আটলান্টিক মহাসাগরের নাম নিজের বা যুক্তরাষ্ট্রের নামে পরিবর্তনের প্রস্তাব দিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে তার দাবি, প্রস্তাবটি প্রত্যাখ্যান করেছেন গুগলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) সুন্দর পিচাই।
বুধবার সাউথ ক্যারোলাইনায় এক সমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় এ কথা জানান ট্রাম্প। তিনি বলেন, আটলান্টিক মহাসাগরের নাম পরিবর্তনের বিষয়ে গুগল কী করতে পারে, তা জানতে সরাসরি পিচাইকে ফোন করেছিলেন তিনি।
ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, ফোনে তিনি সুন্দর পিচাইকে বলেন, আটলান্টিক মহাসাগরের নাম পরিবর্তনের বিষয়টি তিনি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছেন। তবে পিচাই তাকে জানান, মহাসাগরের নাম পরিবর্তনের বিষয়টি অন্য রকম। কারণ, আটলান্টিক মহাসাগর একাধিক দেশের বিস্তৃত ভূখণ্ড ও জলসীমার সঙ্গে সম্পর্কিত। তাই এ ধরনের পরিবর্তন করা সম্ভব নয়।
ট্রাম্প বলেন, পিচাই তাকে অনুরোধ করেন, যেন গুগলকে এ ধরনের পদক্ষেপ নিতে বলা না হয়। এরপর নিজের প্রস্তাব থেকে সরে আসার ইঙ্গিত দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয়, এর নাম আটলান্টিক মহাসাগরই থাক।’
এর আগে মেক্সিকো উপসাগরের নাম পরিবর্তন করে ‘গালফ অব আমেরিকা’ রাখার উদ্যোগ নিয়েছিলেন ট্রাম্প। এ জন্য তিনি একটি নির্বাহী আদেশেও স্বাক্ষর করেন। পরে গুগল ম্যাপে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবহারকারীদের জন্য নতুন নামটি দেখানো শুরু হয়।
এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মধ্যে বাণিজ্যবিরোধ চলাকালে লেক অন্টারিওর নাম পরিবর্তন করে ‘লেক আমেরিকা’ রাখার চেষ্টাও করেছিলেন ট্রাম্প। নতুন নাম ব্যবহারের জন্য মার্কিন কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলোর প্রতি নির্দেশনাও দিয়েছিলেন তিনি।
গুগল ম্যাপে নাম পরিবর্তনের ক্ষেত্রে ভৌগোলিক অবস্থান অনুযায়ী ভিন্নতা রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবহারকারীরা মেক্সিকো উপসাগরকে ‘গালফ অব আমেরিকা’ নামে দেখতে পান। অন্যদিকে মেক্সিকো ও কানাডার ব্যবহারকারীদের কাছে আগের নামই প্রদর্শিত হয়। অনুসন্ধানের ফলাফলে মূল নামের পাশাপাশি নতুন নামও বন্ধনীর মধ্যে দেখানো হয়।
ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী, আটলান্টিক মহাসাগরের নাম পরিবর্তনের প্রস্তাবে এবার সায় দেননি গুগল সিইও সুন্দর পিচাই। এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে গুগলের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান।
বাংলা৭১নিউজ/জেএস
























