ২০ প্রজাতির ড্রাগনফ্লাই ও ড্যামসেলফ্লাই।

কিহাক সাং প্রতিষ্ঠিত ইয়াংওয়ান করপোরেশন ১৯৮০ সাল থেকে বাংলাদেশে কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। পরিবেশ সংরক্ষণ, শ্রমিক কল্যাণ এবং টেকসই শিল্পায়নকে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ কৌশলের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে গ্রহণ করায় প্রতিষ্ঠানটি ব্যাপকভাবে সমাদৃত।

কেইপিজেডের উপ-মহাব্যবস্থাপক মুশফিকুর রহমান বলেন, জাতীয় বৃক্ষরোপণ পুরস্কার-২০২৫ কেইপিজেডের সেই দূরদর্শী চিন্তাধারার জাতীয় স্বীকৃতি, যেখানে শিল্প উন্নয়ন ও পরিবেশ সংরক্ষণ একে অপরের পরিপূরক হিসেবে এগিয়ে চলে। এটি বাংলাদেশে টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির একটি আদর্শ মডেল প্রতিষ্ঠার স্বীকৃতি। পরিবেশ সংরক্ষণের ক্ষেত্রে এটি দেশের অন্যতম সর্বোচ্চ জাতীয় সম্মাননা এবং বাংলাদেশের সবুজ শিল্পায়নের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।

বাংলা৭১নিউজ/জেএস

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

‘জাতীয় বৃক্ষরোপণ পুরস্কার’-এ প্রথম স্থান অর্জন করল কোরিয়ান ইপিজেড

আপডেট সময় ১১:৪১:৩১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬

পরিবেশগত স্থায়িত্ব নিশ্চিতকরণ এবং বনায়নে দৃষ্টান্তমূলক অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ কোরিয়ান ইপিজেড (কেইপিজেড) ‘জাতীয় বৃক্ষরোপণ পুরস্কার-২০২৫’-এ প্রথম স্থান অর্জন করেছে।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এর কাছ থেকে পুরস্কারটি গ্রহণ করেন ইয়াংওয়ান করপোরেশন ও কেইপিজেডের চেয়ারম্যান এবং সিইও কিহাক সাং।

কর্ণফুলী নদীর তীরবর্তী একসময়ের অনুর্বর ভূমিকে বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ পরিবেশবান্ধব বেসরকারি শিল্পাঞ্চলে রূপান্তরের ক্ষেত্রে দূরদর্শী নেতৃত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ কেইপিজেডকে এ সম্মাননা দেওয়া হয়েছে। কয়েক দশক ধরে ধারাবাহিক বনায়ন, বাস্তুতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং পরিবেশবান্ধব শিল্প উন্নয়নের মাধ্যমে কেইপিজেড এমন একটি মডেল গড়ে তুলেছে, যেখানে অর্থনৈতিক অগ্রগতি ও পরিবেশ সংরক্ষণ সমানতালে এগিয়ে চলে। টেকসই শিল্পায়নের ক্ষেত্রে জাতীয় মানদণ্ড স্থাপনের পাশাপাশি সবুজ ভবিষ্যৎ বিনির্মাণে প্রতিষ্ঠানটির দীর্ঘমেয়াদি অঙ্গীকার এই পুরস্কারের মাধ্যমে স্বীকৃতি পেয়েছে।

চট্টগ্রামের কর্ণফুলীতে ২ হাজার ৪৯২ একর অনুর্বর ভূমির ওপর গড়ে ওঠা কেইপিজেড তার মোট জমির ৫২ শতাংশ বনভূমি, বোটানিক্যাল গার্ডেন, লেক, ছোট-বড় দিঘি এবং উন্মুক্ত সবুজ এলাকা হিসেবে সংরক্ষণ করে। বাকি ৪৮ শতাংশ জমি শিল্প ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়।
১৯৯৯ সালে জমির মালিকানা গ্রহণের পর থেকে কেইপিজেড এলাকায় প্রায় ৩০ লাখের বেশি গাছ রোপণ করা হয়েছে। প্রতিবছর আরও প্রায় ২ লাখ গাছ রোপণের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা এ এলাকায় ৪০০টিরও বেশি উদ্ভিদ প্রজাতি শনাক্ত ও নথিভুক্ত করেছেন। এই বোটানিক্যাল গার্ডেনের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বনবিদ্যা ও পরিবেশ বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের সুপারনিউমারি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামাল হোসেন।

তিনি বলেন, বর্তমানে এখানে বিরল ও বিপন্ন দেশীয় প্রজাতিসহ প্রায় ১ হাজার ৪০০ প্রজাতির উদ্ভিদ রয়েছে। ২০২৭ সালের মধ্যে এ সংখ্যা ১ হাজার ৮৫০-এ উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। বাস্তবায়িত হলে এটি দেশের বৃহত্তম সংরক্ষিত বোটানিক্যাল গার্ডেনে পরিণত হবে এবং গবেষক, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও বৃক্ষপ্রেমীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ গবেষণাকেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে।

পানি সংরক্ষণ কর্মসূচির আওতায় কেইপিজেডে ৩৭টি জলাধার নির্মাণ করা হয়েছে, যেখানে ৬০০ মিলিয়ন গ্যালনেরও বেশি বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ করা সম্ভব। ভবিষ্যতে এ ধারণক্ষমতা ১ বিলিয়ন গ্যালনে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। পুনরুদ্ধার করা এই বাস্তুতন্ত্র বর্তমানে ২৯২ প্রজাতির প্রাণীর আবাসস্থলে পরিণত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ১১ প্রজাতির স্তন্যপায়ী, ১৫৯ প্রজাতির পাখি, ৯ প্রজাতির সরীসৃপ, ৭ প্রজাতির উভচর প্রাণী, ৮৬ প্রজাতির প্রজাপতি এবং ২০ প্রজাতির ড্রাগনফ্লাই ও ড্যামসেলফ্লাই।

কিহাক সাং প্রতিষ্ঠিত ইয়াংওয়ান করপোরেশন ১৯৮০ সাল থেকে বাংলাদেশে কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। পরিবেশ সংরক্ষণ, শ্রমিক কল্যাণ এবং টেকসই শিল্পায়নকে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ কৌশলের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে গ্রহণ করায় প্রতিষ্ঠানটি ব্যাপকভাবে সমাদৃত।

কেইপিজেডের উপ-মহাব্যবস্থাপক মুশফিকুর রহমান বলেন, জাতীয় বৃক্ষরোপণ পুরস্কার-২০২৫ কেইপিজেডের সেই দূরদর্শী চিন্তাধারার জাতীয় স্বীকৃতি, যেখানে শিল্প উন্নয়ন ও পরিবেশ সংরক্ষণ একে অপরের পরিপূরক হিসেবে এগিয়ে চলে। এটি বাংলাদেশে টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির একটি আদর্শ মডেল প্রতিষ্ঠার স্বীকৃতি। পরিবেশ সংরক্ষণের ক্ষেত্রে এটি দেশের অন্যতম সর্বোচ্চ জাতীয় সম্মাননা এবং বাংলাদেশের সবুজ শিল্পায়নের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।

বাংলা৭১নিউজ/জেএস