জুলাই আন্দোলনের মোহাম্মদপুরে মালবাহী ট্রাক চালক মো. হোসেনকে হত্যার অভিযোগে করা মামলায় ৩৪ আসামির বিচার শুরু হয়েছে। আজ সোমবার ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪ এর বিচারক রবিউল আলম শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।
এসময় বিচারক কাঠগড়ায় থাকা আসামিদের কাছে জানতে চান, আপনারা দোষী, না নির্দোষ? তখন সাবেক প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমদ পলক বিচারককে উদ্দেশ্য করে বলতে থাকেন, “নির্দোষ, অবশ্যই নির্দোষ এবং আমরা নিরপরাধ। আমাদের অভিযোগ প্রত্যাহার চাই।”
আদালত সূত্র জানায়, কারাবন্দী সাবেক প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক ও সাবেক এমপি সাদেক খানসহ নয়জনকে আদালতে হাজির করা হয়। এই মামলায় জামিনে থাকা দুই আসামি আদালতে হাজিরা দেন।
তবে আসামি বদিউল আলম আদালতে উপস্থিত না থাকায় তার জামিন বাতিল করে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। এছাড়া এই মামলায় শেখ হাসিনাসহ ২২ আসামি পলাতক থাকায় তারা আদালতে উপস্থিত ছিলেন না। পরে ১১ আসামির পক্ষে আইনজীবী এহসানুল হক সমাজী, ফারজানা ইয়াসমিন রাখি ও গাজী ফয়সাল ইসলামসহ একাধিক আইনজীবী অব্যাহতি চেয়ে শুনানি করেন।
শুনানিতে তারা জানান, এই মামলায় তাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ নেই।
ন্যায় বিচারের স্বার্থে তাদের অব্যাহতি প্রত্যাশা করছি। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আনিসুর রহমান অভিযোগ গঠনের পক্ষে শুনানি করেন। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত ১১ আসামির অব্যাহতির আবেদন নাকচ করে অভিযোগ গঠন করেন। একইসঙ্গে সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য আগামী ২৫ নভেম্বর দিন ধার্য করা হয়।
বিচার শুরু হওয়া আসামিরা হলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাসান মাহমুদ, সাবেক মন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাবেক প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, সাবেক সংসদ সদস্য সাদেক খান, নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালি আসিফ ইনান, আসিফ আহম্মেদ, তারেকুজ্জামান রাজিব, শেখ বজলুর রহমান, নুর মোহাম্মদ সেন্টু, তোফায়েল সিদ্দিক ওরফে তুহিন, রহমান মিয়া ওরফে এ কে এম অহিদুর রহমান, পলাশ, ওলিউর রহমান, খলিলুর রহমান, ইমন, এস এম রিয়াজুল হক তামিম, মাসুদুর রহমান বিপ্লব, আব্দুস সাত্তার ভূইয়া ওরফে এম এ সাত্তার, পারভেজ ওরফে গোলডেন পারভেজ, সুমন মিয়া ওরফে কাইল্লা সুমন, মিলন হোসেন, সোহেল ওরফে ভূইয়া সোহেল ওরফে বুনিয়া সোহেল, সলিম উল্লাহ সলু, ইরফান, মুহাম্মদ বদিউল আলম ওরফে বদিউজ্জামান, ফুরকান হোসেন, শাহজাহান খান, সাজ্জাদ হোসেন, ফারুক হোসেন অভি, নাইমুল হাসান রাসেল।
জুলাই আন্দোলনের সময় ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই ঢাকার মোহাম্মদপুরে মালবাহী ট্রাক চালক মো. হোসেন গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান। আহত হন সাজ্জাদ ও শাহিন নামে দুই ব্যক্তিও। হোসেনের মৃত্যুর ঘটনায় তার মা মোসা. রীনা বেগম ২০২৪ সালের ৩১ অগাস্ট ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১৬ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে গত বছরের ২৩ নভেম্বর মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও মোহাম্মদপুর থানার উপপরিদর্শক মো. আকরামুজ্জামান ৩৪ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন।
বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ

























